২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় দুশ্চিন্তায় জেলেরা

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৩, ১২:৩৫ এএম

ইলিশ আহরণের মৌসুম প্রায় শেষ। আগামীকাল ১২ অক্টোবর থেকে টানা ২২ দিনের জন্য বন্ধ হচ্ছে সমুদ্রে ইলিশ আহরণ। এই নিষেধাজ্ঞায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার উপকূলের জেলেরা পড়েছে দুশ্চিন্তায়। সরকার ঘোষিত ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সমুদ্রে গিয়েছে জেলেরা। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় বারবার সমুদ্রে গিয়ে ফিরতে হয়েছে তাদের। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে অনেক জেলেই ঠিকভাবে মাছ ধরতে পারেনি। এখন আবহাওয়া ঠিক থাকলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা মাছ ধরতে পারছে না। ফলে পরিবার সংসার নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলেরা। তারা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরও পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া জেলেদের রয়েছে নানা অভিযোগ। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য সরকারিভাবে চালের বরাদ্দ থাকলেও নিবন্ধনের বাইরে থাকা জেলেরা সেই চাল পান না।

উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, রাঙ্গাবালীতে নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ১২ হাজার ৮২০ জন। এ ছাড়া নতুন করে নিবন্ধিত হচ্ছেন আরও ৩ হাজার ৯৯৭ জন।

রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজের জেলে মনির হাওলাদার বলেন, ‘৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা গেল। তারপর সাগরে গেলেও তেমন কোনো মাছ পাইনি। তারপর যেই একটু মাছ জালে ধরা পড়েছে, তখনই আবার আবহাওয়া খারাপ। সাগর উত্তাল থাকার কারণে আমাদের বেশিরভাগ সময় ঘাটে থাকতে হয়েছে। ঠিকভাবে মাছও ধরতে পারিনি। এখন আবার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, কীভাবে সংসার চলবে? নিষেধাজ্ঞার যে চাল সেটা যদি ঠিক সময় দিত তাও চলত, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পরে আমরা চাল দিয়ে কী করব।’

সাগর থেকে মাছ নিয়ে কোড়ালিয়া ঘাটে ভিড়েছে একটি ট্রলার। ট্রলারের মাঝি জুলহাস চৌকিদার বলেন, ‘সাগর উত্তাল থাকার কারণে সাগরে গিয়েছি আর এসেছি। সরকার যদি অবরোধটা একটু পিছিয়ে দিত, তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো।’

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, একোয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের একোয়াকালচার বিভাগের চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এবার আমাদের দেশের নদীগুলোতে জেলেরা প্রত্যাশিত ইলিশ পায়নি। তাদের জন্য এখন অবরোধ আরেকটি বাড়তি চাপ। এখন জরুরিভাবে নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারের দেওয়া খাদ্য সহায়তা সঠিক সময়ে যাতে পায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। বেশিরভাগ সময় নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে চাল পায় জেলেরা, যা কোনো কাজেই আসে না। নিবন্ধিত জেলেদের বাইরে অনিবন্ধিত অনেক জেলে আছে, যারা নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারের সহায়তা বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমেদ আখন্দ বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা সফল করতে ইতিমধ্যে প্রতি ইউনিয়নে উঠান বৈঠকসহ চলছে ধারাবাহিক গণসংযোগ। এ ছাড়া মাইকিং করা হয়েছে। এবার নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই জেলেদের চাল দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই চালের বরাদ্দ হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত