এক নম্বর পটে ছিল ১০টি দল। ড্রয়ের ভাগ্য পরীক্ষায় হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, মিয়ানমার, চাইনিজ তাইপের মতো দল প্রতিপক্ষ হিসেবে পড়তে পারত। আবার চেনা প্রতিপক্ষ নেপাল ও কম্বোডিয়ার নামও উঠতে পারত বাংলাদেশের বিপক্ষে। তাদের কারও নাম না উঠে উঠল মালদ্বীপের নাম। যাদের গত মাসেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ৩-১ গোলে হারিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস কুড়িয়ে শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে নাম লিখিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই মালদ্বীপের বিপক্ষেই ১২ ও ১৭ অক্টোবর দিতে হবে অগ্নিপরীক্ষা। ২০২৬ বিশ্বকাপ ও ২০২৭ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের প্রিলিমিনারি রাউন্ডে প্রতিপক্ষ হিসেবে মালদ্বীপকে পেয়ে অবশ্য খুশি বাংলাদেশের ফুটবলাররা। চেনা প্রতিপক্ষকে হারিয়ে গ্রুপপর্বের টিকিট পেতে বদ্ধপরিকর জামাল ভূঁইয়া, রাকিব হোসেনরা।
গতকাল মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয় ড্র অনুষ্ঠান। যার দিকে দৃষ্টি ছিল এএফসির র্যাংকিংয়ের নিচের সারির ২০টি দলের। দুটি পটে ভাগ করা হয়েছিল আগেই। দেখার বিষয় ছিল র্যাংকিংয়ের ১৮৯তম স্থানে থাকা বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কে হবে। তবে এটা জানা ছিল র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা কোনো দলের বিপক্ষেই খেলতে হবে তাদের। ১৫৫তম স্থানে থাকা মালদ্বীপ ছিল এক নম্বর পটে। আর বাংলাদেশ দুই নম্বরে। ড্রয়ের শুরুতেই আফগানিস্তান প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় মঙ্গোলিয়াকে। এরপর এক নম্বর পট থেকে ওঠে মালদ্বীপের নাম। প্রতিপক্ষ হিসেবে এএফসি কর্তা বাংলাদেশের নাম তোলেন।
এএফসির ৪৫টি সদস্য দেশ অংশ নেবে এই যৌথ বাছাইয়ে। তবে নিচের সারির ২০টি দলকে প্রাক-বাছাই পেরিয়ে আসতে হবে দ্বিতীয় পর্ব অর্থাৎ গ্রুপপর্বে। প্রাক-বাছাই হবে দুই লেগে। ১২ অক্টোবর প্রথম লেগের ম্যাচটি বাংলাদেশকে খেলতে হবে মালদ্বীপের মাটিতে। এরপর ১৭ অক্টোবর দেশের মাটিতে হবে দ্বিতীয় লেগ। এই দুই লেগে জিতলেই মিলবে গ্রুপপর্বের ছাড়পত্র। প্রাক-বাছাই পেরিয়ে দ্বিতীয় পর্বে উঠলে বাংলাদেশ আরও ৬টি ম্যাচ পাবে। দ্বিতীয় রাউন্ডের সেই ড্রও অনুষ্ঠিত হয়েছে কাল। ৩৬ দল নিয়ে হবে দ্বিতীয়পর্ব। বাংলাদেশ প্রাক-বাছাই জিতলে খেলবে আই গ্রুপে। যেখানে তাদের সঙ্গী হবে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া, ফিলিস্তিন ও লেবানন।
মালদ্বীপ বাংলাদেশের জন্য ভীষণ চেনা প্রতিপক্ষ। সর্বশেষ দুদলের দেখা হয়েছিল গত মাসে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। অতীতে মালদ্বীপকে বাংলাদেশ হেসেখেলে হারালেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপ দেশটি বাংলাদেশের প্রবল প্রতিপক্ষ। বিশেষ করে মালদ্বীপকে তাদের মাটিতে কখনই হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। মালেতে গিয়ে চারটি ম্যাচ খেলে তিনটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ গত বছর ফিফা প্রীতি ম্যাচে হারতে হয়েছিল ২-০ গোলে। তবে দুদলের শেষ তিন ম্যাচের মুখোমুখি লড়াইয়ে আশাবাদী হতে পারেন হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা। যার দুটিতেই যে জিতেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে সাফের জয়টাকেই বড় করে দেখছেন দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তার মতে প্রাক-বাছাইপর্বে ‘ভালো’ প্রতিপক্ষ পেয়েছে বাংলাদেশ, ‘বাংলাদেশ বনাম মালদ্বীপ- আমি মনে করি আমাদের জন্য বিষয়টা ভালো হয়েছে। কারণ যে পোল ছিল সেখানে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ছিল। মালদ্বীপের প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই বাংলাদেশের জন্য এটা একটা ভালো ড্র হয়েছে। কারণ সাফে মালদ্বীপকে আমরা হারিয়েছি। ফলে আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে আমরা এগিয়ে থাকব। কিন্তু বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে আমরা প্রস্তুত।’
সাফের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরুতে হামজা মোহাম্মদের গোলে পিছিয়ে পড়তে হয় বাংলাদেশকে। তবে গোল খেয়ে জেগে ওঠা বাংলাদেশ রাকিব হোসেনের অসাধারণ গোলে সমতায় ফেরে। পরে তারিক কাজী ও শেখ মোরসালিন একটি করে গোল করে বাংলাদেশকে দারুণ একটা জয়ের উপলক্ষ এনে দেন। পুরো সাফ অসাধারণ ফুটবল খেলা রাকিব হোসেনও খুশি প্রতিপক্ষ হিসেবে মালদ্বীপকে পেয়ে। কাল সকাল থেকেই প্রতিপক্ষ কে হবে জানতে অন্য সতীর্থদের মতো উৎসুক হয়ে ছিলেন রাকিব। ক্লাবমেটদের সঙ্গে বসে লাইভ ড্র অনুষ্ঠানও দেখেছেন। এরপর জানালেন, ‘বাছাইয়ে অবশ্যই মালদ্বীপ আমাদের জন্য ভালো প্রতিপক্ষ। কারণ তাদের সম্পর্কে আমরা জানি। ওদের পটে অন্য যারা ছিল, তারা আরও শক্তিশালী। অনেক দল সম্পর্কে আমাদের সেভাবে জানাশোনা ছিল না। মালদ্বীপকে ভালো জানি বলেই প্রতিপক্ষ হিসেবে তাদের পেয়ে আমার ভালো লাগছে। কারণ ওদের সঙ্গে পিছিয়ে পড়েও কিন্তু সাফে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলাম। সেটা বাছাইপর্বে অনেক বড় শক্তি জোগাবে আমাদের।’
হাভিয়ের কাবরেরা এখন ছুটি কাটাতে নিজ দেশ স্পেনে আছেন। তার সহকারী হাসান আল মামুনও মনে করেন তাদের জন্য মালদ্বীপকে নিয়ে পরিকল্পনা করাটা সহজ হবে, ‘মালদ্বীপ অবশ্যই কঠিন প্রতিপক্ষ। তবে সাফের জয়টা আমাদের বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে।’ মালেতে প্রথম ম্যাচটা কঠিন হবে জানিয়ে মামুন বলেন, ‘ওখানে খেলাটা একটু কঠিন। কারণ ওরা আমাদের বাংলাদেশি দর্শকদের মাঠে ঢুকতে দেয় না। এই বিষয়টা অবশ্যই এএফসির দেখা উচিত। আমরা সেখান থেকে যদি পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারি তবে দেশে জিতে যাব।’
প্রাক-বাছাইকে সামনে রেখে মধ্য আগস্টে ক্যাম্প শুরুর কথা রয়েছে কাবরেরার।
