শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে থিওরিটিক্যাল পড়াশোনা করানো হয় তা চাকুরির জন্য পর্যাপ্ত নয়। চাকুরির জন্য বাস্তবতার সাথে মিল রেখে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কম্পিউটার দক্ষতা, কমিউনিকেশন স্কিল, বিশ্লেষণ দক্ষতা, ভাষাগত দক্ষতা আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি সবাইকে এসব দক্ষতা অর্জন করে নিজেকে বিশ্ব বাজারের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চন্দনাইশ উপজেলায় অবস্থিত নিজস্ব ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত সমাবর্তনে তিনি এ কথা বলেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় বেসরকারি বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালযে়র চ্যান্সেলর মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কর্তৃক দাযি়ত্বপ্রাপ্ত হযে় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদান করেন।
শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলেদের থিওরিটিক্যাল নলেজ ভরপুর। তাদের বাস্তবিক জ্ঞান বা দক্ষতা কম। তাই চাকুরির বাজারে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হলে বহুমাত্রিক দক্ষতা ও ভাষা জানতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সফট স্কিল অর্জন করতে হবে। শিক্ষানবিশ বা বিনা বেতনে হলেও কাজে লেগে যেতে হবে। তাহলে একটা সময় দক্ষতার জোরে বিশ্ববাজারে কদর বাড়বে।
সমাবর্তনে ৩টি অনুষদের অধীনে ৫টি বিভাগের মোট ৪ হাজার ৬৬৩ জন শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করা হয় । তাদের মধ্যে ৫ জনকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল, ৪জনকে ভাইস চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল ও ৬ জনকে চেয়ারম্যান গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়।
সমাবর্তন স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ. এফ. এম. আওরঙ্গজেব। এ সময় প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযে়র প্রফেসর ইমিরেটাস, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযে়র প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর ড. এ. কে. আজাদ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, বিজিসি ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, প্রাক্তন সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আফছার উদ্দিন আহমদ ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর সদস্য ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমদ আসিফ।
সমাবর্তনে বক্তা প্রফেসর ইমিরেটাস ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, অন্যকে অনুকরণ করে তোমার জীবনের স্বল্প সময় নষ্ট কর না। তোমার মস্তিষ্কে যা আসে তা করবে। যেটাই ভালো লাগে সেটাই করবে। নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করো যা তোমার সমাজ ও দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজেকে অন্যের সাথে মিলিয়ে হতাশ হয়ে যায়। যা একেবারেই কাম্য নয়। নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করবে না। যখন তুলনা করবে তখন মনে হবে তুমি অদক্ষ। বয়সটা এখন এগিয়ে যাওয়ার। যেমন যৌবনে ইঞ্জিনিয়ার আফছার উদ্দিন আহমদ এই গ্রামীণ জনপদে একটি মানুষ গড়ার কারখানা গড়ে তুলেছিলেন।
বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আফছার উদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্যরা যখন ফ্যাক্টরী করেছে তখন আমিও ফ্যাক্টরী করেছি তবে সেটি কোনো শিল্প কারখানা নয়, আমি করেছি মানুষ তৈরির ফ্যাক্টরী।
অনুষ্ঠানে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ ও শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবারের সমাবর্তনে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের বিবিএ প্রোগ্রামের অধীনে ২০৭৬ জন, এমবিএ প্রোগ্রামে ৮৩৭ জন, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের অধীনে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে ৩৫৫ জন, বি.ফার্ম অনার্স প্রোগ্রামের অধীনে ২৩৩ জন, আইন, কলা এবং সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে বিএ অনার্স ইন ইংলিশ প্রোগ্রামে ২৯৩ জন, ব্যাচেলর অব ল প্রোগ্রামে ৬৮৯ জন এবং এমএ ইন ইংলিশ প্রোগ্রামে ১০৭ জনকে সনদ প্রদান করা হয়।
