নাটোরের বাগাতিপাড়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নাটোর ১-এর ভুতুড়ে বিলে গ্রাহকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ব্যবহৃত ইউনিট না দেখেই অতিরিক্ত বিল করা আবার বিল নিয়ে অভিযোগ করতে গেলে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন এলাকার গ্রাহকরা।
উপজেলা সাব-জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার বৈদ্যুতিক মিটার সংযোগ হয়েছে। হকদের ব্যবহৃত মাসিক বৈদ্যুতিক রিডিং সংগ্রহকারী মিটার রিডার আছেন ১৪ জন। এদের সবাই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কাজ করেন, যা চাহিদার চেয়ে অনেক কম। আর তাদের করা কাজে প্রায় প্রতিদিনই নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বাগাতিপাড়া সাব-জোনাল অফিসে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে হাজির হচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা।
উপজেলার সদর ইউনিয়নে বড়পুকুরিয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে আমজাদ হোসেন বলেন, তার গত জুলাই মাসে মিটার রিডিং আসে ১১৫ ইউনিট, যার মোট বিল এসেছে ৭০৮ টাকা এবং আগস্ট মাসে এক লাফে মিটার রিডিং এসেছে ৫৭০ ইউনিট, যার মোট বিল ৫ হাজার ৮৮৯ টাকা। হঠাৎ করেই এ রকম বিল দেখে তিন হতবাক।
উপজেলার পৌরসভার পেড়াবাড়িয়া গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক মৃত আজগর আলীর ছেলে আবুল হোসেন বলেন, তার গত জুুলাই মাসে ১১৫ ইউনিট বিদ্যুতের রিডিং এসেছে, যার মোট বিল ৭০৮ টাকা এবং আগস্ট মাসে মিটার রিডিং এসেছে ৪৬০ ইউনিট, যার মোট বিল ৪ হাজার ৪৮৬ টাকা। তার অভিযোগ নিয়মিত মিটার রিডিং না দেখেই বিল করা হয়েছে।
দয়ারামপুর ইউনিয়নের হাটগোবিন্দপুর এলাকার ইসমাইল হোসেন বলেন, জুলাই মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছিল ৩ হাজার ২৮৭ টাকা আর আগস্ট মাসে বৈদ্যুতিক বিল এসেছে ৪ হাজার ৩৬৬ টাকা। এ রকম বিল এর আগে কোনোদিনই আসেনি। এলাকায় প্রায় ৮০ ভাগ বাড়িতেই বিলের এ অবস্থা।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এর বিলিং সুপারভাইজার জিন্নাতার বলেন, প্রায় দিনই অতিরিক্ত বিল নিয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করতে আসেন গ্রাহকরা।
বাগাতিপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের এজিএম মনজুরুল ইসলাম বলেন, গ্রাহকরা বেশি বিদ্যুতের ব্যবহার করছেন তাই মিটার রিডিং বেশি আসছে এবং সমস্যা মনে করলে মিটার পরিবর্তনের জন্য আবেদন করে মিটার পরিবর্তন করাও সম্ভব।
এ বিষয়ে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এর ৪নং এলাকার পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, সামনে বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
