হাবিপ্রবিতে ১০ মাসে ১০ সংঘর্ষ

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৩, ১১:৫৭ এএম

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) প্রায়ই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ২০১০ সালে এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটির পর আর কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। সর্বশেষ ২ বছর আগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত নেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কমিটি দিতে পারেনি কেন্দ্রীয় কমিটি।

এক যুগ ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় কয়েকটি গ্র“পে বিভক্ত হয়ে পড়েছে নেতাকর্মীরা। চলতি বছরের ১০ মাসে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে হল দখল, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছোট-বড় ১০টির বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বহু শিক্ষার্থী আহতও হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর ওই সময়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন হাবিপ্রবির শাখা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেন। এতে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদের শিক্ষার্থী ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েলকে সভাপতি এবং কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী অরুণ কান্তি রায় সিটনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এক বছরের জন্য দেওয়া হলেও সেই কমিটি অতিক্রম করে প্রায় ১০ বছর। ছাত্রলীগের কমিটি এক বছর অতিক্রম করার পর পরই নেতাকর্মীরা কয়েক দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই শুরু হয় সংঘর্ষের ঘটনা।

২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়েল ও সাধারণ সম্পাদক সিটনের নেতৃত্বে একটি গ্র“প ও যুগ্ম সম্পাদক জেমি, শেখ রাসেল হলের সভাপতি পলাশ ও ছাত্রলীগ নেতা নয়ন আরেকটি গ্র“পে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল রাতে হল দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে মিল্টন ও জাকারিয়া নামে দুই ছাত্রলীগ নেতা নিহত ও শিক্ষক-ছাত্রসহ আহত হয় প্রায় ৩০ জন।

২০২১ সালের ২৭ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কমিটির ওই সময়ের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করেন। এরপর ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের গণশিক্ষা সম্পাদক আব্দুল্লাহ হীল বারী এবং উপ-ক্রীড়া সম্পাদক মেহেদী হাসান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ২৮৯ জন পদপ্রত্যাশীর জীবনবৃত্তান্ত জমা নেন। কিন্তু জীবনবৃত্তান্ত নেওয়ার প্রায় ২ বছর পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি দিতে পারেনি কেন্দ্রীয় কমিটি।

এদিকে হাবিপ্রবির ওই সময়ের কমিটির সবাই ছাত্রত্ব শেষ করে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন। গত উপাচার্যের সময়ে কয়েকজন নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চাকরিও পেয়েছেন। কমিটি না থাকায় ছাত্রলীগ বিভক্ত হয়েছে অন্তত ৫-৭টি গ্রুপে। স্বার্থের দ্বন্দ্বসহ নানা কারণে সময়ে অসময়ে প্রতিটি গ্রুপে রদবদলও হয়। আর আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঠুনকো বিষয়েই প্রায়ই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগের বিবদমান নেতাকর্মীরা। বর্তমানে ইলিয়াস দেওয়ান, আকাশ, রনির একটি গ্র“প ও রিয়াদ, সজল, রাহাত, মিঠুর আরেকটি গ্র“প সক্রিয় রয়েছে।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, এক বছরে ছোট-বড় ১০টির বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পরে উভয়পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। পরে প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করলেও নেওয়া হয় না কোনো ব্যবস্থা। কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও তা কার্যকর না হয়ে ফাইলবন্দিই থেকে যায়।

নাম না প্রকাশে হাবিপ্রবি ছাত্রলীগের কয়েক নেতা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে নেই ছাত্রলীগের কমিটি। এ জন্য কেউ কাউকে মানছেন না। চেইন অব কমান্ড না থাকা, ব্যক্তিস্বার্থের দ্বন্দ্ব, কমিটিতে পদ পাওয়ার জন্য শক্তি প্রদর্শন করতে গিয়েই এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা করার ঘটনাও ঘটেছে। মূলত কমিটি না থাকায় ছাত্রলীগ নিজেদের মধ্যে অন্তঃকান্দলে জড়িয়ে পড়ছে।

এ ব্যাপারে হাবিপ্রবির বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

গত ২২ সেপ্টেম্বর হাবিপ্রবিতে আসেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। এ সময় তিনি খুব শিগগিরই হাবিপ্রবি ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়ার কথা জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত