বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে আগ্রহে ভাটা

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৩, ১০:১৮ পিএম

২০১৬ সালের ১৪ মার্চ ইডেন গার্ডেনসে আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচে পাকিস্তানর মুখোমুখি হওয়ার আগে মনে হচ্ছিল এপার বাংলার মানুষ শতভাগ সমর্থন দিবে বাংলাদেশকে। তবে ম্যাচের দিন দেখা গিয়েছিল ভিন্ন চিত্র। সেদিন ইডেনের গ্যালারি থেকে সমানভাবে সমর্থন পেয়েছে দু'দল। আবারো সেই ইডেনেই মুখোমুখি হচ্ছে দল দু'টি। তবে আজ ইডেনে প্রত্যাশিত সংখ্যক দর্শক হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। বিশ্বকাপ যাত্রা কোন দলেরই খুব ভালো কাটছে না। বাংলাদেশ টানা পাঁচ ম্যাচ হেরেছে। অপেক্ষাকৃত দুর্বল নেদারল্যান্ডসের কাছে ৮৭ রানে হারার পর কলকাতায় আসা বাংলাদেশী দর্শকদের আগ্রহটা একেবারেই কমে গেছে। অনেকে ম্যাচ টিকিট কেটেও মাঠে যেতে চাচ্ছেন না। অন্যদিকে ছয় ম্যাচের মধ্যে পাকিস্তান জিতেছে মোটে দুই ম্যাচ। টানা চার ম্যাচ হেরেছে তারাও। বিশ্বকাপের ব্যর্থ মিছিলে শামিল দু'দলের লড়াই নিয়ে যে আগ্রহে ভাটা পড়েছে তা সোমবার টিকিট কালেকশন বুথে গিয়েই বেশ বোঝা গেছে।

ইডেন গার্ডেনসের পাশেই কলকাতা মোহামেডান ক্লাব। শতবর্ষী এই ক্লাবের মাঠে হয়েছে টিকিট বুথ। সেখানে নেই টিকিট প্রার্থীদের ভীড়। বুথগুলোর বেশিরভাগ কাউন্টারে বসে থাকা বিক্রেতারা ব্যস্ত মুঠো ফোনে ইন্টারনেট ব্রাউজে। বুথের বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে ঘোড়াফেরা করছে বেশ ক'জন কালোবাজারি। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস ম্যাচের আগেও মঙ্গলবারের ম্যাচ নিয়ে মানুষের আগ্রহের কথা। একজন জানালেন, 'অনেক মানুষ বুথে ভীড় দেখে আমাদের কাছ থেকে টিকিট নিয়েছে। ব্ল্যাকে বলে আমরা ভালোই লাভ পাচ্ছিলাম। তবে বাংলাদেশ হেরে যাওয়ার পর থেকে পাকিস্তান-বাংলাদেশ ম্যাচ নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ নেই। এই ম্যাচের টিকিটগুলো নিয়ে আমরাও বিপাকে পড়েছি। লস দিয়েও বেঁচতে পারছি না। ৮০০ টাকার টিকিট ৫০০ টাকায়ও কেউ নিতে চাইছে না।' টিকিট প্রার্থীদের চাপ কমে যাওয়ার কথা স্বীকার কললেন কলকাতায় ম্যাচ দেখতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এক প্রভাবশালী পরিচালক। তিনি বলেন, 'দুই ম্যাচের জন্য কত মানুষ যে ফোন দিয়েছে। অনেকের অনুরোধ রাখতে পেরেছি, অনেকের পারিনি। তবে ডাচদের কাছে বাজেভাবে হারার পর সেভাবে আর ফোন পাচ্ছি না। আসলে মানুষ এমন হারে ভীষণ হতাশ ও বিরক্ত।'

কলকাতা নিউ মার্কেটের আশপাশের এলাকায় প্রচুর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। ইডেনে সাত বছর আগে টি-২০ ম্যাচে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচে এই মানুষগুলোর সমর্থন আধাআধি হয়ে গিয়েছিল। ঐতিহাসিকভাবেই পাক-ভারত সম্পর্ক বৈরীতায় ভরা। তবে ভারতেও পাকিস্তানের ক্রিকেটের ভক্ত সংখ্যা একেবারে কম নয়। অনেক আটকে পড়া মানুষ বেশ পাল্টে পাকিস্তানী থেকে ভারতীয় বনে গেছেন। তেরঙ্গা পতাকা তলে আশ্রয় নিলেও হৃদয়ে এখনও পাকিস্তানের চাঁদ-তারা ধার‌ন করেন। তা তো বেশ বোঝা গেলো সোমবার ইডেনে গিয়ে। কলকাতায় পৌঁছানোর পর আগের দিন পুরোটাই ম্যারিয়ট হোটেলের ১৪ তলায় এক প্রকার বন্দী থাকতে হয়েছে পাকিস্তান দলকে। কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে সেই হোটেল। নিরাপত্তার কড়াকড়ি ছিলো ইডেনে পাকিস্তানের ট্রেনিং সেশনের সময়ও। ইডেনের গ্যালারিতে গুটিকয় ভক্ত ভিড় করেছিলেন পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমের কাছ ঘেসে। প্রায় আধ ঘন্টা নেটে ব্যাটিং প্র্যাকটিস করে ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আযমকে কাছে পেয়ে হর্ষধ্বনী দিতে লাগলেন তারা। নিরাপত্তা তোয়াক্কা না করে ভক্তদের ভালোবাসার জবাব দিলেন গ্যালারির সামনে গিয়ে। হাত মেলালেন, সেলফির আবদার রাখলেন, দিলেন অটোগ্রাফ। বোঝাই গেলো বাংলাদেশকে গ্যালারির বিরোধীতার সঙ্গেও লড়তে হবে মঙ্গলবার। পাকিস্তান প্রীতিটা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ভয়ে সবখানে প্রকাশ না পেলেও খেলার মাঠে ঠিকই প্রকাশিত হয়। তাই বলে দেওয়া যায় ইডেনের গ্যালারি থেকে মঙ্গলবার বড় অংশই গলা ফাটাবে পাকিস্তানের হয়ে। যা বাড়তি সাহস যোগাবে বাবর আজমদের। আর আগের ম্যাচেই নিজেদের দর্শকদের কাছ থেকে দুয়োধ্বনী পাওয়া বাংলাদেশী দর্শক যারা থাকবেন, তাদের কাছ থেকে একই প্রতিক্রিয়া জুটবে যদি দুঃসময়কে পেছনে ফেলতে না পারেন সাকিবরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত