অপরিকল্পিত কলকারখানা ইটভাটা বসতবাড়ি

সিংগাইর হারাচ্ছে কৃষিজমি

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:২২ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কড়া নির্দেশ ‘কৃষিজমি ধবংস করে কোনো উন্নয়ন নয়।’ কিন্তু এই নির্দেশকে থোড়াই কেয়ার করে রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ব্যাপকভাবে চলছে কৃষিজমি ধ্বংস। উপজেলাজুড়ে কৃষিজমির বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে উঠছে নতুন নতুন বসতি, কারখানা, ইটভাটা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। আবাসন ও বাণিজ্যিক কাজে ফসলি জমির ব্যবহার চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। অপরিকল্পিত ভরাটের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে খাল-বিল, নদী-নালা, জলাধারাসহ ছোট-বড় অসংখ্য পুকুর-ডোবা। ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশদূষণ।

এদিকে, সবচেয়ে বেশি কৃষিজমি ধ্বংস করছে বৈধ-অবৈধ প্রায় ৬০টি ইটভাটা। ব্যাপকহারে ইটভাটা গড়ে ওঠার বিরূপ প্রভাব পড়েছে পরিবেশের ওপর। এ ছাড়া ভাটায় ইট তৈরিতে ব‍্যবহার হচ্ছে তিন ফসলি জমির মাটি। অনেক জায়গায় কলকারখানা-আবাসিক প্রকল্পের নামে বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে বিশাল এলাকাজুড়ে কৃষিজমি। ব্যাঙের ছাতার মতো পাড়া-মহল্লায় বসতবাড়ি ঘেঁষে গড়ে উঠছে শব্দ ও পরিবেশদূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান।

উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সিংগাইরে কৃষিজমির পরিমাণ ১৬ হাজার ২৪৫ হেক্টর। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বেপরোয়াভাবে চলছে কৃষিজমি ধবংসের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। ধল্লা ইউনিয়নের ধলেশ^রী নদীর পাড়ে ৫৪ একর কৃষিজমিতে বালু ভরাট করে গভর্নমেন্ট অফিসার্স কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি নির্মাণের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এর অদূরে আরসিএল নামের প্রতিষ্ঠানটি ৪০ একর জমি কিনে বাউন্ডারি দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানও নির্মাণ করা হয়েছে। ফোর্ডনগর এলাকায় আকতার ফার্নিচার প্রায় ৩০ একর জমি নিয়ে কারখানা তৈরি করেছে।

এ ছাড়া, জামির্ত্তা ইউনিয়নের বিন্নাডাঙ্গী এলাকায় ৩৩ একর কৃষিজমি ধবংস করে ওয়েস্ট প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলমান। ডিসিভিটা নামে ৭ একর, আরসিএল কোম্পানির ৫ একর ও শাহ-মেরিনের ৩ একর জমি চলে গেছে ফসল উৎপাদনের বাইরে। ওই এলাকায় নদীর তীরে দুটি নর্দান পাওয়ার প্ল্যান্ট নামের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে ওঠায় ব্যাপকভাবে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। নির্গত কালো ধোঁয়ায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কৃষিজমি রক্ষায় এসব বন্ধ না হলে ভবিষতে ফসল উৎপাদনের জমি পাওয়া যাবে না। চাপরাইল গ্রামের বাসিন্দা ও ইটভাটা স্থাপন প্রতিরোধ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সায়েম বলেন, ফসলি জমি রক্ষায় মাটি কাটা বন্ধে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিলেও তা বন্ধ করা হয়নি। উল্টো প্রতিবাদকারীরা হয়েছে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিংগাইরে ১০ বছরের মধ্যে বেশিরভাগ কৃষিজমি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, ‘আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হলে এটা বন্ধ হবে না।’

সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপন দেবনাথ বলেন, কৃষিজমি রক্ষায় বিভিন্ন ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কৃষিজমিতে স্থাপনা নির্মাণে আগের মতো অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত