সুইস ব্যাংক থেকে ‘কালো টাকা’ এনে ঋণের প্রলোভন

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:০৩ এএম

‘বাংলাদেশ থেকে প্রচুর “কালোটাকা” চলে গেছে সুইস ব্যাংকে। সেই সব টাকা তুলে এনে লাখ থেকে কোটি টাকা বিনাসুদে ঋণ দেওয়া হবে।’ ‘অহিংস গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশ’ নামে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) দাবিদার একটি প্রতিষ্ঠান গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এমন প্রচারণা চালিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা তুলছিল এবং হাতিয়ে নিচ্ছিল জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য। তবে ওই নামে কোনো এনজিওর নিবন্ধন নেই বলে জানিয়েছে সমাজসেবা কার্যালয়।

এদিকে, টাকা তোলা ও তথ্য নেওয়ার দায়ে ৩ সেপ্টেম্বর ভুয়া ওই এনজিওর শিরিন আক্তার ওরফে শারমিন নামে এক কর্মীকে উপজেলার বড়ইবাড়ী গ্রামে ডেকে এনে আটকে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

শিরিন আক্তার ওরফে শারমিন উপজেলার বড়ইবাড়ী, কোটামনি, বড়কাঞ্চানপুর, ঢোলসমুদ্র গ্রামে কখনো প্রাইভেট কার, কখনো মাইক্রোবাসযোগে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন এবং সদস্য করার কথা বলে টাকা তুলতেন। ১৪-১৫ দিনে গ্রামগুলোর পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ প্রলোভনে পড়ে তাদের হাতে কমপক্ষে ১০০ করে টাকা তুলে দিয়েছেন। ৩ সেপ্টেম্বর টাকা দিয়েছেন অন্তত ৬৩ জন ‘সদস্য’। শেষমেশ সচেতন লোকজন ‘আরও অন্তত ৪০ জন সদস্য হবে’ বলে শারমিনকে ডেকে এনে পুলিশে ধরিয়ে দেয়।

আটক শিরিন আক্তার ওরফে শারমিন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানার দেলদুয়ার চরপাড়া এলাকার দুলাল মিয়া ওরফে লাল মিয়ার স্ত্রী। ভুয়া ওই এনজিওর টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারেও শাখা এবং কার্যক্রম আছে বলেও জানা গেছে। তবে সেখানকার সমাজসেবা কার্যালয় জানিয়েছে, ‘অহিংস গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশ’ নামে কোনো এনজিওর নিবন্ধন তাদের কাছে নেই।

এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী পরিবার ও ঋণের আবেদন ফরম সূত্রে জানা গেছে, ‘স্বাধীনতার পর থেকে জনগণের কষ্টার্জিত যত টাকা লুটপাট ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে কিছুদিনের মধ্যে তা উদ্ধার করে এনে বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হবে’-বলে ভুয়া ওই এনজিওর পক্ষ থেকে একটি ফরম বিতরণ করা হচ্ছে। এর বিপরীতে নিচ্ছে অন্তত ১০০ করে টাকা। লোভ দেখানো হচ্ছে এক লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হবে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে, পাড়া-মহল্লায় নারী কর্মী নিয়োগ দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে চক্রটি আর মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে এনআইডির পাশাপাশি হাতিয়ে নেয় টাকা। ফরম জমা দেওয়ার সময় আরও টাকা লাগবে বলেও জানান কর্মীরা।

এ ব্যাপারে ওই এনজিওর সঙ্গে কথা বলার নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি।

ওই কর্মী শিরিন আক্তার স্থানীয়দের জানান, ওই চার গ্রাম ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ও পাশর্^বর্তী উপজেলায়ও একইভাবে ফরম দিয়ে টাকা নিয়েছেন। যাতায়াত খরচ হিসেবে ১০০ টাকা করে নেওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, তিনি বিনা বেতনে ওই এনজিওতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন। এই এনজিওর শাখা টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারেও আছে।

কালিয়াকৈর থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় মোস্তফার স্ত্রীর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

কালিয়াকৈর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘এখানে ওই নামে কোনো এনজিও নেই। আর “সুইস ব্যাংকের কালোটাকা” উদ্ধার করে বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হবে এ ধরনের তথ্যও আমার জানা নেই।’

দেলদুয়ার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোবারক হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, ওই নামে কোনো এনজিও নেই। এটা একটা ভুয়া এনজিও। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত