ছবিটি ২০১০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তোলা, ঢাকার কচিকাঁচা মিলনায়তনে। দিনটি আমার জন্য খুবই স্মরণীয় ছিল।
একজন মানুষ— আসাদ চৌধুরী। বাংলা ভাষার একজন কবি— প্রথমবার যার মুখোমুখি হয়ে আক্ষরিক অর্থেই আমি কেঁপে উঠেছিলাম। মনে হয়েছিল, আমি সত্যিই কবি আসাদ চৌধুরীর সামনে বসে আছি! তার সাথে দীর্ঘ কথা হয়েছে আমার।
কেন জানি না, সেই সময় আমি আসাদ চৌধুরীর মতোই হতে চেয়েছি। তার কবিতা আমাকে আক্রান্ত করেছে। তার কথায় মনমুগ্ধ হয়েছি বারবার। কবি আল মাহমুদ ও আসাদ চৌধুরীর সাথে একটি অনুষ্ঠান সেই সময়ে উপস্থাপনার সুযোগ হয়েছিল আমার। প্রবল ইচ্ছা ছিল কবি হবো।
তবে স্মৃতিতে যতটুকু মনে পরে আসাদ চৌধুরী নসিহত করেছিলেন যখন যা মনে পড়ে তা সুন্দর করে লিখে রাখতে। সুন্দর করে কথা বলার পরামর্শও দিয়েছিলেন তিনি।
কাঁধে ঝোলা, পান খাওয়া লাল ঠোঁট। স্মিত হাসিমাখা মুখে জর্দার ম-ম ঘ্রাণ। আজও যেন চোখের সামনে ভাসে। অথচ তিনি নেই। ঢিলেঢালা রঙিন শার্ট বা পাঞ্জাবি ছাড়া খুব একটা দেখা যায়নি মাটি ও মানুষের কবি, প্রেম ও প্রতিবাদের কবি আসাদ চৌধুরীকে। কথা বলতেন শুদ্ধ বাংলায়। সহজ-সরল মেদহীন অকৃত্রিম ভাব ও ভাষা ছিল কণ্ঠে।
আসাদ চৌধুরী একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও আবৃত্তিকার। আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি। সাহিত্যে তিনি গণমুখী, নান্দনিক ও রোম্যান্টিক। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বাংলার লোকায়ত জীবন সবই তার লেখায় স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তুলেছেন।
তবে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম এ কবির জীবনে অনেক অপ্রাপ্তি রয়ে গেছে। বাংলা কবিতা, সাহিত্যে তার যে অবদান সেই অর্থে তার কদর আমরা করতে পারিনি। আল্লাহ তার কবরকে জান্নাতের বাগান করে দিন।
লেখক: যুগ্ম সম্পাদক, খুলনা প্রেসক্লাব