ফিলিস্তিনের অর্থনীতি এবং দখলকৃত অঞ্চলের ওপর থেকে ইসরায়েলকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। অঞ্চলটিতে বিনিয়োগের সুযোগের সৃষ্টির লক্ষ্যেই এমন আহ্বান সংস্থাটির।
আইএমএফের প্রতিবেদনের বরাতে গতকাল শনিবার সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, ক্রমাগত নিরাপত্তা এবং সামাজিক ব্যবস্থার অবনতিতে ফিলিস্তিনের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গতি হারাচ্ছে। ফলে মাথাপিছু আয় আরও কমার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ফিলিস্তিনের এ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছে আইএমএফ। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারীর পরে ২০২১ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল। তবে ২০২২ সালে তা ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসে। ২০২৩ সালে ৩ শতাংশে নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংকট নিয়ে আইএমএফ তাদের ব্যাখ্যায় মূল কারণ হিসেবে বলেছে, পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকায় রাজস্ব আটকে রাখছে ইসরায়েল। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনও দুর্বল। অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য ফিলিস্তিনি কর্র্তৃপক্ষ, ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বয় প্রয়োজন।
আইএমএফের মতে, ফিলিস্তিনের অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এবং বেকারত্ব দূরীকরণে সবচেয়ে আগে পশ্চিম তীর ও গাজার অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি প্রয়োজন। ইসরায়েল এসব এলাকায় চলাফেরা, প্রবেশাধিকার, বিনিয়োগ সংকুচিত করে রেখেছে।
গত ২৩ আগস্ট আবুধাবির দ্য ন্যাশনাল নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতিতে ফিলিস্তিনের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি থমকে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আইএমএফের বিবৃতির সূত্র ধরে সংবাদমাধ্যটি জানায়, বেকারত্বের উচ্চ হার এবং দারিদ্র্য ফিলিস্তিনের দুর্বল অর্থনীতিকে সামষ্টিকভাবে আরও ভঙ্গুর করে দিচ্ছে। আঞ্চলিক সংকটজনক পরিস্থিতিতে এখানে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে।
পশ্চিম তীর ও গাজায় আইএমএফের মিশন প্রধান কার্স্টেন গার্লিং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের ফলাফল তুলে ধরে বলেন, ‘ ইসরায়েলি অবরোধের কারণে মাথাপিছু আয় কমে আসছে। এতে করে পশ্চিম তীর ও গাজার মানুষের জীবনযাত্রার মানে বিস্তর পার্থক্য দেখা দিয়েছে।’
ফিলিস্তিনের অর্থনীতি থেকে ইসরায়েলি অবরোধ মুক্তির সঙ্গে গাজা-পশ্চিম তীরে কিছু কৌশলগত সংস্কারও চায় আইএমএফ। স্থানীয় সরকারের ঋণ, স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়, মজুরি নীতি, পেনশন বিধিতেও সংস্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে সংস্থাটি।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ড ইসরায়েলের হাতে অবরুদ্ধ। ফলে গাজা এবং পশ্চিম তীরের জনগণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। ইসরায়েলের দমন-পীড়নে চরম মানবিক সংকটের মুখে এখানকার ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়।
