মাগশটে ট্রাম্পের মুখ, কয়েদি নম্বর পি০১১৩৫৮০৯

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৩, ০২:৪২ এএম

ভোটের ফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টার মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আত্মসমর্পণের পর গ্রেপ্তার হন। গত বৃহস্পতিবার দেশটির জর্জিয়ার আটলান্টা কারাগারে ২০ মিনিট কয়েদি হিসেবেও থাকতে হয়েছে তাকে। পরে অবশ্য ২ লাখ ডলারের বিনিময়ে জামিন পেয়েছেন। এর মধ্যেই ঘটে গেছে ঐতিহাসিক এক ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক প্রেসিডেন্টের মাগশট দেখার সুযোগ হলো বিশ্বের।

বিবিসি জানাচ্ছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে ট্রাম্প আত্মসমর্পণ করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তার করার পর নিয়ম অনুযায়ী কারাগারে তার আঙুলের ছাপ নেওয়ার পাশাপাশি ছবি তোলা হয়। কয়েদির মুখমণ্ডলের ওই ছবিকেই বলা হয় মাগশট। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, কারা কর্র্তৃপক্ষ পরে ট্রাম্পের ওই মাগশট প্রকাশ করে। সেই ছবিতে গম্ভীর মুখের ট্রাম্পকে তীক্ষè দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম দেশটির কোনো সাবেক প্রেসিডেন্টের মাগশট প্রকাশ পেল। ফুলটন কাউন্টি জেলের রেকর্ডে ট্রাম্প এখন কয়েদি নম্বর পি০১১৩৫৮০৯।

এদিকে জেলের ওয়েবসাইটে কয়েদি হিসেবে ট্রাম্পের বর্ণনায় বলা হয়, ট্রাম্প একজন শেতাঙ্গ পুরুষ, উচ্চতা ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি, ওজন ৯৭ কেজি, ব্লন্ড চুল এবং নীল চোখ।

বিবিসি জানায়, একটি ফৌজদারি মামলায় গত পাঁচ মাসে এ নিয়ে চতুর্থবার গ্রেপ্তার হলেন ট্রাম্প। তবে পুলিশের খাতায় এ প্রথম তার মাগশট জায়গা পেল।

জামিনে মুক্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে ট্রাম্প তার ওয়েবসাইটের ঠিকানা এবং মাগশটটি পোস্ট করে লেখেন, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ। কখনো আত্মসমর্পণ নয়! ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের পর এই প্রথম টুইটারে (বর্তমান নাম এক্স) পোস্ট দিলেন তিনি।

ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে বর্ণনা করে বলেন, আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে চ্যালেঞ্জ জানানোর দৌড়ে রিপাবলিকান দল থেকে তিনিই সবার আগে আছেন।

বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্টদের মধ্যে প্রথম অভিযুক্ত হওয়া ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বিকেলে নিউ জার্সি থেকে প্রাইভেট উড়োজাহাজে করে জর্জিয়া পৌঁছান। তারপর মোটর শোভাযাত্রা করে তিনি ফুলটন কাউন্টি জেলে যান। সেখানে তিনি সব মিলিয়ে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করেন। তার বেশ কয়েকজন সমর্থক এদিন কারাগারের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন। এদিন বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার অধিকার তার রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ওটা ছিল একটি কারচুপির নির্বাচন, চুরি করা নির্বাচন এবং সেটিকে চ্যালেঞ্জ করার সব ধরনের অধিকার আমার থাকা উচিত। এখানে যা ঘটেছে, সেটা ন্যায়বিচারের সঙ্গে প্রতারণা। আমি কোনো অন্যায় করিনি এবং সবাই সেটা জানে।’

নির্বাচনের ফলাফলে হস্তক্ষেপের অভিযোগে গত এপ্রিল মাস থেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছে। যে মামলাগুলো ৭৭ বছর বয়সী ট্রাম্পের রাজনৈতিক ইমেজের ক্ষতি তো করেইনি বরং দেশ জুড়ে তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। অন্তত জনমত জরিপগুলো তেমনটাই বলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত