মিরপুরে আধিপত্য বিস্তারের বলি স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:১৪ এএম

রাজধানীর দারুস সালাম থানা এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত শাহ আলম (৩৫) আধিপত্য বিস্তারের বলি হয়েছেন বলে মনে করছেন তার পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সৈয়দ আলী দারুস সালাম থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ আজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫/৭ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। তবে এ ঘটনায় পুলিশ গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

গত শনিবার রাত ১০টার দিকে দারুস সালামের লালকুঠি বর্ধনবাড়ি দ্বিতীয় কলোনির সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শাহ আলমের মৃত্যু হয়। তার গ্রামের বাড়ি ঢাকার সাভারের মুগরাকান্দা এলাকায়।

বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন জানান, শাহ আলম ১০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন। আর এই ওয়ার্ডের কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য নাবিল খান এবং দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোহাব্বত ইসলাম গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। শাহ আলম নাবিলের অনুসারী ছিলেন। শনিবার উত্তরায় একটি অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফেরার পথে ইসলাম ও তার সহযোগীরা হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে শাহ আলমকে হত্যা করে।

জানা গেছে, গত শনিবার মিরপুরের কাওলায় আওয়ামী লীগের জনসভায় গিয়ে নাবিল গ্রুপের হাতে মার খান ইসলাম। এর জের ধরেই শনিবার রাতে সংঘর্ষে জড়ান তারা। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক জখম করা হয় শাহ আলমকে। প্রথমে তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শাহ আলমকে মৃত ঘোষণা করেন।

এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, রাজধানীর অন্যতম বাস টার্মিনাল গাবতলীর পাশের দারুস সালাম এলাকার বিভিন্ন ফুটপাত, লেগুনা ও বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি চলে। নাবিল ও ইসলাম গ্রুপের সদস্যরা পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। আর এ কারণে কমিটি নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব। কমিটিতে থাকতে পারলে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া তাদের জন্য সহজ হয়।

শাহ আলম হত্যার ঘটনায় তার বাবা সৈয়দ আলী থানায় মামলা করেছেন। তিনি এজাহারে বলেছেন, ইসলাম (৫০), তার ছেলে শান্ত (২৫), শেখ সুমন (২৭), লিমন (৩৬), শাওন (২৪), আফজাল হোসেন গোলাপ (৩২), এনামুল করিম খোকন (৩৫), আফজাল ওরফে পাকিস্তানি আফজাল (৩২), শরিফুল ইসলাম রিজভী (২৬), জাহাঙ্গীর শেখ (৪২), রাসেল (৩৫), দীপংকর (৩৬), মো. রাজু (২৬) ও ইমরান হোসেন ওরফে ইতালী ইমরানসহ (২৮) অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫/৬ জন শনিবার রাত ১০টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ছেলের ওপর হামলা করে। হামলার একপর্যায়ে তার ছেলে মাটিতে পড়ে যায়। তখন ইসলামসহ  শান্ত, সুমন, লিমন, শাওন ও গোলাপ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ছেলেকে আঘাত করে। শাহ আলমের বাম পায়ের ঊরুর পেছনে ৫টি কোপ লাগে এবং ডান পায়ের ঊরুর পেছনে একটি কোপ লাগে। তখন লোকজন চলে এলে আসামিরা পালিয়ে যায় এবং হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার ছেলের মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (দারুস সালাম জোন) মফিজুর রহমান পলাশ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটা রাজনৈতিক কোন্দল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম। তাদের গ্রেপ্তার করা গেলে পুরো বিষয় খোলাসা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত