রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঠাঁই পেয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের সাতজন। আশ্রয়ণ প্রকল্পে ওঠার পর প্রতিনিয়ত গান, হাসি-আনন্দে সময় পার করছেন তারা। কেউ ছাগল, হাঁস, মুরগি ও কবুতর পালন করছেন। কেউ চাষ করছেন শাকসবজি।
গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হোসেন ম-ল পাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে তৃতীয় লিঙ্গের সাত সদস্যকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই জমির মালিকানাসহ পাকাঘর পেয়েছেন, পাকাঘর পেয়ে তারা এখন আগের থেকে অনেক খুশি ও ভালো আছেন। এখানে পুনর্বাসন হওয়ার পর আশ্রয়ণ প্রকল্পের খালি জায়গায় বিভিন্ন শাকসবজির চাষ করেছেন তারা।
পুনর্বাসিত তৃতীয় লিঙ্গের নীলিমা জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে সবাই ভালো আছি, স্থায়ী ঠিকানা দিয়ে নতুন জীবন দিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। যেটা আমাদের বাবা-মার করার কথা ছিল সেটা প্রধানমন্ত্রী করে দিয়েছেন।
পুনর্বাসিত চায়না ও অনু বলেন, ‘পরিবার ও সমাজের লোক আমাদের ত্যাগ করেছে। সবাই আমাদের ভিন্নচোখে দেখলেও প্রধানমন্ত্রী আমাদের সে নজরে দেখেননি। তিনি আমাদের কথা ভেবে আমাদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। এখানে আমরা অনেক ভালো আছি।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধারণা ছিল তৃতীয় লিঙ্গের ওরা হয়তো এখানকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করবে। এখানে ঘর নির্মাণে আমাদের অনেকেই বাধা দিলেও এখন সে ধারণা ভুল প্রমাণ হয়েছে। তারা গ্রামের স্বাভাবিক মানুষের মতো জীবনযাপন করছে। এরা স্থানীয় কাউকে বিরক্ত করে না। আশ্রয়ণ প্রকল্পে ওঠার পর প্রতিনিয়ত গান, হাসি-আনন্দে সময় পার করছেন তারা। কেউ গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি ও কবুতর পালন করছেন। কেউ শাকসবজি চাষ করছেন।
উপজেলা তৃতীয় লিঙ্গের দলনেত্রী মাহিয়া মাহি বলেন, আমাদের এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না যে আমরা নতুন পাকাঘর পেয়েছি। বাবা-মার থেকে বিচ্ছিন্ন ও দূরে থেকে আমরা যে কখনো এত সুন্দর ঘর পাব, এটা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। আমাদের এমনও দিন গেছে, আমরা বাসা ভাড়া নিতে গিয়ে অনেক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছি, অনেকের কটু কথাও শুনেছি। আজকে আমরা ২ শতাংশ জমিসহ পাকাঘর পেয়েছি, সুন্দর মতো জীবনযাপন করছি। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে দোয়া করি। তিনি আমাদের সমাজে বেঁচে থাকার মতো সম্মান দিয়েছেন। নাম ঠিকানাহীন আমাদের তিনি নাম ও ঠিকানা দিয়েছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, বর্তমানে ওরা প্রকল্পের আঙ্গিনায় শাকসবজি, হাঁস, মুরগি, কবুতর, লালন-পালন করছেন। তারা গরু পালনের জন্য শেড চেয়েছে। তাও করে দেওয়া হবে।
