দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নামমাত্র জামানত ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা বলে ২৫০ জন গ্রাহকের প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে একটি সমিতি। ‘সততা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে ওই এনজিও গত ৫ বছর ধরে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়ে এলেও হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সমিতিতে সঞ্চয় রাখা গ্রাহক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সততা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড পার্বতীপুর শহরের গুলশাননগর মহল্লার ঠিকানা ব্যবহার করে গত ৫ বছর ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। শহরের গুলশাননগর মহল্লার মো. শাহীন হোসেনের বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে চেয়ার-টেবিল দিয়ে আবদুর রহিম নামে এক ব্যক্তি এ সমিতি পরিচালনা করতেন। ঋণ দেওয়ার কথা বলে শহরের প্রায় ২০০ ব্যবসায়ীকে কৌশলে সদস্য করে নেওয়া হয়। এর বাইরে কিছু সদস্য করা হয়। ঋণ ও সঞ্চয়ের টাকা তোলার কাজ করেন একজনমাত্র কর্মী। ওই কর্মীর মাধ্যমে ২৫০ গ্রাহক লোন পাওয়ার আশায় সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় এই সমিতির কাছে জমা দেন। ইতিপূর্বে সঞ্চয়ের বিপরীতে ঋণ দিয়ে গ্রাহকের বিশ^াস অর্জন করে সমিতিটি। গত সোমবারও গ্রাহকদের মধ্যে ঋণ বিতরণ ও সঞ্চয়ের টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গ্রাহকরা এসে সমিতির অফিস তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে গ্রাহকরা জানতে পারেন সবার অগোচরে সমিতির পরিচালক আবদুর রহিম ও তার স্ত্রী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
এদিকে সমিতির পরিচালক পালিয়ে যাওয়ায় সঞ্চয় তোলার কাজে নিয়োজিত একমাত্র নারীকর্মীও বিপাকে পড়েছেন। গ্রাহকদের চাপের মুখে তিনি থানায় জিডি করেছেন।
পার্বতীপুর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার রোডের ব্যবসায়ী প্রদীপ কুমার রায় (২৫) বলেন, ‘ওই সমিতি থেকে ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। সমিতিতে আমার সঞ্চয় হিসেবে ৭ হাজার টাকা জমা ছিল।’
শহরের পোনাহাটি এলাকার শাহানাজ বেগম (৩২) বলেন, অনেক কষ্ট করে আমি সমিতিতে ৩০ হাজার টাকার সঞ্চয় করেছি। এখন আমার কী হবে।’
এছাড়া গুলশাননগর মহল্লার রানা নামে আরেক গ্রাহক ঋণ পাওয়ার আশায় ১ লাখ টাকা সঞ্চয় করেছেন। এখন তিনি দিশেহারা।
সমিতির গ্রাহক নজরুল ইসলাম (৩০), ফিরোজ হোসেন সংগ্রাম (২৮), দুখুনী বেওয়া (৫৫), দুলালী বেগম (২৬) ও উর্মী বেগম গতকাল শনিবার জানান, তারা সমিতির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু সমিতির ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
সমিতি কার্যালয়ের ভবন মালিক শাহীন হোসেন বলেন, ‘তারা প্রায় ৬ বছর ধরে আমার ভবনের নিচতলায় সাড়ে ৬ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে আছেন। ১ মাস আগে সমিতিকে বাড়ি ছাড়ার জন্য নোটিস করেছি। সমিতির পরিচালক আবদুর রহিমের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। ঢাকায় তার ছেলের লেখাপড়ার খরচের কথা বলে আমার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছে। এছাড়া সমিতির দুই মাসের ভাড়া বকেয়া রয়েছে।’
পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আবুল হাসনাত খান বলেন, ‘গ্রাহকদের লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আবদুর রউফ প্রামাণিক বলেন, ‘বিষয়টা আমি জেনেছি। সমিতির টাকা আদায়কারী কর্মী থানায় জিডি করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
