১৯৯২ সালে ‘সুরের ধারা’ গড়ে তোলেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। এর পর থেকে সুরের ধারা নিরলসভাবে কাজ করছে দেশের শুদ্ধ সংস্কৃতির বিকাশ, চর্চা, প্রচার ও প্রসারে। সুরের ধারার বর্ষবরণ উৎসব এখন যেন জাতীয় উৎসবে রূপ নিয়েছে। সুরের ধারার অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের গানকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। সেই সুরের ধারা এবার পেল একটি স্থায়ী ঠিকানা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুরের ধারার জন্য বরাদ্দ করেছেন মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর বেড়িবাঁধসংলগ্ন একটি জায়গা। সেখানেই গত কয়েক মাস ধরে সুরের ধারার কার্যক্রম চলছে। আর সেই স্থায়ী ঠিকানাতেই প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় বৃক্ষরোপণ উৎসব। আক্ষরিক অর্থেই যেন গতকাল শুক্রবার সুরের ধারা সেজে উঠেছিল উৎসবে। মান্যগণ্য ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি তো বটেই, সুরের ধারার শিক্ষার্থীদের একই রকম সাজ পোশাক অনুষ্ঠানে এনেছিল ভিন্নমাত্রা। আর এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। এ ছাড়াও মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূরসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
‘সুরের ধারা’র এই বৃক্ষরোপণ উৎসবের অন্যতম স্পন্সর হিসেবে ছিল রূপায়ণ গ্রুপ। সুরের ধারার চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষ রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা তার বক্তব্যে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান ও দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রকাশক মাহির আলী খাঁন রাতুলকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা আজ আমাদের নিজেদের একটি স্থায়ী ঠিকানায় প্রথম অনুষ্ঠান করছি। আর প্রথম অনুষ্ঠান হিসেবে আমরা বেছে নিয়েছি বৃক্ষরোপণ উৎসব। এমন একটি উৎসব যা প্রাণের কথা বলে, জীবনের কথা বলে। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, বৃক্ষই আদি প্রাণ, মানুষের পরম বন্ধু। তাই সুরের ধারা তার এই স্থায়ী আবাসে বৃক্ষ বন্ধুদেরই প্রথম স্থান দিতে চায়। শান্তিনিকেতনের রুক্ষ মাটিতে বৃক্ষরোপণ উৎসবের প্রচলন করে রবীন্দ্রনাথই প্রথম সেখানে প্রাণের সঞ্চার করেছিলেন। আমাদের গভীরে আছেন রবীন্দ্রনাথ, আছে শান্তিনিকেতন। তাই তো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃক্ষবন্দনা ও শান্তিনিকেতনে বৃক্ষরোপণ উৎসবের আদলে আমরা এই আয়োজন সাজিয়েছি। শান্তিনিকেতন আমাদের প্রাণের পীঠস্থান, আমাদের স্বপ্ন। বাস্তবে আরেকটি শান্তিনিকেতন গড়া তো সম্ভব নয়! তবে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুরের ধারার জন্য নিজস্ব এই জায়গাটুকু বরাদ্দ দিয়ে আমাদের স্বপ্নের বীজটুকু বপনের সুযোগ করে দিয়েছেন। সেজন্য তাকে জানাই আমার ও সুরের ধারার সকলের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের প্রত্যাশা, এই জমিতে সুরের ধারার ভবন যখন প্রতিষ্ঠিত হবে তখন তাকে পাশে পাব। সুরের ধারার সকল সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে আমরা একটি সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখি। এখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাড়াও সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা, পেশাজীবীরা সকলেই সংগীত চর্চার মাধ্যমে সুস্থ ধারার একটি জীবন যাপন করবেন এই আমাদের প্রত্যাশা।’
বন্যা আরও বলেন, ‘আজকে এই মঞ্চে যারা বসে আছেন তাদের সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমাদের আয়োজনকে আরও উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় করেছে। বিশেষ করে আমার পরম বন্ধু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা প্রধান অতিথি হিসেবে আসায় এই অনুষ্ঠান পূর্ণতা পেয়েছে। তাকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের এই স্বপ্নযাত্রা আরও বেগবান হবে। তাকে পাওয়া একটি বিরল সৌভাগ্যের ব্যাপার। তিনি একটু নিভৃতে, আড়ালেই থাকতে পছন্দ করেন। আজ যেমন আমার অনুষ্ঠানে এসেও শর্ত দিয়েছেন যে আমি উপস্থিত থাকব কিন্তু কোনো কথা বলব না। আমরাও তার সেই শর্ত পালন করব। তাকে কোনো কথা বলার অনুরোধ করব না।’
অনুষ্ঠানে সুরের ধারার শিল্পীরা প্রকৃতি আবাহন সংগীত পরিবেশন করেন।
