দুমকিতে একদিকে অভিযান অন্যদিকে ইলিশ নিধন

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৩, ১০:৪৭ পিএম

পটুয়াখালীর দুমকিতে ইলিশ নিধনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানছে না কেউ। প্রশাসনের সঙ্গে লুকোচুরি খেলে দেদারসে শিকার করা হচ্ছে মা-ইলিশ। উপজেলার নদীগুলোতে একদিকে চলছে মৎস্য বিভাগের অভিযান, ঠিক তার উল্টো দিকে জেলেরা নির্বিঘ্নে শিকার করছে মা-ইলিশ। আভিযানিক দলের ধীরগতির ট্রলার নাগাল পাচ্ছে না জেলেদের। মান বাঁচাতে ঘাটের পরিত্যক্ত নৌকা-জাল জব্দ করার প্রতিযোগিতা করছে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত ১১ দিনের এমন ধারাবাহিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৩৯ হাজার মিটার কারেন্ট ও সুতার জাল এবং ৫টি নৌকা আটক করা হলেও থামেনি ইলিশ শিকার।

স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, উপজেলার পায়রা, পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীতে ইলিশের অভয়ারণ্য খ্যাত রাজগঞ্জ-চান্দখালী, আলগির হাজিরহাট, লেবুখালী, পশ্চিম আংগারিয়া, বাহেরচর, কদমতলা, পাংসিঘাট, সন্তোষদি, চরগরবদি ও কলাগাছিয়ার জেলে পল্লীগুলোতে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। নৌকা-জাল ঠিকঠাক করে দিনে-রাতে সমান তালে চলছে ইলিশ শিকারের প্রতিযোগিতা। আবার সবার চোখ-কান খাড়া। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা তাদের কাছে থোরাই কেয়ার। মানছে না কেউ। মোবাইল ফোনের সংকেতে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় লুকানো নৌকা-জাল নিয়ে দ্রুত নদীতে নেমে পড়ছে জেলেরা। অভিযানের ট্রলার দেখা মাত্র তীরে ওঠে পথচারী হয়ে যায় অবৈধ মাছ শিকারিরা।

সূত্রটি আরও জানায়, নিষিদ্ধকালীন সময়ে জেলেদের আহরিত শত শত মন ইলিশ প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে নির্দিষ্ট পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এসব ইলিশ পাইকাররা তাদের নিকটাত্মীয় ও স্বজনদের বাড়িতে বরফজাত করে মজুদ করছে। নিষেধাজ্ঞার সময় পার হলে পরে এসব মা ইলিশ খোলা বাজারে চড়া মূল্যে বিক্রি করা হবে।

অভিযান প্রশ্নে সূত্রটি জানায়, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের প্রতিটি অভিযানের আগাম খবর নিশ্চিত হয়েই জেলেরা নৌকা জাল নিয়ে নদীতে যায়। অভিযানের ট্রলারের গতিবিধি লক্ষ্য রেখে জেলেরা জাল ফেলে এবং সময় মতো তুলে নেয়। অভিযানের ট্রলার যেদিকে যায় তার বিপরীত দিকের জেলেরা নিশ্চিন্তে জাল ফেলে। মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময়ের মধ্যেই জাল মাছে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, অবরোধকালে মৎস্য বিভাগের গতিবিধি নজরে রেখে একাধিক দুষ্টচক্র মোবাইল ফোনে জেলেদের সতর্ক করে। আর এ কারণেই বিশেষ অভিযানে ওই সব জেলেরা ধরা পড়ছে না। আর এতে অভিযানে নামা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জেলেদের ঘাটে বাঁধা পরিত্যক্ত নৌকা এবং ডাঙ্গার জাল টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মাত্র একটি টিমের পক্ষে ২০-৩০ কিলোমিটার নদী একই সময়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা দুঃসাধ্য ব্যাপার। যেদিকে যাই বিপরীত দিকে ফাঁকা থেকে যায়। বাজেট স্বল্পতা, দ্রুতযান (স্পিডবোট) না থাকা ও জনবলের সীমাবদ্ধতার কারণে ইচ্ছা থাকলেও জেলেদের আটকানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে অভিযানে নৌকা, জাল জব্দ করার পর জেলেদের জাল ফেলার প্রবণতা কমেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত