ন্যাটোর সাদা হাতি জাপান সাগরে

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৩, ১০:২১ পিএম

‘ইউরোপা নো লংগার এক্সিস্টস’ শিরোনামের নিবন্ধে পিয়েরো মেসিনা লিখেছেন ইউরোপ আর ‘জীবিত’ নেই ইউরোপ কার্যত আর বিরাজমান নয়। একটা চ্যুতিরেখা ইউরোপীয় মানসে ক্রিয়াশীল; যে রেখা ইউরোপ নামের পুরনো মহাদেশের বিলীয়মানতার নির্দেশক। রেখাটি ইউক্রেনের বাখমুত (আর্চেমভ্স্ক) এবং ফ্রান্সের নঁতেরেকে এক মরমি সুতায় গেঁথেছে। ইউরোপ তথা ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার স্বকীয়তা হারিয়েছে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির ২৪ (যেদিন ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানের শুরু)। সেদিন বিশে^র ভূ-রাজনীতির নিশ্চায়ক পরিবর্তনেরও শুরু। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছিল নাৎসি জার্মানির পতনের মধ্য দিয়ে। তারপরও পশ্চিম ইউরোপের প্রায় সর্বত্র নাৎসিবাদের ভূত ক্রিয়াশীল ছিল, ইতালিতে মুসোলিনির প্রেতাত্মা জীবিত ছিল এবং জার্মানিতে হিটলারের ছায়াশরীর ক্রিয়ারত ও ক্রীড়ারত ছিল। মার্শাল প্ল্যানের সঞ্জীবনী সুধায় তা ক্রমশ সঞ্জীবক প্রণোদক উজ্জীবক সত্তা হয়ে জাগ্রত ছিল। নঁতেরেতে জাতীয়তাবাদী হাইপাররিয়েলিস্টিক হাওয়ায় তা দোলায়মান ছিল আর বাখমুতে তা নব্য নাৎসিবাদে স্তেপান বান্দেরার গুণমুগ্ধ হয়ে প্রাণিত ছিল। ওল্ড ইউরোপ বা পুরনো ইউরোপ ছিল ‘পেরিফেরি অব দ্য অ্যামেরিকান এম্পায়ার’। সে ইউরোপের আসলেই বিদ্যমানতা নেই ইউরোপা নো লংগার এক্সিস্টস।

নঁতেরেতে নাহেল মারজুক নামের ১৭ বছরের এক মরোক্কীয়-আলজেরীয় বংশোদ্ভূত ফরাসি তরুণ (অভিবাসী বলাই ফরাসি সমাজের জন্য জুতসই) পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিল। আর তাতে জ্বলে উঠেছিল ফ্রান্সের সব পশ্চিম আফ্রিকীয় আরব অভিবাসী। বাস্তিল দুর্গ আবার কেঁপে উঠেছিল। জার্মান ডানপম্পি’ দল এএফডি বা অল্টারনেটিভ ফুর ডয়েচল্যান্ট এ বিষয়টিকেই একটু ভদ্রস্থভাবে বলেছে, ‘দ্য ইইউ ইজ আ ফেইল্ড প্রজেক্ট’। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন, জলবায়ু ও মুদ্রানীতি পুরো ব্যর্থ। তারা ইইউকে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতে মনোযোগ দিতে বলেছে। ইইউকে ফেডারেশন অব ইউরোপিয়ান ন্যাশনসে পরিবর্তিত করতেও বলেছে তারা। ইউরোপা আসলেই মৃত। ইউরোপের অকার্যকর হওয়ার সঙ্গে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন তথা ন্যাটোও অকার্যকর হয়েছে; প্রথম দফায় ১৯৯০ সালে, সোভিয়েত ইউয়িনের বিলুপ্তির দিনে যে কারণে ন্যাটোর জন্ম হয়েছিল সেটি আর যৌক্তিক ছিল না; দ্বিতীয় দফায় ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানের দিনে; তৃতীয় ও চূড়ান্ত দফায় অকার্যকর হয়েছে লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিউসে জুলাইয়ের ১১-১২ তারিখে, ন্যাটোর ‘আখেরি’ সম্মেলনে। প্রাজ্ঞজনদের বিবেচনা তা-ই। বিশ্বটা বদলাচ্ছে এবং ন্যাটো জাপানের সাগরজলে ঝাঁপ দিয়েছে পুনর্জনমের আশায় তাইওয়ানের ‘যোগিনী’-পরশে।

ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিআক্রমণে সুবিধা করতে পারছে না। একথা পুরনো হয়ে গেছে। জুন পর্যন্ত কাউন্টার অফেনসিভে ২৬ হাজারের বেশি ইউক্রেনি বা ইউক্রেনের পক্ষে লড়াই করে বিদেশি ভাড়াটে সৈন্য মারা গেছে। নিহত মার্সিনারির সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। আর জুলাই মাসেই নিহত হয়েছে প্রায় ২১ হাজার ইউক্রেনি সৈন্য। জেলেনস্কি ও তার অন্তর্চক্রও ক্ষয়ক্ষতির হিসাবটা জানে। তারা হতাশ, যদিও তাদের চোখেমুখে সান্ত¡নার আভাস। বীরত্ব প্রদর্শনে কাউন্টার অফেনসিভ থেকে ইউক্রেন সন্ত্রাসী হামলায় নজর দিয়েছে। তারা রাশিয়ায় ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ইঙ্গ-মার্কিন পক্ষও ইউক্রেনের পারপরমেন্সে নাখোশ। তবে ব্রিটিশ মেরিন কমান্ডোরা ইউক্রেনের স্পেশাল ফোর্সকে নিবিড় প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ক্রিমিয়া দখলের জন্য। ন্যাটোর গেম অব থ্রোনসের খেলা থামেনি। এ খেলায় কে জেতাবে তাদের? ইউক্রেনের বধ্যভূমিতে ন্যাটোর সবই ডুবেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের ৫ আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জেলেনস্কি ফিয়ার্স পিস প্রেশার ফ্রম ওয়েস্ট। পাশ্চাত্যের মধুলোভীরা সুযোগ পেলেই কিয়েভকে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসার জন্য চাপ দেবে। একথা জেলেনস্কি তার কূটনীতিকদের বলেছেন। কাউন্টার অভিযানটি জুতসই হচ্ছে না, যদিও মাঝেমাঝেই রাশিয়ায়, মস্কোতে ড্রোন এবং কদাচিৎ হাইমার্স ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন এটা যে বড় একটা খবর তা পাশ্চাত্যের মূলধারার গণমাধ্যম তথা প্রেস্টিটিউট (শব্দটির উদ্গাতা লিবারটারিয়ান কনজারভেটিভ ও রিগ্যান আমলের মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পল রবার্ট ক্রেইগস) ফলাও করে ছাপছে। যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্শাল প্ল্যানের আওতায় পশ্চিম ইউরোপের জন্য যে পরিমাণ খরচ করেছিল ইউক্রেনের জন্য তার চেয়ে বেশি খরচ করবে বলে মার্কিনি পক্ষই বলছে।

সে যা-ই হোক, রাশিয়ার সঙ্গে কী শর্তে বোঝাপড়া করা যায় সে চিন্তা করেছে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র। শিগগির আলোচনা শুরু হতে পারে বলে ইউক্রেনি প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দপ্তরের প্রধান আন্দ্রিয়ি ইয়ারমাক বলেছেন। ইউক্রেন সিকিউরিটি গ্যারান্টি বিষয়ক চুক্তি নিয়ে কথা বলবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। এসব গ্যারান্টি কার্যকর থাকবে ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ না দেওয়া পর্যন্ত। ইয়ারমাকের মতে এতে প্রতিরক্ষার ও আর্থিক সহায়তার নিশ্চয়তাও থাকবে। রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যেই এ আলোচনা হবে। প্রসঙ্গটি উঠেছিল লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিউসে জুলাইয়ের ১১-১২ তারিখে, ন্যাটো সম্মেলনে। ইউক্রেনের সমর্থনে ন্যাটো কী করবে তা-ই ছিল আলোচনার বড় বিষয়। ন্যাটো মহাসচিব হ্যানস স্টলটেনবার্গ ভিলনিউসে ইউক্রেন-ন্যাটো কাউন্সিল গঠনের ঘোষণা দেন, যাকে চলমান বাস্তবতায় ফাঁকা আওয়াজই বলা চলে। ইউক্রেনের কাউন্টার অফেনসিভ ন্যাটোর বা যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের সার্বিক তত্ত্বাবধানেই হচ্ছে। ইউক্রেনের একক সিদ্ধান্তে হচ্ছে না। আর তাতে ন্যাটোকে সজীব সত্তা মনে হচ্ছে না। পৌরাণিক ইউরোপার অস্তিত্বহীনতার মতো ন্যাটোও কার্যত চলৎশক্তিহীন। তবু তার ক্ষতিকর প্রভাব-বলয় এখনো বিদ্যমান। ইউক্রেনের জন্য ন্যাটোর নিরাপত্তা-নিশ্চয়তা খুব দরকারি; তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সমরাস্ত্রের সরবরাহের বিষয়টি।

ইউক্রেনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স কাউন্সিলের (এনএসডিসি) প্রধান ওলেক্সি দানিলভ বলেছেন, পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী জি-৭-এর পক্ষ থেকে যদি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়া যায় তবে সেটাই হবে ইউক্রেনের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বের। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিরাপত্তা-নিশ্চয়তা বিষয়ক চুক্তি করতে প্রস্তুত। কিন্তু রাশিয়া কি এ প্রস্তাবে রাজি? রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন অবশ্য বলেছেন, শান্তির লক্ষ্যে আলোচনায় রাশিয়ার আপত্তি নেই। তবে কথা আছে ইউক্রেনই সিকিউরিটি গ্যারান্টির বিষয়টি স্বীকার করতে অনীহা প্রকাশ করেছিল। ইস্তাম্বুল বৈঠকে যে শান্তিচুক্তির খসড়া তৈরি হয়েছিল তা প্রথমে স্বীকার করেও পরে অস্বীকার করেছিল কিয়েভ। পুতিনের কথা হলো, রুশ ফেডারেশনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিশ্চিত হতে হবে সবার আগে। অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আনাতোলি মাতভিয়িচুক লেন্তাডটআরইউ নিউজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সিকিউরিটি গ্যারান্টি বিষয়ক আলোচনা শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি পদক্ষেপ হতে পারে। জেলেনস্কি শান্তি চুক্তির ইতি টানতে উদগ্রীব। এর জন্য যা মূল্য দিতে হয় তিনি দিতে ইচ্ছুক। কিন্তু জেলেনস্কি কাকে মূল্যটা দেবেন? মাতভিয়িচুকের মতে ইউক্রেন-মার্কিন আলোচনায় রাশিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না। আবার মার্কিনিরা জেলেনস্কির কর্মকাণ্ডে আস্থা রাখতে পারছে না। ইউক্রেনি সশস্ত্র বাহিনীর সামর্থ্য দেখাতে চায় তারা। কিয়েভ কিছু এলাকা ফিরে পেতে রাশিয়ার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে চায়, তবে কূটনৈতিক পন্থায়। মাতভিয়িচুক জানান, ক্রিমিয়াকে ফিরে পেতে লড়বে কিয়েভ।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সামরিক বিশ্লেষক ইগর গেরাসিমভ প্রাভদাডটআরইউকে বলেছেন, ইউক্রেনি সশস্ত্র বাহিনীর ব্যর্থ কাউন্টার অফেনসিভের কথা মাথায় রেখেই কিয়েভ (শান্তি) আলোচনা করতে চায়। ইয়ারমাকের বিবৃতি কাউন্টার অফেনসিভের ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতেই এসেছে। মার্কিনিদের সঙ্গে কথাবার্তায় ব্যর্থ হলে তারা অন্য একটি উপায় ভেবে রেখেছে। আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না, তারা ফয়সালার আলোচনার জন্য রুশ ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনায় বসার শেষ চেষ্টা করবে। কাউন্টার অফেনসিভের ব্যর্থতা তাদের জন্য আর কোনো পথ খোলা রাখেনি। রাশিয়া কি ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হবে? রাশিয়া আলোচনা এবং সিকিউরিটির গ্যারান্টির বিষয়টিকে আশাব্যঞ্জক মনে করে না। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তাও বোধ করে না তারা। ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় স্পেশাল মিলিটারি অপারেশনে প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন গেরাসিমভ। তিনি বলেন, এ অবস্থায় আলোচনা মেনে নেওয়া এবং ইউক্রেন যেমন আছে তেমন হিসেবে কার্যকর থাকার জন্য সময় দেওয়ার মানে হলো চলমান সংঘাতকে স্থগিত করা। ইউক্রেনের কথায় আস্থা রাখার কোনো কারণ নেই। জেলেনস্কি পাশ্চাত্যের কাছে লাগাতার সমরাস্ত্র চেয়েই যাচ্ছে। যত সমরাস্ত্রই পাঠানো হোক না কেন, এমন কোনো জাদুকাঠি জেলেনস্কির কাছে নেই যে কিয়েভ রাশিয়ার বিরুদ্ধে জিতে যাবে। এমনই মনে করেন সাবেক মার্কিন মেরিন কোরের ইন্টেলিজেন্স অফিসার স্কট রিটার। জেলেনস্কি স্বপ্ন দেখছেন। আসলে পাশ্চাত্য ইউক্রেনকে রক্তস্নানে নামিয়েছে। জেলেনস্কি যদি এ কথা বুঝেও থাকেন তাহলেও তার কিছু করার নেই। শেষ ইউক্রেনিকে বলি দেওয়াই মার্কিন তথা ন্যাটোর উদ্দেশ্য।

