কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ছালেহ আহমেদ পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় গরুর মৃত্যু ও সরকারি ওষুধ বিতরণ করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মৌকরা ইউপির নান্দেশ্বর গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ভূইয়ার ছেলে মানিক ভূইয়া ১৫ দিন আগে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় একটি দুধেল গাভী ক্রয় করেন। প্রতিদিন ওই গাভী থেকে তিনি ১৭ লিটার দুধ পাচ্ছিলেন। গত শুক্রবার হঠাৎ গাভীটি খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিলে মানিক উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ছালেহ আহমেদ পাটোয়ারীকে গরুটি দেখান। তিনি গাভীটি দেখে বেশ কয়েকটি ইঞ্জেকশন দেন। পরে ১৫০০ টাকা ভিজিট নিয়ে চলে যান। কিন্তু এরপর থেকে ধীরে ধীরে গাভীটি আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর গত মঙ্গলবার ছালেহ আহমেদ পাটোয়ারী গিয়ে আরও কয়েকটি ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর ১০ মিনিটের মধ্যে গাভীটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ইঞ্জেকশনের প্রতিক্রিয়ায় গাভীটি নীল বর্ণ ধারণ করে বলে জানান মানিক ভূইয়া।
পাশাপাশি একই দিনে চাঁনগড়া গ্রামের ছালেহ আহমেদ মেম্বারের উন্নত জাতের দুটি বাছুরও মারা যায় ছালেহ আহমেদ পাটোয়ারীর ভুল চিকিৎসায়। ছালেহ আহমেদ মেম্বারের কাছ থেকেও ২০০০ হাজার টাকা ভিজিট নেন ছালেহ আহমেদ পাটোয়ারী।
এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান মেহেবুবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ছালেহ আহমেদ মেম্বার ও মানিক ভূইয়া।
পৌর সদর বাজারের আব্দুল আউয়াল ও রায়কোট উত্তর ইউপির রায়কোট গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার জানান, প্রায় ১২ বছর ধরে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ছালেহ আহমেদ পাটোয়ারী তার স্ত্রীকে নিয়ে একই অফিসে চাকরি করছেন। নাঙ্গলকোটের প্রতিটি খামারিকে জিম্মি করে গরুর চিকিৎসা করেন তিনি। ভুল চিকিৎসায় তার হাতে গত দুই বছরে শতাধিক গরু মারা গেছে। গরুর চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কারও বাড়িতে গেলে কম টাকা দিলে দ্বিতীয়বার তার বাড়িতে আর যান না তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ছালেহ আহমেদ পাটোয়ারী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে নিয়োগ পেয়েছেন গরু প্রজননের ডাক্তার হিসেবে। এর বাইরে তিনি কোনো অসুস্থ গরুকে চিকিৎসা দিতে পারেন না। কিন্তু তিনি এলাকায় অনেক পুরাতন এবং সারাক্ষণ মাঠে মাঠে ঘুরে অসুস্থ গরুর চিকিৎসা দিচ্ছেন। সিনিয়র মানুষ সে জন্য কেউ কিছু বলি না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ছালেহ আহমেদ পাটোয়ারী বলেন, আমার চিকিৎসার কারণে গরুগুলো মারা যায়নি। সরকারি ওষুধ দিয়ে বেশি টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুশি মনে যে যা দেয়। আমি তাই নিই।
নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান মেহেবুব দেশ রূপান্তরকে বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের আলোকে তদন্ত কমিটি গঠন করে সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চন্দন কুমার পোদ্দার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভুল চিকিৎসায় গরু মারা যাওয়ার ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওষুধ সংকট নেই।
