জামালপুরের মেলান্দহ শহরের আবাসিক এলাকা মলিকাডাঙ্গায় সড়কের পাশে আবর্জনা ফেলছে পৌর কর্তৃপক্ষ। যেখানে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এর চারপাশেই রয়েছে জনবসতি। আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। পথচারীরা নাক-মুখ চেপে চলাচল করছে। এ নিয়ে পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন পৌর মেয়র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘মেলান্দহ পৌর শহরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-মেলান্দহ থানা রোডের মলিকাডাঙ্গা এলাকায় সড়কের পাশে প্রায় এক বছর ধরে আবর্জনা ফেলায় সেখানে ভাগাড় তৈরি হয়েছে। আগে পৌরসভার আবর্জনা শহরের শাহাদতপুর এলাকায় ফেলা হতো। প্রায় ১ বছর ধরে পৌর কর্তৃপক্ষ মলিকাডাঙ্গায় আবর্জনা ফেলছে। পৌরসভার গাড়িতে করে প্রতিদিন দুই-তিনটি ট্রাক বা পিকআপ ভ্যানে করে আবর্জনা এনে এখানে ফেলা হচ্ছে। ভাগাড়ের সন্নিকটেই জাহানারা-লতিফ মহিলা কলেজ, মলিকাডাঙ্গা মাদ্রাসাতুস সুফা কওমি মাদ্রাসাসহ দুটি মাদ্রাসা ও একটি মসজিদ রয়েছে। শহরের প্রধান সড়ক হওয়ায় ওই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পাশে আবাসিক এলাকায় আবর্জনা ফেলায় দুর্গন্ধে বসবাস ও যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। প্রায় ১০ মাস আগে ওই জায়গায় আবর্জনা না ফেলার জন্য পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও প্রতিকার পাননি তারা।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের পাশে ভাগাড়ে কুকুর, শিয়াল খাবার খাচ্ছে। দুর্গন্ধে পথচারী ও স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নাক চেপে যাতায়াত করছে। ভাগাড়ের পাশেই বসতবাড়ির মানুষেরা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ।
মলিকাডাঙ্গা মাদ্রাসাতুস সুফা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘এই সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। এক বছর ধরে বাসাবাড়ির কাছে সড়কের পাশে পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে। যেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে তার দুই পাশে দুটি মাদ্রাসা। দুর্গন্ধে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ ওই এলাকার মানুষের বাড়িতে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক শওকত আলী বলেন, ‘আমার বাড়িটা রাস্তার পশ্চিম পাশে। আর ময়লা ফেলা হচ্ছে রাস্তার পূর্ব পাশে। প্রতিদিন আবর্জনা এনে এখানে ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধে দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে এত গরমের মধ্যেও দরজা-জানালা খুলতে পারছি না। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ করার পরও কোনো প্রতিকার পাইনি।’
অটোরিকশাচালক সোলাইমান বলেন, ‘এদিক দিয়ে দুর্গন্ধে যাইতে পারি না। যাত্রীরাও এই সড়ক দিয়ে আসতে চায় না। দুর্গন্ধে বমি করে ফেলে। আশপাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং চারপাশে ঘরবাড়ি রয়েছে।’
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া গত বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাকে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। আমাদের একটি ডাম্পিং স্টেশনের কাজ শেষ হয়েছে। এটি উদ্বোধন হলেই ডাম্পিং স্টেশনে ময়লা ফেলা হবে। তখন আর যত্রতত্র ময়লা ফেলতে হবে না।’
মেলান্দহ পৌরসভার মেয়র শফিক জাহেদী রবিন গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। বিষয়টা আমি দুই দিন আগে জেনেছি। দ্রুত এ বিষয়টা সমাধানের ব্যবস্থা করব।’
