ড. নিতাইয়ে কী পেয়েছে বেরোবি প্রশাসন!

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৫:১৫ পিএম

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির নির্দেশনা উপেক্ষা করেই পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদ।

রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলমগীর চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান মণ্ডল স্বাক্ষরিত পত্রে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. নিতাই কুমার ঘোষকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) ২০২২ সালের ২০ মার্চ তারিখে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে - বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব),পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পূর্ণকালীন নিয়োগ প্রদান করতে হবে। ভারপ্রাপ্ত, অতিরিক্ত দায়িত্ব, চলতি দায়িত্ব চুক্তিভিত্তিক বা খণ্ডকালীন হিসেবে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি / সামরিক কর্মকর্তা বা কলেজের শিক্ষককে নিয়োগ প্রদান করা যাবে না।

পত্রে প্রতিষ্ঠাকাল ১০ বছর হয়েছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়কে এ সকল পদে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গকে অবিলম্বে নিয়োগ প্রদান করে কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে।

এ নির্দেশনা না মানায় ৩ মাস পরে গত ২০ জুন ২০২২ তারিখে পুনরায় পত্র পাঠিয়ে রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে ৬মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রদান করে মঞ্জুরী কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছিল।

কিন্তু উপাচার্য এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে আগের মতই একজন শিক্ষককে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পদে অতিরিক্ত (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব প্রদান করেছেন।

কেবল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে নয় এর আগে ড.নিতাই কুমার ঘোষকে অধ্যাপক অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিতে গিয়েও অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছিলেন উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদ ও তার প্রশাসন। অধ্যাপক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল- ১২ বছরের শিক্ষকতা ও সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন জার্নালে ৮ টি প্রকাশনা থাকতে হবে। একটি শর্ত শিথিলযোগ্য উল্লেখ থাকলেও এসবের কোনোটিতেও তিনি সম্পন্ন না থাকার পরও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তাকে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

জানতে চাইলে ড.নিতাই কুমার ঘোষের কাছে জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই বিষয়ে তো আমি বলতে পারব না। আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে আমাকে পালন করতে হবে। জিজ্ঞেস করার থাকলে নিয়োগকর্তাকে জিজ্ঞেস করুন।

নিয়োগপত্রে স্বাক্ষরকারী উপ রেজিস্ট্রার মোস্তাফিজুর রহমান মণ্ডল দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে আমার বলার কিছু নেই, এই বিষয়ে ভাইস চ্যান্সেলর স্যার ও রেজিস্ট্রার স্যার জানবেন। অফিসে রেজিস্ট্রারের অনুপস্থিতিতে জৈষ্ঠতার ভিত্তিতে আমি দায়িত্বরত ছিলাম;কাকে দায়িত্ব দেবে না দেবে সেটা তো আমি জানি না।

এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য হাসিবুর রশীদের সাথে দেশ রূপান্তরের এই প্রতিবেদক ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সামনাসামনি দেখা করে কথা বলার জন্য বলেন। পরবর্তীতে তার অফিসে ও বাসভবনে গিয়ে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেও তার দেখা পাননি।

উল্লেখ্য ড. নিতাই কুমার ঘোষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রেডিও-এর পরিচালক হিসেবেও বর্তমানে দায়িত্বরত। তবে সেটিও অকেজো অবস্থায় বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। রেডিও চালু করতেও তিনি কোনো উদ্যোগ নিতে পারেন নি। যার ফলে রেডিও চালুর এত বছর পরও সেটি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পায়নি কোনো সেবা ও সুবিধা। ফলে তার দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত