বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৩, ০৬:৫৯ পিএম

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই উন্নতির দিকে বলে আজ বুধবার পৌনে ৬টার দিকে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ।

তিনি জানান, গতকাল মঙ্গলবার থেকে কমে গেছে বৃষ্টি। বুধবার সকাল থেকে মাতামুহুরি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সাঙ্গু নদীর পানি বুধবার দুপুর পর্যন্ত বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছিল। বৃষ্টি পুরোপুরি বন্ধ হলে বুধবার রাত থেকে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে চলে আসবে।

এদিকে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার সঙ্গে বান্দরবানের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বুধবার বিকেল পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) সকাল থেকে সারা দেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সার্বিক পরিস্থিতি উন্নতির দিকে বলে জানিয়ে জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ জানান, বুধবার পর্যন্ত পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে ৮জন নিহত হয়েছেন। প্রায় ২২ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। পাহাড় ধসে প্রায় ৪৫০টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লামা উপজেলা। সেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পানিতে প্লাবিত হয়েছে। খাদ্য গুদামও প্লাবিত হয়েছে। চেষ্টা চলছে যত দ্রুত সম্ভব ত্রাণ সামগ্রীসহ অন্যান্য সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার। সেনাবাহিনীর সদস্যরা মানবিক সহায়তা ও উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, গত ৬দিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যার পানিতে বান্দরবান শহরসহ সাত উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বন্যার পানি সড়কের ওপর ওঠায় রবিবার সকাল থেকে বুধবার পর্যন্ত বান্দরবান থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজারে দূর পাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি।

জেলা শহর থেকে রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গত রবিবার রাত থেকে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ মোবাইল ফোন। জেলার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র প্লাবিত হওয়ায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ছাড়া বাকি ছয়টি উপজেলা বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে।

উদ্বেগ-আতঙ্ক কাটছে সাতকানিয়া-চন্দনাইশে

উদ্বেগ-আতঙ্কের কয়েকরাত কাটিয়ে সাতকানিয়া ও চন্দনাইশে ধীর গতিতে কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। গতকাল মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাত থেকে পানি কমতে শুরু করে। কেরানিহাট-বান্দরবান সড়ক ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ডুবে যাওয়া একাধিক স্থানে পানি কমছে। তবে, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।

সোমবার (৭ আগস্ট) রাত ১০টা থেকে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। সাতকানিয়ার চরতীতে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় নৌকাডুবিতে নারী ও শিশুসহ চারজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাস বলেন, সব ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা বন্যা কবলিত। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পানি বন্দি মানুষ উদ্ধার এবং তাদের কাছে শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিন বলেন, জান-মালের ক্ষতি এড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

গত শুক্রবার (৪ আগস্ট) থেকে টানা বর্ষণের ফলে সাতকানিয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে থাকে। পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকে বন্যা কবলিত মানুষের সংখ্যা। সর্বশেষ গত সোমবার সকাল থেকে ভারী বর্ষণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া শঙ্খ নদী, ডলু নদী ও হাঙ্গর খালের বাঁধ ভেঙে সাতকানিয়া পৌর সদরের উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা কার্যালয়, সাতকানিয়া থানা, সাতকানিয়া উপজেলা ভূমি কার্যালয়, ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়, সাতকানিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে বন্যার পানি প্রবেশ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত