বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা চারদিক। মাঝে একটা ফাঁকা জায়গায় রাখা বিশ্বকাপের ট্রফি। দূর থেকে সহজে দেখা যায় না। কাছে গেলে তবেই ভালো করে দেখা মেলে। তবে সাধারণ দর্শনার্থীরা সেসব গায়েই মাখলেন না। টাইগারদের কাছে বিশ্বকাপ জেতাটা যেমন স্বপ্ন, তেমনি সমর্থকদের কাছে ট্রফিটা স্বচক্ষে দেখা। আর সেটা যখন বাংলাদেশে, তখন একবার না দেখলে যে আক্ষেপ থেকে যাবে আজীবন। তাই তো কেউ কেউ চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে স্বপ্নের পাশে দাঁড়ালেন তারা।
তাদেরই একজন সৌরভ হায়াত ইমন। রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তিনি। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন স্বপ্নের ট্রফিটা দেখতে। এজন্য তাকে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে চার ঘণ্টা।
দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে সৌরভ বলেন, ‘সকাল ১১টায় এসেছিলাম আমরা চার বন্ধু। এসে দেখি বিশাল লাইন। চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অবশেষে আমাদের স্বপ্নের বিশ্বকাপ ট্রফির কাছাকাছি আসতে পারলাম। অনেক আনন্দ হচ্ছে, এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। চোখের সামনে দেখা ট্রফিটা যেন পাকাপাকিভাবে আমাদের হয়ে যায়, সেটাই প্রত্যাশা।’
ট্রফি ট্যুরের অংশ হিসেবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ট্রফির বাংলাদেশ ভ্রমণের গতকাল ছিল শেষ দিন। তাই রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে সকাল থেকেই সেটা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় ভক্তদের জন্য। সেটা দেখতে সহস্র মানুষ ভিড় জমান সেখানে। খুদে ক্রিকেটভক্তরাও সেখানে ভিড় করেছিলেন। পরনে ছিল লাল-সবুজের টি-শার্ট, হাতে জাতীয় পতাকার মতো প্লে-কার্ড।
ট্রফিকে ঘিরে সবার মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। সেটার মাত্রা বাড়াতে অতীতে বিশ্বকাপ নিয়ে প্রকাশিত গানগুলো বাজানো হচ্ছিল। খুদে ভক্তরা সেই গানের সঙ্গে গলা ফাটিয়ে উল্লাস করছিলেন। কারণ তাদের চোখের সামনেই রাখা ছিল ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ট্রফি।
সেই ট্রফিটা বন্দি ছিল যেখানে, সেখানে ছোট একটু জায়গা রাখা হয়, যেখানে দাঁড়িয়ে সাধারণ দর্শনার্থীরা ট্রফির সঙ্গে ছবি তুলছিলেন। কিন্তু জায়গা ছোট বা বড় সেটা ক্রিকেটভক্তদের কারও মাথায়ই আসেনি। তারা আনন্দিত ও খুশি স্বপ্নের ট্রফিটা নিজের চোখে দেখতে পেরেছেন বলে। বাড়ির কাছে বিশ্বকাপ ট্রফি এসেছে, সেটার দেখা মিলবে না, তা আবার হয় নাকি!
সেজন্য অসুস্থ শরীর নিয়ে জাকারিয়া হাসান নামের এক স্কুলছাত্র ছুটে এলো বসুন্ধরায়। আলাপকালে বলল, ‘কাল (পরশু) থেকে অসুস্থ। জ্বর-মাথাব্যথা নিয়ে বাসায় ছিলাম। আজ ফেসবুকে দেখলাম বিশ্বকাপের ট্রফি এখানে। তাই দেখতে ছুটে এলাম। বাসার এত কাছে সেটা না দেখলে আজীবন আফসোস থেকে যাবে।’
জাকারিয়ার সঙ্গে এসেছে তার বন্ধু মিরাজ হাসান। সেও এবার দশম শ্রেণিতে পড়ছে। সেই ছোটবেলা থেকে টিভিতে দেখা ট্রফিটা এবার চোখের সামনে! অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলল, ‘এটা এবার চোখের সামনে দেখছি, যা আমি সেই ছোটবেলা থেকে টিভিতেই দেখতাম। খুব করে চাই এ ট্রফিটা এবার বাংলাদেশই জিতুক।’
২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিপ্লব আসে। সে বছর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে। ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল খেলেছিল টাইগাররা। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার নেতৃত্বে সেই দলকে ২০১৯ সালেও শেষ চারে দেখতে চেয়েছিলেন ক্রিকেটভক্তরা। তবে সে আশা পূরণ হয়নি। ভক্তদের প্রত্যাশা এবার পূরণ হবে সে আশা। যদিও বিশ্বকাপ শুরুর আগে তামিম ইকবাল নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ায় অধিনায়ক শূন্য দেশের ক্রিকেট।
তবে ট্রফি দেখতে আশা ভক্তদের প্রত্যাশা সাকিব আল হাসানের হাত ধরে এবার বিশ্বকাপ জিতবে টাইগাররা। সমর্থকদের কেউ কেউ আবার আবেগে না ভেসে বাস্তবেই আছেন। তাদের একজন মেহেদী হাসান বলেন, ‘এবার প্রত্যাশা আমাদের একটু বেশি। অন্তত সেমিফাইনাল খেলার আশা আমাদের।’ চ্যাম্পিয়ন কেন নয়? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নাহ ভাই! এটা স্বপ্ন হলেও বাস্তবে ধরা দেওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না। তবে সেমিফাইনাল না খেলাটা হবে হতাশার।’
