‘তত্ত্বাবধায়ক’ মানার ঘোষণা দিলে সংলাপ হতে পারে

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৩, ০২:১৪ এএম

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিলে সরকারের সঙ্গে বিএনপির আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, নিরপেক্ষ সরকার কীভাবে হবে আলোচনা হতে পারে সেটা নিয়ে।

গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

গত সোমবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঢাকায় সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের বৈঠক হয়। ওই বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সমঝোতার পথ বিএনপি বন্ধ (ব্লক) করে দিয়েছে।’

এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্য বাজে কথা। এটা কত বড় মিথ্যা কথা আপনারা ভালো করেই জানেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বরাবরই বলে এসেছি, একটা বিষয় আলোচনা হতে পারে, অন্য কোনো বিষয় না। সেটা হচ্ছে নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে আলোচনা। তবে সেটা অবশ্যই সরকারকে আগে ঘোষণা দিতে হবে। তাদের বলতে হবে, আমরা মেনে নেব (নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার)। এবার আসো নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের বিষয়ে কথা বলি। এটা কীভাবে হতে পারে। বাট সি মাস্ট রিজাইন (শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে)।’

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতার বিষয়ে তার চিকিৎসকদের বক্তব্যে দেশবাসীর মতোই দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী-সমর্থকরা উদ্বিগ্ন। তার অসুস্থতার বিষয়টা আমরা বারবার দেশের জনগণ ও গণতান্ত্রিক বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছি। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারটা এখন যেভাবে আছে তাতে এটা পরিষ্কার, সরকার খালেদা জিয়াকে হত্যা করতে চায়। চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়ার মানে কী? হত্যা করা।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিএনপি গঠিত মেডিকেল বোর্ড গত সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে তার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটি বৈঠকে আবারও খালেদা জিয়াকে তার মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত বিদেশে পাঠাতে সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়েছে।

২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে সরকার খালেদা জিয়াকে মিথ্যা অভিযোগে করা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ফখরুল। তিনি বলেন, ‘একইভাবে সামনে যেহেতু নির্বাচন, দেশনেত্রী যাতে বাইরে যেতে না পারেন এবং সুচিকিৎসা করে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আবার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করতে না পারেন। সেজন্য সরকার তাকে হত্যা করতে চায়।’

বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল, এমন মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ গণ-আন্দোলনে বিশ্বাসী। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগোচ্ছি।’ সরকার দেশকে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্যটাই হচ্ছে, দেশে একটা সাংঘর্ষিক অবস্থা সৃষ্টি করে আবার ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো নির্বাচন করা। তারা ভাবছে একতরফা নির্বাচন। কিন্তু এবার সেটা সম্ভব হবে না। খুব পরিষ্কার করে বলে দিয়েছি, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে।’

এভাবে নির্বাচন করে কোনো লাভ নেই, নির্বাচন কেউ গ্রহণ করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জোর করে কিছু হতে পারে না। এবারও কোনো লাভ হবে না। অসম্ভব। সংগ্রাম প্রতিদিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই সরকার জনগণের রুদ্ররোষের শিকার হয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হবে।’

ফখরুল বলেন, ‘ইলেকশন অবজারভার পাঠাবে কি পাঠাবে না সেটা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা এসেছেন। আমরা তাদের বলেছি, যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এ অবস্থায় কোনো নির্বাচন হতে পারে না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা না দেওয়া ছাড়া এখানে কোনো নির্বাচন হতে পারে না।’

গত মঙ্গলবার রাতে দলের নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেন মির্জা ফখরুল। দলের কেন্দ্রীয় নেতা আসলাম চৌধুরী, সালাউদ্দিন আহমেদ, জি কে গউস, শফিকুল আলম মিলন, শেখ রবিউল আলম রবি, রফিকুল আলম মজনু, তানভীর আহমেদ রবিন, এসএম জাহাঙ্গীর প্রমুখ জামিন পাওয়ার পর জেলগেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত