আগাম জাতের ফুলকপি আবাদ করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার দেড়শতাধিক কৃষক। অভিযোগ, ভেজাল বীজের কারণে এ বছর ফুলকপিতে ফুল আসেনি। কেটে ফেলতে হচ্ছে গাছ। এতে কৃষকের ক্ষতি হয়েছে কোটি টাকার বেশি।
গত বৃহস্পতিবার বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের নলিয়া মাঠে গিয়ে দেখা যায়, অমল ম-ল নামে (৬০) এক কৃষক কপি গাছ কেটে জমি পরিষ্কার করছেন। অমল ম-ল বলেন, তিন মাস আগে এই কপির চারা মাঠে রোপণ করি। প্রতি বছর ৬০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যেই আমরা কপি বিক্রি শুরু করি। কিন্তু এ বছর লাগানোর ৯০ থেকে ১০০ দিন পার হলেও কোনো গাছে কপির ফুল আসেনি। গাছ পচে যাচ্ছে। এখন কপির গাছ কেটে জমি পরিষ্কার করছি।
মাঠ ঘুরে আরও দেখা যায়, অমল ম-লের মতো অধিকাংশ কৃষকের কপি ক্ষেতে কোনো ফুল আসেনি। অনেক কৃষক এরই মধ্যে কপি গাছ কেটে নতুন চারা রোপণ করছে। কেউ আবার জমি পরিষ্কার করছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় জামালপুর বাজারের ‘স্বাধীন বীজ ভা-ার’ থেকে এসব কৃষক ‘সিলভার ক্রাউন ৫০’ নামে ফুলকপির বীজ কিনে চারা দেয়। বীজতলায় ৯০ ভাগ বীজ থেকে চারা জন্মও নেয়। সিলভার ক্রাউন ৫০ নামের এই ফুলকপির জাতটি বৃষ্টি সহনশীল এবং আগাম জাতের। বেশ কয়েক বছর ধরে এ অঞ্চলের কৃষক সিলভার ক্রাউন নামের এ জাতের কপির আবাদ করে থাকে। অতীতে কোনো সমস্যা হয়নি। এ বছর এমন সর্বনাশের জন্য কৃষকরা অভিযোগ করছেন বীজ ব্যবসায়ীকে। কৃষকদের অভিযোগ, সিলভার ক্রাউন ৫০ বীজের বদলে ভেজাল ও নিম্নমানের বীজ বিক্রি করেছে ব্যবসায়ী। ফলে কোনো গাছে ফুল আসেনি। চাষিরা সর্বস্বান্ত হয়েছে।
কৃষক নাসির উদ্দিন বলেন, সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ১২০ শতক জমিতে কপির আবাদ করেছি। এক লাখ টাকার ওপরে খরচ। এখন মাঠে এলে বুক ফেটে কান্না আসে। আমার বাবা এই পরিস্থিতি দেখে দুইবার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। লাভ দূরে থাক, এ বছর সমিতির টাকা কীভাবে পরিশোধ করব সেটা নিয়েই রাতে ঘুম আসে না।
হাজরা বৈরাগী বলেন, আমাদের জামালপুর ইউনিয়ন জেলার মধ্যে কপি চাষে বিখ্যাত। আমরা ভাদ্র মাস থেকে কপি বিক্রি শুরু করি। এ বছর এই ইউনিয়নের দেড়শোর বেশি কৃষক এই বীজের কারণে এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আসলে আমরা প্রতিকার চাইব কোথায়। কৃষি অফিসের লোকজন এসে ঘুরে যায়। যে দোকান থেকে কিনেছি তারাও এখন তেমন গুরুত্ব দেয় না। এই গ্রামের কৃষকরা কোটি টাকার বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ী স্বাধীন বীজ ভা-ারের মালিক নূর মো. সফিউদ্দোলাহ বলেন, বীজে কোনো সমস্যা নেই। কপির বীজে সমস্যা থাকলে সেটি বীজতলাতেই বোঝা যায়। এ বছর তাপমাত্রা বেশি হওয়ার কারণে কপিতে ফুল আসেনি। সিলভার ক্রাউন ৫০ জাত ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ফলন ভালো হয়। এ বছর তাপমাত্রা বেশি ছিল।
বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে মাঠে গিয়েছিলাম। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং বিক্রেতার সঙ্গেও কথা বলেছি। কী কারণে ফুলকপিতে এমন বিপর্যয় এলো বিষয়টি অনুসন্ধানে আমরা তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করেছি।
