সমস্যায় জর্জরিত যবিপ্রবির ভেটেরিনারি অনুষদ

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৩, ১০:৪২ পিএম

নানা সমস্যায় জর্জরিত যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আগের ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজকে যবিপ্রবির অনুষদ হিসেবে যুক্ত করা হয়। তবে প্রায় ৩৬০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র দুজন স্থায়ী শিক্ষক, রাজনৈতিক অস্থিরতা, কর্মক্ষেত্রে কর্মচারীদের অনুপস্থিতি, দুই বছরের সেশনজটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এই অনুষদ। ফলে গুণগত মানের শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও ৯ মাসে সংকট সমাধান না হওয়ায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনুষদটির শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, বর্তমানে অনুষদটিতে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত সাতটি ব্যাচে প্রায় ৩৬০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন। এর বিপরীতে স্থায়ী শিক্ষক আছেন মাত্র দুজন, যারা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন। নেই কোনো অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক কিংবা সহকারী অধ্যাপক। শিক্ষক সংকটের কারণে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষেও ভর্তি করানো নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন। বাকি কর্মচারীরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ লোক পরিচয়ে কর্মক্ষেত্রে অনিয়মিত। নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কখনো কর্মক্ষেত্রে আসেন না। ফলে পুরো ক্যাম্পাসের চারদিকে ঝোপঝাড় ও ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ক্যাম্পাসটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকট চরমে। স্থানীয় রাজনীতির কারণে একাধিকবার ক্যাম্পাস বন্ধ হয়েছে। ২০২২ সালে ছাত্রলীগের অন্তঃকোন্দলে হামলায় তৎকালীন ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের ভিপি মুরাদ বিশ্বাস, ছাত্রলীগ কর্মী তৌহিদ ও সমরেশ হোসেন ছমির নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় ছাত্রলীগের আরেক নেতাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ছাড়া ক্যাম্পাস রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব, গ্রুপভিত্তিক মারামারি, সাইবার বুলিং, যৌন হয়রানি, হল দখলসহ অভিযোগের শেষ নেই। এ সংকট নিরসনে যবিপ্রবি উপাচার্য গত ৯ জুলাই অনুষদটির সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

অনুষদের শিক্ষার্থী সোহান শেখ বলেন, ‘ভেটেরিনারি মেডিসিনের মতো টেকনিক্যাল বিষয়ের জন্য মাত্র দুজন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন, বাকিরা সবাই গেস্ট টিচার। এখানে প্রায় ৭-৮টি ব্যাচের ক্লাস পরীক্ষা চলমান। দুজন শিক্ষকের মাধ্যমে কয়েকটি ব্যাচের একই সঙ্গে ক্লাস পরীক্ষা চালানো প্রায় অসম্ভব।’

যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজকে যবিপ্রবির অনুষদ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও ক্লাস-পরীক্ষা ছাড়া আর কোনো দায়িত্ব এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকার পরও কেন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি দ্রুত কার্যক্রম শুরু করছে না তা আমার বোধগম্য নয়। পূর্ণাঙ্গরূপে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ হওয়ার জন্য অনেক কাজ বাকি। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের লোকবল নিয়োগ দিতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত