অর্থনীতির জন্য আরও দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি। বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে ২২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। আগস্টে এই হার ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যা আগের মাস আগস্টে ছিল ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ।
অন্যদিকে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও নিয়ন্ত্রণের বাইরেই রয়ে গেছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গড় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস হলো মূল্যস্ফীতি বাড়বে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার চারটি কারণ চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। এগুলোর অন্যতম রিজার্ভ সংকট। এর মধ্যে সরকারের বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। প্রবাসী আয় সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিদেশি ঋণের অর্থছাড়ও কম। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে পাঁচ ঘরে চলে আসবে।
সরকার মূল্যস্ফীতি কমাতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বললেও বাজারে এর প্রতিফলন নেই। উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে উচ্চ মূলস্ফীতির চারটি কারণ চিহ্নিত করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাটি বলছে, অভ্যন্তরীণ জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া, দুর্বল মুদ্রানীতি, টাকার অবমূল্যায়ন ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে আমদানি কমে যাওয়ায় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ ও ভুটানে বিশ^ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরে (২০২৩-২৪) বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
দেশে নিত্যপণ্যের দাম দিন দিন বাড়তে থাকায় স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। গত আগস্টে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বব্যাংক বলছে, গত দুই মাসে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের দুর্বলতায় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাচ্ছে।
এই মুহূর্তে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জরুরি সংস্কার নীতি প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ঝুঁকির তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধীরগতিতে চলবে। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, বহিঃখাতের চাপ, আর্থিক খাতের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা প্রবৃদ্ধির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুদ্রার বিনিময় হারের বৈষম্য দূর করা ও বিনিময়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হার তুলে দেওয়ার ওপর বাহ্যিক খাতের স্থিতিশীলতা নির্ভর করে।
বিশ্বব্যাংক মনে করে, বাংলাদেশের সুদের হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি, এটি একটি শঙ্কার কারণ। সুদহারের সীমা মুদ্রানীতির দুর্বলতার একটি বড় দিক।
বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আর্থিক নীতিগুলো বাহ্যিক চাপের প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যার মধ্যে মুদ্রার একাধিক বিনিময় হার এবং আমানত ও ঋণের সুদহারের সুনির্দিষ্ট সীমা দায়ী। ফলে ভোগ্যপণ্যের বাজারে চাপ পড়েছে।
মানুষের খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, খাদ্যের দাম মজুরির চেয়ে বেশি। এটি প্রতিটি পরিবারের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আর্থিক খাতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির গতি কমেছে। কাঁচামাল, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে শিল্প উৎপাদন ধীর হয়ে গেছে।
আসন্ন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির জন্য ঝুঁকির কারণ বলে উল্লেখ করা হয় বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, দেশীয় ও বৈশ্বিক পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকতে পারে। তা ছাড়া নির্বাচনের অশ্চিয়তাও অর্থনীতির ঝুঁকির অন্যতম কারণ।
বিশ্বব্যাংক বলছে, আর্থিক সংকোচন, রাজস্ব ঘাটতি এবং বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাস প্রবৃদ্ধি কমার অন্যতম কারণ। ভঙ্গুর রাজস্ব আহরণের কারণে নানা ঝুঁকি রয়েছে। ঋণখেলাপির ঝুঁকি, ঋণ নেওয়ার খরচ বৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগত খাতে ঋণ নেওয়ার সংকট তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি মনে করে, মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সংস্কারের সঙ্গে আর্থিক খাতের দুর্বলতাগুলো দূর করতে হবে। এটা দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে এবং দারিদ্র্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বৈদেশিক মুদ্রার একটি একক বাজারভিত্তিক বিনিময় হার আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াবে। এতে করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মুদ্রার ভারসাম্য এবং রিজার্ভ বাড়বে।
আবদুলায়ে সেকের মতে, এই চ্যালেঞ্জিং অবস্থার প্রেক্ষাপটে, আনুমানিক প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে গত অর্থবছরে ৬ শতাংশে নেমে আসে; যা আগের অর্থবছরে (২০২১-২২) ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ প্রবৃদ্ধি আরও মন্থর হয়ে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হবে।
তিনি বলেন, মধ্যমেয়াদে আমদানি মূল্য স্থিতিশীল হওয়ার কারণে মূল্যস্ফীতি সামনের কয়েক মাসে আরও বাড়বে। এটি কমবে ধীরে ধীরে। বৈশ্বিক অবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ বিনিময় হার, আর্থিক এবং রাজস্বনীতির কারণে চলতি অর্থবছর আর্থিক খাতের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।
জরুরি আর্থিক সংস্কারের পরামর্শ দিয়ে আবদুলায়ে সেক বলেন, ‘গত দুই মাসের রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে দুর্বল অবস্থা দেখতে পাচ্ছি। জরুরি নীতি সংস্কার আর্থিক সংকট দ্রুত পুনরুদ্ধারে অবদান রাখবে। মুদ্রার বিনিময়হার নমনীয় হলে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করবে।’
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, দেশে ২০২৫ সালে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারতে ৬ দশমিক ৩ ও মালদ্বীপে ৫ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কায় প্রবৃদ্ধি ছিল নেতিবাচক, মাইনাস ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৪ সালে দেশটি ঘুরে দাঁড়াবে, প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৭ শতাংশ।
এর আগে বাংলাদেশে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭ দশমিক ১ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।
বেসরকারি ঋণে ২২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি : টানা দ্বিতীয় মাসের মতো দেশের বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ২ অঙ্কের নিচে। গেল আগস্টে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশে। আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ; অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি কমেছে দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। ২২ মাস আগে ২০২১ সালের অক্টোবরে বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
ব্যাংকাররা বলছেন, ব্যাংকে তারল্যসংকটের প্রভাব পড়েছে ঋণ বিতরণে। আমানতে কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি না হওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে গেছে। ফলে আগের অর্থবছরের চেয়ে কম প্রবৃদ্ধি ধরা হলেও চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ব্যাংক খাত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পদ্ধতিগত কারণে বাজার থেকে টাকা উঠে যাওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আমানতে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে খুব কম। এর মধ্যে বেনামি ঋণসহ বিভিন্ন কারণে অনেকে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে হাতে রাখছেন। এতে করে সৃষ্ট তারল্যসংকটের কারণে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটিসহ মোট আটটি ব্যাংক অনেক দিন ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) রাখতে পারছে না। এমনকি জরিমানার টাকাও পরিশোধ করতে পারছে না কোনো কোনো ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত আগস্ট শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। আগের বছরের আগস্ট শেষে যা ছিল ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা। এ হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। ঋণস্থিতির হিসাব হয় সুদসহ। ফলে নিট ঋণ যে এত বেড়েছে তা নয়। বেসরকারি খাতে পরিস্থিতি এ রকম হলেও সরকারের ঋণ বাড়ছে দ্রুত। যদিও সরকার চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ঋণ পরিশোধে মনোযোগী হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পরিশোধ করছে।
সাধারণভাবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ২ অঙ্কের ঘরে থাকে। তবে ২০১৯ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো তা নেমে যায় ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশে। করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর ব্যাপক হারে কমে গিয়ে ২০২০ সালের মে মাসের শেষে প্রবৃদ্ধি নামে ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে। তবে পরের মাস জুন থেকে তা অল্প অল্প করে বাড়তে থাকে। কিন্তু বর্তমানে ব্যবসায় পরিস্থিতি ঠিক থাকার পরও ২০২১ সালের অক্টোবরের পর টানা দুই মাস বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি ১ অঙ্কের ঘরে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বেসরকারি খাতে ঋণ কমে গেলে নতুন কর্মসংস্থানে তা বাধা তৈরি করে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, ডলার সংকট, মুদ্রা পাচার এবং আমদানি কমে যাওয়ায় দেশে উৎপাদন কমেছে। এটা নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া সার্বিকভাবে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ পরিবেশ না থাকায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশ ব্যাংকের করা প্রাক্কলনের চেয়েও কম। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছর প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। এরও আগের অর্থবছর ২০২১-২২-এ প্রাক্কলন করেছিল ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। যদিও প্রাক্কলিত হারের চেয়ে লক্ষ্যমাত্রার অর্জন ছিল অনেক কম।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের আগস্ট শেষে দেশের ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকা। এসব ঋণের বেশিরভাগই নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। যদিও চলতি অর্থবছর বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ কমানোর চেষ্টা করছে সরকার।
ব্যাংকারদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাজারে টাকা ছাড়ার ফলে নোটের পরিমাণ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১ টাকা বাজারে ছাড়লে তা ৫ গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
অর্থনীতির সূত্র বলে, অর্থের প্রচলন বেড়ে গেলে পণ্য ও পরিষেবার চাহিদা বেড়ে যায়, ফলে আমদানিও বাড়ে।
এসব বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া মানে বাজারে টাকা ছাড়া, যা মুদ্রাস্ফীতি ও লেনদেন ভারসাম্যের (বিওপি) ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। অর্থায়ন কমে যায় বেসরকারি খাতে। ফলে কমে যেতে পারে নতুন কর্মসংস্থান। জনগণের হাতে অতিরিক্ত অর্থ থাকলে পণ্যের চাহিদা তৈরি হবে, যা দাম বৃদ্ধি করবে।