ন্যাটোর কেরামতি এখানেই। আর বাইডেন প্রশাসন এখন তাইওয়ানকে চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামানোর পরিকল্পনায় ব্যস্ত। রাশিয়াকে যেভাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মাঠে নামানো হয়েছে, চীনকেও সেভাবে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে নামানোর পরিকল্পনা চলছে। দুই ক্ষেত্রেই কলকাঠি নাড়ানোতে ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে। রাশিয়ার ক্ষেত্রেও জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করা হয়েছিল। চীনের ক্ষেত্রেও তেমনটাই করা হবে। আর ইউক্রেনের মতো তাইওয়ানকেও অর্থ ও রসদ জোগাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ন্যাটোও থাকবে। কিছুদিন আগেই ন্যাটোকে টেনে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার উদ্দেশ্য, তাইওয়ানি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অস্ত্র ও লজিস্টিক সমর্থন জুগিয়ে প্রশিক্ষিত করা। তারাই চীনের বিরুদ্ধে লড়াবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তাইওয়ানি আর্মি ও মার্কিন আর্মির মধ্যে অপারেশনাল কোলাবরেশন বাড়ছে। যুদ্ধ বাধলে এর মাত্রা আরও বাড়বে। পরস্পরের শত্রু হবে তাইয়ান ও চীন। আর ফায়দা লুটবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

চীনকে সামরিকভাবে মোকাবিলার মার্কিন ছক প্রণীত হয়েছিল ২০২২ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে। পিপলস রিপাবলিক অব চায়না চিহ্নিত হয়েছিল ‘আমেরিকাজ মোস্ট কনসিকুয়েনশিয়াল জিওপলিটিক্যাল চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে। কারণ চীন বিশ্ববাস্তবতা বদলে দেওয়ার আকাক্সক্ষা পোষণ করেছে। এ কৌশলে ইন্দো-প্যাসিফিক এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার ইচ্ছাও আছে। বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বেশির ভাগটাই এ অঞ্চলে হয়। একবিংশ শতকের ভূ-রাজনীতির উপকেন্দ্রও এখানেই। মার্কিনিদের কাছে ইন্দো-প্যাসিফিক এলাকার বাইরে অধিক গুরুত্বের আর কিছু নেই। বাইডেন প্রশাসনের এ কৌশলে চীনের সঙ্গে আসন্ন বিরোধে সামরিক বাহিনীর কী ভূমিকা হবে তার কথা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বলা হয়েছে-

We will...modernize and strengthen our military so it is equipped for the era of strategic competition with major powers... 

চীনকে একটা তাইওয়ানি গ্যাঁড়াকলে আটকে ফেলা বিশ্বে মার্কিন একাধিপত্য বজায় রাখার প্রথম ধাপ। চীন যাতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অধিপতি অর্থনীতি হয়ে উঠতে না পারে তা নিশ্চিত করাও এ কৌশলের লক্ষ্য। কৌশলের অর্থনৈতিক, সাইবার ও ইনফরমেশনাল এলিমেন্টস সামরিক কম্পোন্যান্টের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে। যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো নামের সাদা মরা হাতিতে চড়ে জাপান সাগরের দিকে ছুটছে।

লেখক: সাংবাদিক

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত