যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরেকটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে আগামীকাল বুধবার। এদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে ভারতের আগরতলা এবং খুলনা থেকে বাগেরহাটের মোংলা বন্দর পর্যন্ত নির্মিত রেলপথে আনুষ্ঠানিক ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এই দুই রুটে গতকাল সোমবার পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানো হয়।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি রেলপথ দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় পর রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলা। খুলনা-মোংলা রেলপথ চালু হলে দক্ষিণের অর্থনীতির অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা রাখবে। কম খরচে মোংলা বন্দরের পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি ভারত, নেপাল ও ভুটান এই পথ ব্যবহার করে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা। তবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর পুরোদমে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল শুরু করতে আরও মাস দেড়েক সময় লাগবে।
রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ‘খুলনা-মোংলা রেলপথ চালু হলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত, নেপাল ও ভুটানের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হবে ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে কম খরচে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করার সুযোগ তৈরি হবে। এতে করে সরকারের রাজস্ব বাড়বে, নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বিকাশ ঘটবে পর্যটনশিল্পের।’
এদিকে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথের উদ্বোধনের আগে পরীক্ষামূলকভাবে গতকাল দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে পাঁচটি খালি বগি নিয়ে একটি ট্রেন আখাউড়ার গঙ্গাসাগর রেলস্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ট্রেনটি আগরতলার নিশ্চিন্তপুর রেলস্টেশনে প্রবেশ করে। দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতের নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের কর্মকর্তারা ট্রেনটিকে স্বাগত জানান।
আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প সূত্রমতে, (বাংলাদেশ অংশে) পরিচালক আবু জাফর মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর আপাতত পণ্যবাহী ট্রেন চলবে। পর্যায়ক্রমে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করবে। রেললাইনের কাজ শেষ হলেও ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ভবন এবং প্ল্যাটফর্মের কাজ এখনো বাকি আছে। আগামী এক মাসের মধ্যে গঙ্গাসাগর ইমিগ্রেশন ভবনসহ বাকি কাজ শেষ হবে।
