চলতি বছরের মার্চ মাসে নিজের জমির আলু বিক্রি করেছি ১৭ থেকে ১৮ টাকা কেজি দরে। কিন্তু এখন বাজার থেকে নিজ পরিবারের জন্য আলু কিনতে হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে আলুর দাম দ্বিগুণ হয়ে গেল। আলুর দাম এত বাড়বে জানলে ক্ষেতের সব আলু ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতাম না। কিছু আলু হিমাগারে রেখে দিতাম।
এভাবে নিজের আক্ষেপের কথা বলছিলেন দিনাজপুর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের উলিপুর গ্রামের কৃষক ইসমাইল আলী। তিনি বলেন, ‘আমার এক একর জমিতে চলতি বছর আলুর আবাদ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। মার্চ মাসে আমার ক্ষেত থেকে বড় বড় ব্যবসায়ীরা আলু কিনে নিয়ে যায়। সে সময় ক্ষেতের সব আলু বিক্রি করে দিই। কিন্তু এখন পরিবারের জন্য আলু কিনতে গিয়ে মাথায় হাত পড়েছে আমার। গত রবিবার শিকদারহাট থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে পাঁচ কেজি আলু কিনলাম। এত বেশি দামে আলু কিনে খাওয়া সম্ভব না। আমাদের কাছ থেকে কম দামে আলু কিনে ব্যবসায়ীরা দ্বিগুণ দামে আমাদের কাছে বিক্রি করছে।’
দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি আলুর দোকানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের তালিকা টানানো রয়েছে। কিন্তু সেই মূল্যের চেয়ে কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
আলুক্রেতা মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যতালিকা টানানো থাকলেও আলু ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিচ্ছেন। কার্ডিনাল আলু আমার কাছে ৪০ টাকা কেজি চাইল দোকানদার। দামাদামি করে ৩৮ টাকা কেজিতে আলু কিনেছি। কিন্তু সরকার নির্ধারিত মূল্য ৩৬ টাকা।’
মোর্শেদা বেগম বলেন, ‘বাসাবাড়িতে কাজ করে সংসার চালাই। বাজারে শাক-সবজির পাশাপাশি আলুর দাম যেভাবে বাড়ছে এতে করে কয়েক দিন পর আলু খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে।’
তবে আলুর দাম বৃদ্ধির বিষয়ে কয়েকজন আলু ব্যবসায়ীর কাছে জানতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দিনাজপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম বলেন, আলুর দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। কয়েক দিন ধরে কয়েকটি হিমাগার ও বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় জরিমানা ও সতর্ক করা হয়েছে।
