আফগানিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ দেখায় ইনিংসের শুরুতে নেমে সেঞ্চুরি করে চমক দেখিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বিশ^কাপেও প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান, ধর্মশালায় ইনিংসের সূচনায় তাকে দেখলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ বিশ্বকাপের দুটো প্রস্তুতি ম্যাচে তার ব্যাটই হেসেছে সবচেয়ে বেশি। তারপরই আছেন তামজিদ হাসান তামিম। সব মিলিয়ে গৌহাটি থেকে হিমাচল যাত্রায় বাংলাদেশ দলের সঙ্গী ব্যাটিংয়ে ফিরে পাওয়া আত্মবিশ্বাস।
এশিয়া কাপে বাংলাদেশের টপ অর্ডারের যে দুরবস্থা দেখা গেছে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজেও সেই দুর্দশা কাটেনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিশ^কাপের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে লিটন দাস আর তানজিদ তামিমের ব্যাটে ১৩১ রানের জুটি খানিকটা আস্থা ফিরিয়েছে। কাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিটন অবশ্য আউট হয়েছেন অল্পতেই (৫)। যদিও লেগ স্টাম্প ঘেঁষে যাওয়া বলটায় যখন কট বিহাইন্ড হলেন, তখন তার ব্যাট ধরা হাতে বল লাগেনি। তানজিদ তামিম ৪৪ বলে ৪৫ রান করে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ওয়ানডাউনে নামা ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও বেশিক্ষণ টেকেননি, ১১ বলে ২ রান করে আউট হয়ে গেছেন। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে মিরাজ আবারও আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। ডেভিড উইলির বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৮৯ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেছেন। বেশ কিছু দর্শনীয় শটে মনে করিয়েছেন স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের মতো। তবে এই দুজন ছাড়া কেউ খুব একটা আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। মুশফিকুর রহিম করেছেন ৮ রান, মাহমুদউল্লাহ করেছেন ১৮ রান, তৌহিদ হৃদয় করেছেন ৫ রান। তাদের কাছ থেকে আরও বেশি রান ছিল প্রত্যাশিত। শেষ দিকের ব্যাটসম্যানরাও রান পাননি। শেখ মেহেদি, নাসুম আহমেদরাও খুব একটা অবদান রাখতে পারেননি। বৃষ্টিতে কমে আসা ৩৭ ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ১৮৮ রানে থেমেছে। ৯ বোলার ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করেছে ইংল্যান্ড, ৩ উইকেট রিস টপলির আর জোড়া শিকার করেছেন আদিল রশিদ ও ডেভিড উইলি। ইংল্যান্ডের সামনে ৩৭ ওভারে লক্ষ্য রাখা হয় ১৯৭ রানের। বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতে ভালোই চেপে ধরে ইংল্যান্ডকে। দাবিদ মালান সিøপে ক্যাচ দিয়েছেন তামজিদ তামিমের হাতে। আগ্রাসী শুরু করা জনি বেয়ারস্টোকে বোল্ড করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। হাসান মাহমুদ বোল্ড করেছেন হ্যারি ব্রুককে। উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম এবং তাসকিন আহমেদও।
তাতে পেসারদের প্রস্তুতি ভালো হয়েছে মনে হলেও দলীয় ১১৪ রানে ৫ উইকেট হারানো ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা জেতে ৭৭ বল হাতে রেখে। ৪ উইকেটে। মঈন আলি ৩৯ বলে ৫৬ ও জস বাটলার ১৫ বলে ৩০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। রুট অপরাজিত থাকেন ২৬ রানে।
দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচেও মাঠে নামেননি নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তবে টসের পর সহ-অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছেন সাকিব সুস্থ আছেন এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামতে তার কোনো অসুবিধা নেই। গৌহাটি থেকে পরের গন্তব্য হিমাচলের ধর্মশালা। আসামের প্রকৃতি থেকে হিমালয়ের প্রকৃতি অনেকটাই আলাদা। তাই বরষাপাড়া থেকে ধর্মশালা বাংলাদেশ দল সঙ্গী করে নিতে পারবে শুধু অভিজ্ঞতাই। কারণ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা শুরু হবে বেলা ১১টায়। তাই দুপুর আড়াইটায় শুরু হওয়া ম্যাচে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরা সকালের শিশিরভেজা উইকেটে হিমেল হাওয়ার বিপক্ষে কতটা কার্যকর হবেন, সেই প্রশ্ন খানিকটা থেকেই যাচ্ছে।
পুরনো একটা প্রশ্ন জেগেছে নতুন করে। লেগস্পিনের বিপক্ষে দুর্বলতা আবারও চোখে পড়েছে। মাত্র ৫ ওভার বল করেছেন আদিল রশিদ, ২৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। মুশফিকুর রহিম এবং মাহমুদউল্লাহর মতো অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন রশিদের বলেই। আফগানদের দলে আছেন আরেক রশিদ, রশিদ খান। আদিল রশিদের চেয়ে রশিদ খান আরও ভয়ংকর। বাংলাদেশের বিপক্ষে তার রেকর্ডও ভালো।
সব মিলিয়ে মিরাজ আর তানজিদের প্রস্তুতি হয়েছে ভালো। লিটন একদিন সফল, একদিন ব্যর্থ। মাহমুদউল্লাহ চলনসই। সব মিলিয়ে দেশ ছেড়ে আসার সময় যে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ছিল, সেই গুমোট অনেকটাই কেটেছে। তবে রোদের হাসি এখনো দেখা যায়নি, হিমালয়ের কোলে রোদ হাসলেই হয়।
