তুলে নিয়ে রোহিঙ্গাকে পিটিয়ে হত্যা করল আরসা সন্ত্রাসীরা

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৩, ০১:৫৯ এএম

কক্সবাজারে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের ঘর থেকে তুলে নিয়ে চোখ উপড়ে ও পিটিয়ে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) লোকজন। চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জের ধরে গতকাল বুধবার সকালে কুতুপালং ২-ইস্ট আশ্রয় শিবিরের ব্রিজের নিচে এ হত্যাকা- ঘটে। এপিবিএন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. ইসহাক (৪৮)। তিনি বালুখালী ৭ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের এ-১ ব্লকের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে।

রোহিঙ্গারা জানান, ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত বাজার ও যানবাহন থেকে একসময় চাঁদা তুলত আরসার সমর্থক হাসান মাঝি। এ নিয়ে কিছুদিন আগে বাজারে হাসান মাঝিকে মারধর করে মো. ইসহাক ও তার লোকজন। এর জের ধরে গতকাল ইসহাককে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায় হাসান মাঝি ও তার সহযোগীরা।

রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মো. আমির জাফর বলেন, ভোরে ৭ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের এ-১ ব্লকের নিজের ঘর থেকে ইসহাককে আরসা সন্ত্রাসীরা তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে কুতুপালং ২-ইস্ট আশ্রয় শিবিরের ব্রিজের নিচে নিয়ে হত্যা করে ফেলে যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে এপিবিএন।

তিনি আরও বলেন, ইসহাকের চোখ উপড়ে ফেলার পাশাপাশি হাত ও পেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এপিবিএন অধিনায়ক বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আরসা সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। তারপরও ঘটনার কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছে। এই ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের মাধ্যমে উখিয়া থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

উখিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আলী বলেন, ক্যাম্পে একটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ওই ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছেন তিনি। এজাহার পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত