তাহের হত্যায় দুই আসামির ফাঁসি যেকোনো সময়

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৩, ০২:০৭ এএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস তাহের আহমেদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির ফাঁসি যেকোনো সময় কার্যকর হতে পারে। মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির আটকাদেশকে চ্যালেঞ্জ এবং ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজের বিরুদ্ধে করা আবেদন গতকাল মঙ্গলবার খারিজ করে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। ফলে এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আর কোনো বাধা থাকছে না।

গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ আদেশ দেয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এন গোস্বামী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রাবির ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও ড. তাহেরের বাড়ির কেয়ারটেকার মো. জাহাঙ্গীর আলম। গতকাল এ নিয়ে দিনভর নানান প্রক্রিয়া চলেছে কারাগারে। এদিন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের স্বজনরা কারাগারের ভেতরে গিয়ে দেখাও করেন।

অধ্যাপক তাহের হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর আলমের পরিবারের সদস্যরা গতকাল দুপুরে শেষবারের মতো জাহাঙ্গীরের সঙ্গে দেখা করেন। দুপুর ১টার দিকে জাহাঙ্গীর আলমের পরিবারের ৩৫ জন সদস্য কারাগারে প্রবেশ করেন। বিকেল ৪টার কিছুক্ষণ আগে তারা কারাগার থেকে বের হন। কারাগার থেকে বেরিয়ে জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই মিজানুর রহমান বলেন, তার বাবা আজিম উদ্দিনসহ ৩৫ জন শেষ দেখা করতে এসেছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের দেখা করার সুযোগ দিয়েছেন। গত রবিবার কারা কর্তৃপক্ষ দেখা করার জন্য তাদের চিঠি দিয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ফাঁসি কার্যকর বিষয়ে আলোচনা করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গতকাল বেলা সকালে সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহম্মেদ, সিভিল সার্জন আবু সাঈদ মো. ফারুক, ডিআইজি প্রিজন কামাল হোসেনসহ কারাগারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে মিটিং করেন।

কারাসূত্র জানিয়েছে, ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও মো. জাহাঙ্গীর আলমের ফাঁসি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। প্রস্তুত রাখা হয়েছে পাঁচজন জল্লাদ ও লাশবাহী গাড়ি।

২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রাবির শিক্ষক কোয়ার্টারের ম্যানহোল থেকে উদ্ধার করা হয় অধ্যাপক তাহেরের মরদেহ। পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিষয়ের জের ধরে নৃশংস হত্যার শিকার হন তিনি। ৩ ফেব্রুয়ারি নিহত অধ্যাপক তাহেরের ছেলে সানজিদ আলভি আহমেদ রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

এ মামলায় ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয় পুলিশ। বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহীর দ্রুত বিচার আদালত চারজনকে ফাঁসির আদেশ ও দুজনকে খালাস দেয়।

২০০৮ সালে বিচারিক আদালতের রায়ের পর নিয়ম অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণ) হাইকোর্টে যায়। পাশাপাশি আসামিরা আপিল করেন। শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ২১ এপ্রিল অধ্যাপক ড. এস তাহের হত্যা মামলায় দুই আসামির ফাঁসির দণ্ডাদেশ বহাল এবং অন্য দুই আসামির দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয় হাইকোর্ট।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া দুই আসামি হলেন নাজমুল আলম ও আবদুস সালাম। চারজনই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। তবে তা নাকচ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপরই ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু করে রাজশাহী কারা কর্তৃপক্ষ।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত