মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টে জো বাইডেনের ‘উপদেষ্টা’ পরিচয় দেওয়া মিয়ান জাহিদুল ইসলাম আরেফিকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। পরে বেলা আড়াইটার দিকে হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মিয়ান আরেফি স্বীকার করেছেন যে তিনি জো বাইডেনের সঙ্গে কখনো কথা বলেননি। পাশাপাশি তাকে নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে তার জন্য তিনি অনুতপ্ত বলেও জানিয়েছেন।
গতকাল কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কারাগারের ফটকে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের ডিএমপি ডিবিপ্রধান বলেন, ‘মিয়ান আরেফিকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে বলেছেন, লে. জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী সাহেব তাকে (মিয়ান আরেফি) যে অন্যদিকে ধাবিত করেছেন এটা তিনি বুঝতে পারেননি। তাকে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। ফাঁদে পড়ে তিনি ২৮ তারিখে সংবাদ সম্মেলনে শিখিয়ে দেওয়া কথা বলেছেন। এখন তিনি বুঝতে পেরেছেন সেটা ঠিক হয়নি।’
হারুন অর রশীদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মিয়ান আরেফি বলেছেন, ‘লে. জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী সাহেব যা শিখিয়ে দিয়েছেন আর বলতে বলেছেন ২৮ অক্টোবর বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে সেভাবেই বলেছেন। তাকে গুলশান অফিসে বিএনপির ব্রিফিংয়ে যাওয়ার জন্য সবকিছুর ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন হাসান সারওয়ার্দী। সেখানে মিয়ান আরেফি যেন তার নাম প্রকাশ করেন তাও শিখিয়ে দিয়েছেন।’
ডিবিপ্রধান বলেন, বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে যেন হাইলাইটস করা হয় সে কথাও শিখিয়ে দেওয়া হয় মিয়ান আরেফিকে। এর কারণ হিসেবে মিয়ান আরেফি পুলিশকে জানান, যদি বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় যায় তাহলে তাকে মন্ত্রী অথবা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হতে পারে।
হারুন অর রশীদ বলেন, ‘২৮ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা, পুলিশ হাসপাতালে হামলা, পুলিশের গায়ে আঘাত করা এবং একজন পুলিশ সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করা, সাংবাদিকদের আহত করা আবার তাৎক্ষণিক সন্ধ্যার সময় সারওয়ার্দী সাহেব মিয়ান আরেফিকে নিয়ে বিএনপির পার্টি অফিসে ঢোকা সবগুলো ঘটনা একটার আরেকটার সঙ্গে সংযুক্ত। সে কারণেই আমরা অনেক নেতাকে নিয়ে এসেছি, জিজ্ঞাসাবাদ করছি। চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী সাহেবকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তিনি অনেক কথা স্বীকার করেছেন। যে জায়গাগুলোতে উনি স্বীকার করছেন না সেটা আমরা তার কাছ থেকে জেনে নিলাম। আমরা যদি মনে করি যে ভবিষ্যতে আরও কোনো তথ্য জানার প্রয়োজন আছে তাহলে আবারও তাকে নেব অথবা এখান থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করব।’
হারুন অর রশীদ বলেন, ‘চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর ফাঁদে পড়ে তার দেওয়া মোবাইল নম্বর দিয়ে মিয়ান আরেফি কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, শিমুল বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি আবদুল আউয়াল মিন্টুর বাসায় নিজে গিয়েছেন। তিনি বেশ কিছু সেনা কর্মকর্তার বাসায়ও তিনি গিয়েছেন বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হারুন অর রশীদ বলেন, ‘মিয়ান আরেফি যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের উপদেষ্টা নন, এটা তিনি নিজেও জানেন। বিএনপি নেতাদের পরামর্শে উপদেষ্টা বললে মানুষ তাকে গ্রহণযোগ্য মনে করবে। মানুষ তার কথাটা শুনবে। ওই মুহূর্তে তিনি এর প্রতিবাদ করেননি।’
গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের পর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক মিয়ান আরেফি। তিনি নিজের পরিচয় দেন জো বাইডেনের ‘উপদেষ্টা’ হিসেবে। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা হলে ২৯ অক্টোবর রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মিয়ান আরেফিকে আটক করা হয়। এরপর থেকে তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
