বসুন্ধরা কিংসের দুঃস্বপ্নের হার

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:১৯ এএম

দুঃস্বপ্নের হারে এশিয়া কাপের গ্রুপপর্ব শুরু করেছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। মঙ্গলবার মালের ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মাজিয়া স্পোর্টস ক্লাবের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে তারা। প্রথমার্ধে এক গোলে এগিয়ে যাওয়া মাজিয়া দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোলে কিংসকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। যোগ করা সময়ে বদলি মোহাম্মদ ইব্রাহিমের গোলে কেবল ব্যবধানটাই কমিয়েছে অস্কার ব্রুজোনের শিষ্যরা। এই জয়ে এএফসি কাপে আগের দুই হারের মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে মাজিয়া। আর হার দিয়ে মিশন শুরুর পর গ্রুপসেরা হওয়ার স্বপ্নে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে কিংসের।

এই ম্যাচে কিংসের লক্ষ্যই ছিল পয়েন্ট তুলে নেওয়া। তাই শুরু থেকেই তারা খেলেছে আক্রমণাত্মক ফুটবল। পুরো ম্যাচের পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে অবাকই হতে হবে। বল নিয়ন্ত্রণে পুরোটা সময় এগিয়ে ছিল কিংস। প্রায় সত্তরভাগ ভাগ পজেশন ধরে রেখে খেলেছে তারা। অন্যদিকে মাজিয়া রক্ষণাত্মক কৌশলে হয়েছে পুরোপুরি সফল। দুটি হাফ চান্সকে কাজে লাগিয়ে তারা প্রথম দুই গোল করে। এই দুই গোলের আগ পর্যন্ত কিংসের ডিফেন্ডারের ক্লিয়ারেন্স ছিল মাত্র একটি। অন্যদিকে মাজিয়ার রক্ষণকে ১৫টি ক্লিয়ারেন্স করতে হয়। কিংস কিপার আনিসুর রহমান জিকোকে সেভাবে পরীক্ষাই দিতে হয়নি। প্রথম দুই গোলে তার করারও কিছু ছিল না। গোছানো ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও কাক্সিক্ষত গোলটাই কিংসের কেউ করতে পারেননি। তাতেই একজন ফিনিশারের অভাব ফুটে উঠেছে। যার ওপর বেশি আস্থা ছিল, ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ডরিয়েলটন গোমেজ বেশ কটি সুযোগ নষ্ট করে হয়েছেন খলনায়ক। প্রথমার্ধে তিনটি ভালো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। আর কিংসকে বারবার হতাশা উপহার দিয়ে মাজিয়ার কিপার হুসেইন শারিফ হয়েছেন স্মরণীয় এক জয়ের অন্যতম নায়ক।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা কিংস পঞ্চম মিনিটেই গোল পেতে পারত। তবে ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার রবসন রবিনহোর কর্নারে ডরিয়েলটনের হেড কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন মাজিয়া কিপার হুসেইন শারিফ। তিন মিনিট পর বিশ্বনাথের পাস ধরে ডান দিক থেকে রাকিবের গোলমুখে ফেলা ক্রসে ঠিকঠাক হেড করতে পারেননি ডরিয়েলটন। ১৪ মিনিটে ডরিয়েলটন দারুণ সুযোগ পেয়েও হতাশ করেন। নিজেদের অর্ধ থেকে বিশ্বনাথের থ্রু বল ফাঁকায় পেয়ে গিয়েছিলেন। বক্সের একটু ডান দিক দিয়ে ঢুকে ডানপায়ের যে শট নেন তা দূরের পোস্টে হাওয়া লাগিয়ে বাইরে যায়। পরের মিনিটে ধারার বিপরীতে গোল পায় স্বাগতিক মাজিয়া। তারিক কাজীর ভুল পাস পেয়ে যান আইসাম ইব্রাহিম। দ্রুতই পাস দেন সার্বিয়ান সতীর্থ ভোয়িস্ল্যাভ বালবানোভিচকে। এই সার্বিয়ান বক্সের অনেক বাইরে থেকে ত্বরিত শট নেন, যা রোখার সাধ্যি ছিল না কিংস কিপার আনিসুর রহমান জিকোর। এভাবে লিড নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মাজিয়ার রক্ষণভাগ। কিংসও অবশ্য গোলের চেষ্টা ছাড়েনি। ৩৮ মিনিটে পজিশন বদলে বাঁ দিকে এসে দারুণ ক্রস করেছিলেন রাকিব। তবে বিশ্বনাথের হেড সেভাবে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি হুসেইন শারিফকে।

বিরতি থেকে ফিরে একই গতিতে খেলেছে কিংস। ৫৬ মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল কিংস। তবে হুসেইন শারিফ ও ক্রোয়াট সেন্টারব্যাক সাবাস্তিয়ান আনতিচের দৃঢ়তায় নিশ্চিত গোল পায়নি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা। ডরিয়েলটনের ক্রসে প্রথমে রাকিবের হেড কোনোমতে ঠেকান হুসেইন শারিফ। ফিরতি বলে হাতছোঁয়া দূরত্ব থেকে মাথা ছুঁইয়েছিলেন সাদউদ্দিন। তবে গোললাইন থেকে অবিশ্বাস্যভাবে সেটা ক্লিয়ার করেন আনতিচ। ৬৫ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে আসেন হাসান নাজিম। এর তিন মিনিট পরই মাজিয়ার ব্যবধান বাড়ান তিনি। ঘানার ফরোয়ার্ড ওবেঙ রিগ্যানের ফ্রি-কিক ডরিয়েলটনের ক্লিয়ারেন্সে চলে এসেছিল রাকিবের কাছে। রাকিব বাইলাইন থেকে হেড করে ক্লিয়ার করতে গিয়ে উল্টো বল পাঠান নিজেদের বক্সে। সেখানে ফের ডরিয়েলটন হেড করে ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন। তবে বক্সের বাইরে থেকে সেই ক্লিয়ারেন্সে নাজিমের ডানপায়ের ভলি আরেকবার স্তব্ধ করে দেয় কিংস শিবিরকে। এরপর আর ম্যাচে ফেরার মনোবল ছিল না কিংসের। উল্টো চার মিনিট যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে নিখুঁত ফিনিশিং টাচে বসুন্ধরা কিংসের কফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকে দেন বদলি আলি ফাসির। এর পরপরই বদলি মোহাম্মদ ইব্রাহিমের গোল কেবল হারের ব্যবধানটাই কমিয়েছে কিংসের।

২ অক্টোবর ঘরের মাঠে অবশ্য ঘুড়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে বসুন্ধরা কিংস। সেদিন তাদের খেলতে হবে ভারতের দল উড়িষ্যা এফসির বিপক্ষে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত