জ্যোতিদের ব্রোঞ্জ সাবিনারা বিধ্বস্ত

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০১:০১ এএম

আগের দুবার ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরে রৌপ্যপদকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে। গেল ২০১৮ এশিয়াডে ছিল না ক্রিকেট। এবার ফিরলেও ভারতের কাছে সেমিফাইনালে হারায় রৌপ্যপদক হারাতে হয়। তবে প্রথম দুই বারের আক্ষেপ ভুলতে সেই পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ব্রোঞ্জপদক জিতে নিয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতিরা। তাদের হাত দিয়েই পদক তালিকায় উঠেছে বাংলাদেশের নাম। এই ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতেছে ভারত। ফাইনালে তারা ১৯ রানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। জ্যোতিদের ব্রোঞ্জ জয়ের দিনে অবশ্য নাজেহাল অবস্থা সাবিনা খাতুনদের। বিশ্বকাপ খেলা ভিয়েতনামের কাছে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত হতে হয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে। টানা দুই হারে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায়টাও নিশ্চিত হয়েছে সাইফুল বারী টিটুর শিষ্যদের।

ঝে জিয়াং ইউনির্ভাসিটি অব টেকনোলজি ক্রিকেট ফিল্ডে টসে জিতে কাল আর ভুল করেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক জ্যোতি। পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সঠিক সিদ্ধান্তটাই নিয়েছিলেন। তার সিদ্ধান্তকে যথার্থ প্রমাণ করতেই প্রতিপক্ষকে ৬৪ রানে আটকে দিয়েছিল বাংলাদেশের বোলাররা। নিয়মিত বিরতিতে পাকিস্তানের উইকেট তুলে নিয়েছেন স্বর্ণা আক্তার, সানজিদা আক্তাররা। ১৬ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন স্বর্ণা। সানজিদা ২ উইকেট নিয়েছেন ১১ দান খরচায়। এছাড়া একটি করে উইকেট মারুফা, নাহিদা ও রাবেয়ার। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ১৭ রান করেন আলিয়া রিয়াজ।

যদিও হাংজুর উইকেটে ৬৫ তোলাও কষ্টসাধ্য। সেটা বোঝা গেছে বাংলাদেশের ব্যাটারদের সাজঘরে ফেরার মিছিল দেখে। দুই ওপেনার শামীমা সুলতানা ও সাথী রানী অবশ্য ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন। ৫ ওভারে তারা দুজন উদ্বোধনী জুটিতে তুলেছিলেন ২৭ রান। তবে এরপরই সাজঘরে আসা-যাওয়ার শুরু। ব্যক্তিগত ১৩ রানে বিদায় নেন শামীমা। দুই ওভার পর একই রান তুলে আউট হন আরেক ওপেনার সাথী। সোহানা মোস্তারি ও অধিনায়ক জ্যোতিও পারেননি নামের প্রতি সুবিচার করতে। তবে বল হাতে সফল স্বর্ণা হাল ধরে দলকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে। ১৪ রানে অপরাজিত থেকে দেশকে এবারের এশিয়াডে প্রথম পদক এনে দেন স্বর্ণা। রৌপ্য হাতছাড়া হলেও ব্রোঞ্জ জয়ে তৃপ্ত বাংলাদেশ অধিনায়ক জ্যোতি, ‘প্রতিটি দল টুর্নামেন্ট খেলতে আসে সর্বোচ্চ অর্জনের জন্য। আমাদেরও তাই লক্ষ্য ছিল। কিছু না পাওয়ার চেয়ে, কিছু নিয়ে যাওয়া অবশ্যই ভালো।’

মেয়ে ক্রিকেটারদের অর্জনের দিনে হতাশ করেছেন মেয়ে ফুটবলাররা। জাপানের কাছে প্রথম ম্যাচে ৮-০ গোলে নাস্তানাবুদ হওয়ার পর কাল সাবিনারা ভিয়েতনামের কাছে হেরেছে ৬-১ ব্যবধানে। ওয়েংজু অলিম্পিক স্পোর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে ভিয়েতনাম প্রথম গোল পায়। গোল করেন পম হায়। ৩৪ মিনিটে এনগুয়েন থি ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। তান থি ৬৫ মিনিটে ৩-০ করেন। এর ছয় মিনিট পর ভিয়েতনামের চতুর্থ গোলটি করেন এনগুয়েন। এরপর ৭৮ ও ৮০ মিনিটে ভিয়েতনাম আরও দুই গোল পেলে বাংলাদেশের বড় হার নিশ্চিত হয়। শেষ দিকে মাসুরা পারভীনের গোলে কেবল ব্যবধানটাই একটু কমেছে তাদের। ডি গ্রুপে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ২৮ সেপ্টেম্বর নেপালের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে জয় পেলে অন্তত মাথা উঁচু করে ফিরতে পারবে নারী ফুটবলাররা। নইলে সাবিনাদের এশিয়াডের অভিষেকটা হবে দুঃস্বপ্নের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত