এশিয়া কাপের শেষটা জয়ে রাঙিয়েছে বাংলাদেশ৷ সেটাও আবার ক্রিকেটের পরাশক্তি ভারতকে হারিয়ে। সেই জয়ের পথে বল হাতে অবদান রেখেছিলেন তানজিম হাসান সাকিব। তার আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঐ ম্যাচ দিয়েই।
ভারতের মতো দলের বিপক্ষে দাপুটে বোলিং করে বাহবা পেয়েছেন ঠিকই, তবে তাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। রাত পোহালেই যখন নিউজিল্যান্ড সিরিজ, তখন এই বিষয়টি নিয়েও সরগরম। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনেও উঠে এসেছে এই প্রসঙ্গ। তবে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লিটন দাস তা এড়িয়ে গেছেন দেখেন না বলেই।
তানজিম সাকিবকে নিয়ে সমালোচনার কারণ তার ক্রিকেটের বাইরে অতীতে ফেসবুকে দেওয়া কিছু পোস্টের কারণে।
২০২২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সাকিব তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে লেখেন, ‘স্ত্রী চাকরি করলে স্বামীর হক আদায় হয় না, স্ত্রী চাকরি করলে সন্তানের হক আদায় হয় না, স্ত্রী চাকরি করলে তার কমনীয়তা নষ্ট হয়, স্ত্রী চাকরি করলে পরিবার ধ্বংস হয়, স্ত্রী চাকরি করলে পর্দা নষ্ট হয়, স্ত্রী চাকরি করলে সমাজ নষ্ট হয়।’
এছাড়া আরও একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, 'ভার্সিটির ফ্রি-মিক্সিং আড্ডায় অভ্যস্ত মেয়েকে বিয়ে করলে আর যাই হোক সন্তানের জন্য একজন লজ্জাশীলা মা দিতে পারবেন না।'
এসব নিয়ে বিসিবি তাকে সতর্ক করেছে। ২০ বছর বয়সী পেসার নিজেও চেয়েছেন ক্ষমা। তাতে আলোচনায় কিছুটা লাগাম টানা হয়েছিল। কিন্তু কাল বিকেলে মেহেদী হাসান মিরাজ আবার সেই 'আগুনে ঘি ঢেলে' মাত্রা বাড়িয়ে দিলেন। তারপর ফের শুরু হয় সমালোচনা। পরে চাপের মুখে তিনি সেই পোস্ট মুছে ফেলেন।
কিন্তু ম্যাচের আগের দিন আজ সংবাদ সম্মেলনে ঘুরে ফিরে এসেছে এই প্রসঙ্গটা। ক্রিকেটারদের নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে তা কোনো প্রভাব ফেলছে কি না, এমনটা জানতে চাইলে নিউজিল্যান্ড সিরিজে টাইগারদের অধিনায়ক লিটন জবাব দেন, 'দেখি না' বলে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এখন যে পরিমাণ খেলা থাকে, সেটা নিয়েই আমরা ব্যস্ত থাকি। ম্যাচ যেদিন থাকে না সেদিনও আমরা অনুশীলন ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকি। এর বাইরের সময়টা কাটে পরিবারকে নিয়ে। তাই আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজর দেওয়ার আর সময় হয়ে ওঠে না।'
