‘শব্দহীন’ কর্মসূচিতেও শব্দের বিস্ফোরণ

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:৪৬ এএম

শব্দদূষণ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে ‘১ মিনিট শব্দহীন’ কর্মসূচি পালন করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ সব স্কুল-কলেজগুলোও অংশ নেয়। কর্মসূচি সফল করতে ঢাকা শহরের ১১টি পয়েন্টে সকাল ১০টা থেকে ১০টা ১ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান নেয় তারা। তবে রাস্তায় ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান ছাড়া খুব বেশি কাজে আসেনি এই কর্মসূচি। কারণ কর্মসূচি চলাকালেই যানবাহনের হর্ন শোনা গেছে।

গতকাল রবিবার ঘড়িতে তখন সময় সকাল ৯ টা ৫৮ মিনিট। শাহবাগের সব রুট বন্ধ করে দেয় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ। উদ্দেশ্য শাহবাগ এলাকা শব্দহীন রাখা। কিন্তু তখনো থেমে নেই শব্দের যন্ত্রণা। সিগনালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোর হর্ন বন্ধ থাকলেও আশপাশে অনবরত হর্ন বাজতে থাকে। ১০টা ২ মিনিটে যখন সিগনাল ছেড়ে দেয়, তখন শুরু হয় শব্দের বিস্ফোরণ।

শব্দহীন কর্মসূচি চলাকালে বারডেমের সামনে অনবরত হর্ন বাজাচ্ছিলেন এক মোটরবাইকচালক। কেন হর্ন বাজাচ্ছেন জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘জরুরি কাজ আছে, যেতে হবে। কিন্তু সামনের বাসটি যাচ্ছে না, তাই হর্ন দিচ্ছিলাম।’ শব্দহীন কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছু জানি না। জানলে হর্ন দিতাম না।’

একইভাবে হর্ন বাজাচ্ছিলেন পেছনে অবস্থানরত আরেক সিএনজিচালক। তাকেও একই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছু জানি না। একটু আগেই একজন স্কাউট সদস্য সতর্ক করে গেছে, সেটা শুনেছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খেয়াল করিনি।’ গাবতলী রুটের ৮ নম্বর বাসের চালক বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না। জানলে হর্ন বাজাতাম না।’

এদিকে শব্দহীন কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর যখন সিগন্যাল ছেড়ে দেওয়া হয়, তখন যেন শব্দের বিস্ফোরণ ঘটে। অনবরত হর্ন বাজতে থাকে যাত্রীবাহী বাস থেকে শুরু করে সব ধরনের পরিবহনে।

মিরপুর-সদরঘাট রুটে চলাচল করা বিহঙ্গ বাসের এক চালক বলেন, ‘শব্দদূষণে আমাদেরও ক্ষতি হয়। কিন্তু হর্ন  না দিলে তো কাজ হয় না। আমার গাড়ির পেছনে হর্ন দিচ্ছে। তাই আমিও বাধ্য হয়ে দিচ্ছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত