দুই ভুল নীতির মাশুল দিচ্ছে অর্থনীতি

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৩, ১০:৪০ পিএম

সরকারের দুই ভুল নীতির মাশুল গুনছে দেশের অর্থনীতি। এগুলোর একটি ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। অন্যটি হচ্ছে সুদের হার বেঁধে রাখা। এ দুই কারণকে কেন্দ্র করে অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রেও সংকট তৈরি হয়েছে। সংকট দূর করতে অর্থনীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দিয়ে শক্তিশালী করতে হবে। কিছু কিছু নীতি সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। বাকি বিষয়গুলোতে নীতি সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।

‘বাংলাদেশের অর্থনীতি : বিকাশমান কাঠামোগত সমস্যা এবং সংশোধনের ব্যবস্থা’ শিরোনামের এক সেমিনারে  গতকাল মঙ্গলবার এ বক্তব্য উঠে আসে। বেসরকারি সংস্থা ‘উন্নয়ন সমন্বয়’ রাজধানীর বাংলামোটরে নিজস্ব কার্যালয়ে এ আয়োজন করে।  প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং  উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান ড. আতিউর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সদস্য ড. মিজানুর রহমান।

অর্থনীতির বিকাশমান কাঠামোগত সমস্যা এবং নীতি সংশোধনমূলক পদক্ষেপ- বিষয়ে নিজস্ব একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের অধ্যাপক বিরুপাক্ষ পাল। প্রবন্ধে  বলা হয়, উন্নয়নের উদাহরণ সত্ত্বেও সম্ভাবনার তুলনায় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখনো অনেক কম। ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের দুর্বল সুশাসন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবায় মানের সংকট, দক্ষতা এবং মানসম্পন্ন শিক্ষার অভাবসহ এরকম আরও কিছু কারণের কথা উল্লেখ করেন তিনি। 

বিরুপাক্ষ পাল বলেন, দুই ভুল নীতির মাশুল গুনছে দেশের অর্থনীতি। কৃত্রিকভাবে ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা এবং একইভাবে সুদের হার বেঁধে রাখা। ডলারের  বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ধরে রাখার চেষ্টার কারণেই হুন্ডি বেড়েছে, কমেছে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ। ঋণ এবং আমানতের সুদের হার কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। তবে এখনো পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি। টাকা-ডলার এবং ঋণ- আমানতের সুদের হার বাজারের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন নীতি সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দিয়ে শক্তিশালী করতে হবে।

ড. মসিউর রহমান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত নীতি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামীতে আরও পরিবর্তন দেখা যাবে। নীতি পদক্ষেপ গ্রহণের উদাহরণ হিসেবে মসিউর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চাহিদার লাগাম টেনে ধরা অন্যতম একটি হাতিয়ার। চাহিদা কমানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন আরও নীতি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে  বাংলাদেশের সামনে যে সব সম্ভাবনা রয়েছে নীতি সহায়তার মাধ্যম সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। তবে সব নীতি পদক্ষেপই পর্যায়ক্রমে করতে হবে। যাতে সব পক্ষের জন্য তা সহনীয় হয়।

ড. আতিউর রহমান বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কারের দিকেই যেতে হবে। এতে সাময়িক কিছু অসুবিধা হলেও প্রকৃতপক্ষে হতাশা বা ক্ষতির চেয়ে সম্ভাবনা বেশি তৈরি হবে। তিনি বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। এ সমস্যার প্রতিফলনই দারিদ্র্য। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঠামোগত সমস্যা কীভাবে মোকাবিলা করা যায় সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। তার মতে, কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যেই অর্থনৈতিক অভিযাত্রায় গত ৫০ বছরে এগিয়েছে দেশ। ৫০ বছর শেষে এখন কাঠামোগত সমস্যা এবং নীতি চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। 

পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন  ড. বিরুপাক্ষ পাল। টাকা-ডলারের বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দিলে ডলারের দাম ১৫০ টাকায় উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, অসহনীয় এ পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া যাবেÑ এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটা পর্যায়ে ওঠার পর বাজার আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এতে সাময়িক কিছু অসুবিধা হলেও পর্যায়ক্রমে সমন্বয় হয়ে আসবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত