‘পরিষদে গেলেই কয় সার্ভার নাই’

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৮:০১ এএম

‘বউডা মারা গেছে এক মাস হয়। বাড়িথন চাপ দিছে মাইডারে জমি লেইখা দিয়ন লাগব। রেজিস্ট্রি অফিস থন কইল মাইডার জন্মসনদ লাগব। হুইনা গেলাম পরিষদে। হেইনতা কয়ল আমার ও বউর ইংরেজি জন্মসনদ লাগব। আমাগ দুইডা জন্মসনদ উঠাইতে গেল ১ মাস। সেপ্টেম্বর মাসের ৫ তারিখে আবার মাইডার জন্মসনদের আবেদন করছি। এহন পরিষদে গেলেই কয় সার্ভার নাই।’

এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের বালিয়াটি গ্রামের দিলীপ কুমার পাল। এমন চিত্র শুধু সাটুরিয়া উপজেলা নয়, পুরো জেলায়।

মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলার ৬৫টি ইউনিয়ন পরিষদ ও দুটি পৌরসভা থেকে জন্ম ও মৃত্যুসনদ বিতরণ করা হয়। ২০০৬ সাল থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে শুরু হয় জন্মসনদ। পরে ২০১২ সাল থেকে অনিয়ম প্রতিরোধে করা হয় অনলাইন জন্মসনদ।

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ও জেলা উদ্যোক্তা ফোরামের সাবেক সভাপতি সৈয়দ এনায়েত কমির বলেন, জন্ম ও মৃত্যুসনদের যে সার্ভার রয়েছে এটি মাঝে মাঝেই ডাউন হয়ে যেত। বর্তমানে প্রায় দুই মাস ধরে সার্ভার উন্নয়ন কাজের নামে প্রায় কাজ বন্ধ। এতে চরম বাজে অবস্থা বিরাজ করছে।

বালিয়াটি ইউনিয়নের চর ভাটারা গ্রামের সুরভী আক্তার সার্ভার না থাকায় মেয়ের জন্মসনদ করতে পারছেন না। তার মেয়ের পাসপোর্ট করা খুব দরকার। দেড় মাস ধরে পরিষদে ঘুরছেন, পাচ্ছেন না।

একই ইউনিয়নের খলিলাবাদ গ্রামের শফিকুল ইসলাম নয়ন বলেন, তারা বাবার মৃত্যুসনদ তুলতে না পারায় জমি খারিজ ও ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না।

সাটুরিয়া উপজেলার দিঘুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হানিফ আলী বলেন, নতুন জন্মসনদ তৈরি করতে গেলে, অনলাইনে সরকারি ফিস জমা দিতে হয়। এখন সার্ভারে প্রবেশ করতে পারলেও সেই টাকা জমা দিতে গেলে সার্ভার এরর আসছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একই উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের এক সচিব বলেন, জন্ম ও মৃত্যুসনদ সাইটে প্রবেশ করতে হলে এখন ইউপি সচিব ও চেয়ারম্যানের মোবাইলে ওটিপি যায়। চেয়ারম্যানরা বিভিন্ন সময়ে মিটিং ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিভিন্ন স্থানে যান। তখন চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ওটিপি আনতে এক ধরনের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। কোনোভাবে ওটিপি আনলেও সেটার মেয়াদ থাকে ১০ মিনিট। ফলে কাজ করা খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা সোহেল রানা বলেন,  প্রায় ২ মাস ধরে জন্ম ও মৃত্যুসনদ প্রস্তুত করা যাচ্ছে না। সার্ভার প্রায় সময় ডাউন থাকছে। জনসাধারণ আর সার্ভার জটিলতা বুঝে না। দীর্ঘদিন ধরে অতি গুরুত্বপূর্ণ এ সাইটটি অচল থাকায় আমাদের প্রায়ই জনরোষানলে পড়তে হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক শাহিনা পারভীন বলেন, পিক আওয়ারে জন্ম ও মৃত্যুসনদের কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে। এ কারণে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌর কর্তৃপক্ষকে পিক আওয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করার অনুরোধ করেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত