বাড়তি কর ও নতুন বিধিনিষেধ আরোপের কারণে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জমির দলিল নিবন্ধনের হার প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে সোনারগাঁ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সরকারি রাজস্ব কমার পাশাপাশি দলিল নিবন্ধনের কাজে সম্পৃক্ত দলিল লেখক, স্ট্যাম্প বিক্রেতা ও কম্পিটার অপারেটরদের আয়ও কমে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে।
সোনারগাঁ উপজেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা হওয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য হারে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জমি নিবন্ধনও এখানে হয়ে থাকে। এতদিন এখানে দৈনিক ১০০ থেকে ১২০টি দলিল নিবন্ধন হলেও গত দুই মাসে এটি ১০ থেকে ১৫টিতে নেমে এসেছে।
এ ছাড়া জমির ক্রেতা-বিক্রেতারাও পড়েছেন নানা রকম বিপাকে। তাই বর্তমানে সোনারগাঁয়ে জমি কেনা-বেচা নেই বললেই চলে।
সরেজমিন সোনারগাঁ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, আগে যেখানে দলিল লেখকদের কাছে জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রচ- ভিড় লেগে থাকত, সেখানে এখন কোনো ভিড়ই নেই। এখানে কর্মরত দলিল লেখকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন।
সোনারগাঁ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আগে যেখানে উৎসে কর ছিল ৪ শতাংশ, সেখানে এটা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮ শতাংশ। পৌরসভার ক্ষেত্রে পৌর কর ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে নিবন্ধনের বাড়তি টাকার চাপে পড়ে অনেকেই জমি কেনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
এ ছাড়া সম্প্রতি জমি নিবন্ধনের জন্য জমির নামজারি ও খাজনা পরিশোধ বাধ্যতামূলক করায় এর নেতিবাচক প্রভাবও পড়েছে।
পৌর এলাকায় জমির দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই টিন সার্টিফিকেট ও আয়কর রিটার্ন সার্টিফিকেট লাগবে। এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের কারণে অনেকেই জমি ক্রয় থেকে বিরত থাকছেন। সোনারগাঁ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক আব্দুর রউফ বলেন, জমির দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাড়তি কর ও নানা নিয়ম-কানুন আরোপ করায় দলিল নিবন্ধন প্রায় বন্ধের পথে। ফলে দলিল লেখকরা সংকটের মধ্যে পড়েছেন।
সোনারগাঁ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার আ ন ম বজলুর রহমান মন্ডল জানান, সোনারগাঁ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন গড়ে ১০০-এর ওপর দলিল নিবন্ধন হতো, কিন্তু এখন ১০ থেকে ১৫টির বেশি হচ্ছে না। ফলে সরকার এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। তাছাড়া ক্রেতা-বিক্রতারাও নানা বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েছেন নতুন জমি নিবন্ধনের নিয়ম-কানুনের কারণে।
