সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার দারুণ কথা বলেছেন, ‘খোলা ট্রফি নিয়ে উৎসব করতে চাই।’ এর কারণ কাল তিনি যখন বিশ্বকাপ ট্রফি দেখতে এলেন ততক্ষণে বস্তুটি চতুষ্কোণ কাচের ভেতরে। চারপাশে নিরাপত্তারক্ষী। হাত দেওয়ায় বাধা। এর আগে ক্রিকেটারদের হাতে উঠে ট্রফি ফটোসেশন করেও এসেছে। কিন্তু সেসব কেবল আইসিসি নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা। তা তো আর মনখোলা উৎসব নয়। হাবিবুল বাশার মনখোলা উৎসবের কথা বুঝিয়েছেন, যেদিন ট্রফি ধরায় কোনো বাধা থাকবে না, নিজেদের করে নেওয়ায় কোনো যতি থাকবে না। ২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অধিনায়ক বোঝাতে চাইলেন বিশ্বকাপ জিতে ওই ট্রফি নিয়ে উৎসব করার কথা।
আগেরদিন পদ্মা সেতুর কাছে আইকনিক ছবির অংশ হওয়া বিশ্বকাপ ট্রফি কাল এসেছিল মিরপুরে। বাংলাদেশের হোম অব ক্রিকেট আলো করে রাখলেই একটি বিষয় দৃষ্টি কাড়ল। ট্রফির স্ট্যান্ডে এখনো লাগানো ২০১৫ বিশ্বকাপের লোগো। তার মানে রেপ্লিকা ট্রফি। তবুও, বিশ্বকাপ ট্রফি তো। আর এমনিতেও বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর সব সময় রেপ্লিকা ট্রফি দিয়েই হয় নিরাপত্তাজনিত কারণে।
এই রেপ্লিকা ট্রফিও আমেজ ছড়িয়ে যেতে যথেষ্ট। যে আমেজের খুশি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে মুশফিকুর রহিমের মুখে। এর কারণও আছে। ক্যারিয়ারে কখনই ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক নিজ দলের হয়ে ট্রফি জেতার আনন্দ পাননি ২০০৪ থেকে জাতীয় দলের অবিচ্ছেদ অঙ্গ হয়ে ওঠা এই ব্যাটসম্যান। দলের হয়ে ট্রফি জেতা না হোক। বিশ্বকাপ ট্রফি সবার আগে হাতে নিয়েছেন আজ তিনি। মিরপুর স্টেডিয়ামে ড্রেসিংরুম থেকে তার হাতে করেই বিশ্বকাপ ট্রফি এসেছে ক্রিকেটারদের মধ্যে। মাঠের উত্তর প্রান্তে রাখা পোডিয়ামে নিজ হাতে নিয়ে এসে ট্রফি রাখেন মুশফিক। এরপর একে একে ক্রিকেটাররা স্বপ্নের বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে দেখেন, চুমু খান।
ট্রফি ছোঁয়ার অনুভূতি জানানোর পাশাপাশি দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ক্রিকেটার জানালেন এই বিশ্বকাপে বিশেষ কিছু অর্জনের প্রত্যয়, ‘কাগজে কলমে যতই ভালো হই না কেন নির্দিষ্ট দিনে যারা ভালো করবে তারা জিতবে। আর অভিজ্ঞতার ব্যাপারটা যেটা তা হলো আমি অনেক ভাগ্যবান যে গত চারটা বিশ্বকাপ আমি খেলেছি যদি এ বছরই আমি খেলে থাকি তাহলে অবশ্যই চাইব যেন গত চার বিশ্বকাপের চেয়েও বেশি ভালো ফল করতে পারি। সেই বিশ্বাস আছে কিন্তু সব নির্ভর করবে নির্দিষ্ট দিনে আমরা কত ভালো করতে পারি। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা যেন ভালোমতো শুরু করতে পারি। আর যেহেতু একটা অভিজ্ঞ দল এবং ধারাবাহিক ভালো ক্রিকেট গত চার-পাঁচ বছর খেলছি তো আশা করাই যায় অনেক স্পেশাল কিছু একটা ফল যেন করতে পারি।’
সেই সঙ্গে মুশফিক এবারের বিশ্বকাপকে তরুণদের জন্যও বিশাল উপলক্ষ হিসেবে দেখছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় এটা অবশ্যই তাদের জন্য বিশাল একটু সুযোগ। তারা গত দুই বছর যেভাবে ভালো খেলেছে এরকম বড় মঞ্চে খেলতে পারেনি। তো এই একটা স্টেজ যেখানে তারা আরও ভালো পারফরম্যান্স করতে পারে। আর এই পারফরম্যান্সটা যদি ধরে রাখতে পারে তো যেরকম বললেন যে পারফরম্যান্স তারা ধরে রাখছে গত দুই বছর ইনশাআল্লাহ তাদের পারফরম্যান্সে আমাদের এবারের রেজাল্ট অনেক ভালো হবে।’
দিনের শুরুতে জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা ক্রিকেটাররা স্টেডিয়ামের উত্তর প্রান্তে তৈরি পোডিয়ামে এসে ট্রফি সামনে থেকে দেখলেন। তখন সবার ছবি তোলার পালা। ক্যাম্পে সবশেষ যুব বিশ্বকাপ জিতে আসা ক্রিকেটাররা দেখলেন বড়দের বিশ্বকাপ ট্রফি কেমন। হাতে নিয়ে দেখলেন, জেতার স্বপ্ন রাখলেন। ক্রিকেটারদের ছবি তোলার পর্বশেষে ট্রফি নিয়ে যাওয়া হয় মাঠের মাঝখানে উইকেটের ওপর। ওখানে শুরুতে ফটো-ভিডিও করা হয় আইসিসির জন্য। পরে ছবি তোলেন মাঠকর্মীরা। এরপর ট্রফি আনা হয় মিডিয়া জোনে, সাংবাদিকদের ছবি তোলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। এখানে ছিলেন বিকেএসপি থেকে আসা খুদে ক্রীড়াবিদরা। তারাও ট্রফির সঙ্গে ছবি তুলে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বুনে রাখলেন মনে।
একটু বেলা করেই ট্রফি দেখতে আসা হাবিবুল বাশার বললেন, ‘ট্রফিটা ছুঁয়ে ধরতে পেরে খুব ভালো লাগছে, একটা স্বপ্ন তো থাকেই। যদি খোলা ট্রফিটা ধরতে পারতাম জেতার পরে, তাহলে আরও ভালো লাগবে। একটু রোমাঞ্চ অনুভব করছি, আমাদের জন্য বিশ্বকাপ মনে হচ্ছে আজ শুরু হয়ে গেল। প্রতিটা বিশ্বকাপ আসে আশা নিয়ে, দিন-দিন আশা বাড়ছে। আশা প্রতিবারই পরিবর্তন হচ্ছে, আর এবারের আশাটা শুধু আমার নয়, সবারই একটু বেশি। কারণ, গত দু’বছর ধরে খুব ভালো খেলছি আমরা ৫০ ওভারের সংস্করণে।’
হাবিবুল বাশার চলে যাওয়ার পর আসে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। নিগার সুলতানা জ্যোতি, সালমা খাতুনরা দলীয়ভাবে ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলেন। মঙ্গলবার দুপুর অবধি মিরপুরে থাকার পর ট্রফি আবারও চলে যায় হোটেলে। আজ বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে ট্রফি। কোনো টিকিট ছাড়াই ছবি তুলতে পারবেন দর্শকরা।
