বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় যুদ্ধে ‘মানবিক বিরতি’ প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইসরায়েলি কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর গতকাল শুক্রবার তৃতীয় দফায় ইসরায়েল সফরকালে তিনি এ অবস্থান ব্যক্ত করেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, একই দিন হিবজুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন। এদিকে বাহরাইন বাণিজ্য সম্পর্ক স্থগিত করায় আরব বিশ্বে আরও চাপে পড়ল ইসরায়েল।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন গতকাল ইসরায়েল সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেহানিয়াহু এবং প্রেসিডেন্ট ইসাক হারজগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সঙ্গেও বৈঠক করেন। এ অবস্থায় ইসরায়েলি অভিযানে গতকাল পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২২৭ জনে।
তেলআবিবে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টকে পাশে নিয়ে বলেন, ‘আমরা শক্তভাবে এই অবস্থান গ্রহণ করি, যেখানে ইসরায়েলের আত্মরক্ষা শুধু অধিকারই নয়; বরং এটি একধরনের বাধ্যতামূলক দায়িত্বের পর্যায়েও পড়ে; যাতে ভবিষ্যতে ৭ অক্টোবরের মতো ঘটনা আবারও না ঘটে।’ তিনি আরও বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষার ক্ষেত্রে আরও কাজ করতে হবে ইসরায়েলকে। বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে ইসরায়েলি কর্র্তৃপেক্ষের দিক থেকে কয়েকটি ‘প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন’ উঠে এসেছে। বিষয়গুলো হচ্ছে মানবিক বিরতির সর্বোচ্চ ব্যবহার কীভাবে করা যায়, জিম্মিদের মুক্ত কীভাবে করা যায় এবং পরিস্থিতির সুবিধা নেওয়া থেকে হামাসকে কীভাবে ঠেকানো যায়।
সংবাদ সম্মেলনে ব্লিঙ্কেন দৃঢ়ভাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যত দিন থাকবে, তত দিন ইসরায়েল একা নয়।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, তিনিও মনে করেন, গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষার প্রয়োজনে ইসরায়েলি অভিযানে একটি ‘মানবিক বিরতি’ প্রয়োজন।
প্রথমবার প্রকাশ্যে হাসান নাসরুল্লাহ, সীমান্তে প্রস্তুত ইসরায়েল যুদ্ধের শুরু থেকে গাজার পাশাপাশি ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে শিয়া মতাবলম্বী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর আন্তঃসীমান্ত আক্রমণ মোকাবিলা করছিল। গতকাল হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ ৭ অক্টোবরের পর প্রথম মুখ খোলেন। বিষয়টি সামনে রেখে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
হাসান নাসরুল্লাহ অভিযোগ করেন, চলতি যুদ্ধের সম্পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্রের। ইসরায়েলকে পেছন থেকে চালনা করছে ওয়াশিংটনই।
নাসরুল্লাহ বলেন, ইসরায়েল একটি ‘ভঙ্গুর’ রাষ্ট্র। এই যুদ্ধে সামরিক দিক থেকে তাদের একটিও অর্জন নেই। হামাসের ‘আল-আকসা ফ্লাড অভিযান’ ইসরায়েলে ভূমিকম্পের মতো আঘাত করেছে। হামাস সঠিক সময়ে বিজ্ঞতা ও সাহসের সঙ্গে অভিযানটি চালিয়েছে। এই অভিযানের শতভাগ পরিকল্পনা করেছে ফিলিস্তিনিরা, সেখানে অন্য কারও হাত নেই।
তবে হাসান নাসরুল্লাহর বক্তব্য সামনে আসাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি বাহিনী সীমান্তে যেসব প্রস্তুতি নিয়েছিল, তার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। কারণ চলতি যুদ্ধে হিজবুল্লাহ কী ভূমিকা নেবে তা স্পষ্ট নয়। যুদ্ধে তারা সরাসরি অংশ নেবে কি না, তাও তিনি পরিষ্কার করেননি।
ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক স্থগিত করল বাহরাইন
বাহরাইনের আইনসভার নিম্নকক্ষের একটি বিবৃতিতে গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের পাশাপাশি সে দেশ থেকে ইসরায়েলি দূতকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বাহরাইন মার্কিন মধ্যস্থতায় সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনীতি শুরু করে। এর অংশ হিসেবে বাণিজ্য সম্পর্কও শুরু হয়।
বাহরাইনের ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, তেলআবিবের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও বন্ধ করতে যাচ্ছে মানমা। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন এবং ভ্রাতৃপ্রতিম ফিলিস্তিনিদের বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি দিতেই তারা এ পদক্ষেপ নিচ্ছে।
