পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে নৌ-ট্রাজেডির এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ (সোমবার)। গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর আউলিয়া ঘাটে স্মরণকালের ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ডুবুরি দল ও স্থানীয় উদ্ধারকারীরা নদী থেকে একে একে উদ্ধার করে ৭১টি নিথর দেহ।
নদীর ওপারের একই উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের বোদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা নদী পার হওয়ার সময় মাঝপথে ডুবে যায়। এ সময় অনেকে সাঁতরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হন নারী-শিশুসহ ৭২ জন পুণ্যার্থী। এখনো নিখোঁজ একজনের সন্ধান মেলেনি।
পরে স্থানীয়দের দাবির মুখে সেই দুর্ঘটনাস্থলে একটি ব্রিজ নির্মাণ করার ঘোষণা দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। দুর্ঘটনার মাসখানেক পরে সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন শেষে মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। ঘোষণায় বলা হয়, এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৯১ মিটার দীর্ঘ এবং ৭ দশমিক ৩২ মিটার প্রস্থ ইংরেজি ওয়াই আকৃতির ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। সেতুটি এখনো টেন্ডার প্রক্রিয়াতেই আটকে আছে।
দুর্ঘটনার পর সরকারি-বেসরকারি সহায়তায় নিহতদের পরিবারগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও তারা আজও খুঁজে ফেরেন স্বজনদের স্মৃতি। দুর্ঘটনার পরই জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে ওই দুর্ঘটনায় ঘাট ইজারাদারকে দায়ী করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তবে তারা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। নৌকাডুবিতে ৭১ জনের মৃত্যু ও একজন নিখোঁজের ঘটনার ছয় মাস পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৪ মার্চ মামলার আসামি ঘাট ইজারাদার আব্দুল জব্বার ও ঘাটের মাঝি (নৌকাচালক) বাচ্চু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
এছাড়া, ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরের ওই নৌকাডুবির ঘটনায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক শফিকুর রহমান বাদী হয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে একটি মামলা করেন। যাতে আসামি করা হয় ঘাট ইজারাদার আব্দুল জব্বার, মাঝি বাচ্চু মিয়া ও মাঝি রবিউল ইসলামকে।
পঞ্চগড় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, দরপত্র অনুমোদন হলে নির্মাণকাজ শুরু হবে। আশা করছি খুব শিগগিরই দরপত্রের অনুমোদন হবে।
