সেমিফাইনালের আগে শেষ ম্যাচ। স্বাভাবিকভাবে অস্ট্রেলিয়া তাদের মূল দলকে বিশ্রাম দিতে পারে। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল যে স্মরণীয় ইনিংসটা খেলেছে, তাতে আগামী এক মাস তার ব্যাট হাতে না নিলেও চলবে। কারণ এমন ইনিংসে তো কলিজা অনেক বড় হয়ে যায়। আত্মবিশ্বাস ওঠে তুঙ্গে। তাই বেঞ্চ বাজিয়ে দেখতে পারে তারা। বাংলাদেশের সামনে তাই এটা সুযোগ। শেষ ম্যাচটাতে ভালো করার একটা সম্ভাবনা আছে তাদের সামনে।
তবে অজিরা খুব পেশাদার দল। তারা কোনো কিছুতেই ছাড় দিতে চায় না। এই ম্যাচটা যেহেতু তাদের কাছে শুধুই নিয়ম রক্ষার, তাই নাজমুল হোসেন শান্তদের ভালো সম্ভাবনা আমি দেখছি।
খেলাটা যেহেতু হচ্ছে পুনেতে। সেটা মুম্বাই থেকে তিন ঘণ্টার সড়কপথ। আবহাওয়া অনেকটা বাংলাদেশের মতোই চেনা। যদিও পুনে পাহাড়ি অঞ্চলের কাছে। সেখানে একটু শীত পড়েছে। তাই আমি মনে করি টস জিতলে টাইগারদের আগে ব্যাট করা উচিত। কারণ আগের ম্যাচটার কথাই ধরুন। দিল্লিতে আমরা কিন্তু পরে ব্যাট করেছিলাম। আগে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কাকে যতটা বেগ পেতে হয়েছে, পরে নেমে সাকিবদের জন্য সেটা ততটাই সহজ হয়েছিল। এই মাঠে যদিও আগের ম্যাচটাতে প্রথমে ব্যাট করা দল জিতেছে। তবে উইকেট পরিবর্তন হতে পারে। আর তাই আমি মনে করি পরে ব্যাটিং নেওয়াই হবে উত্তম।
শুরুতে বলেছি অস্ট্রেলিয়া মূল দলকে খেলাবে না। আবার বাংলাদেশেরও একজন মূল খেলোয়াড় ছিটকে গেছে। সাকিব আল হাসান। সে দলে থাকলে একধরনের ভারসাম্য থাকে। তাকে মিস করবে বাংলাদেশ। তবে আমি মনে করি ভবিষ্যতের বাংলাদেশের কথা চিন্তা করলে সিনিয়রদের ছাড়া খেলতে নামা উচিত। কারণ জুনিয়রদেরও হাল ধরা শিখতে হবে। আগামীতে তারাই সিনিয়র হবে।
মাঠে সাকিব-মুশফিক-রিয়াদরা থাকলে অনেক চাপ শান্ত-লিটনদের নিতে হয় না। কিন্তু একদিন তারা আর খেলবে না। তখন তো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আন্তর্জাতিক ম্যাচে অনেক চাপ থাকে। আর বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে যেহেতু আমাদের চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই, তাই সুযোগটা মিরাজদের কাজে লাগানো উচিত।
তরুণদের দিকেই আমি তাকিয়ে থাকব। মুশফিক-রিয়াদদের নিজেদের প্রমাণ করার কিছু নেই। প্রমাণের অনেক কিছু আছে তানজিদ তামিমদের। শেষ ম্যাচের আগে এনামুল হক বিজয় যোগ দিয়েছে দলের সঙ্গে। তারও একটা বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। সে যেহেতু জাতীয় দলে নিয়মিত না, তাই প্রমাণের অনেক কিছুই আছে। গত ম্যাচে তানজিম হাসান সাকিবকে খেলানো হয়েছে। শেষ ম্যাচেও তাকে নেওয়া হোক। কারণ একদিন বাংলাদেশের পেস ইউনিটে সে-ই নেতা হবে। তাই ভবিষ্যতের জন্য তাকে প্রস্তুত করতে এই ম্যাচে নেওয়া প্রয়োজন।
জয়-পরাজয় আর মুখ্য বিষয় নয়। এই মুহূর্তে ভালো খেলাটাই প্রধান লক্ষ্য। আজ শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো খেলবে বাংলাদেশশ্বএটাই আমার প্রত্যাশা।
গোটা টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ভালো খেলেনি। আমরা দেখেছি অ্যালান ডোনাল্ড দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। হয়তো বিসিবিও অনেককে কারণ দর্শাতে ডাকবে। তবে পুরো কোচিং স্টাফ ও নির্বাচক প্যানেলকে যদি বদলে নতুন কাউকে এনে বসানোও হয়, তবুও কোনো পরিবর্তন আসবে না। কারণ সবার মনোযোগ জাতীয় দলকে ঘিরে। তাতে পাইপলাইনে কোনো মানসম্পন্ন ক্রিকেটারই তৈরি হয়নি। সেদিকে নজর দেওয়া হোক। একটু সময় নিয়ে দল প্রস্তুত করলে তবেই দেশের ক্রিকেট এগিয়ে যাবে সামনের দিকে।
