দেহ কলকাতায় মন মুম্বাইয়ে

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৫৬ এএম

ভারতের এক প্রান্তে কলকাতা, অন্য প্রান্তে মুম্বাই। দূরত্ব ঠিক ১ হাজার ৮৮৬ কিলোমিটার। এই দুই শহরের দুই ভেন্যুতে আজ ও কাল হবে বিশ্বকাপের দুই আগুনে সেমিফাইনাল। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আজ স্বাগতিক ভারত লড়বে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে। পরের দিন কলকাতার ইডেন গার্ডনসে ফাইনালের টিকিট পাওয়ার ম্যাচে মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে আঙিনার সেমিফাইনাল নিয়ে কলকাতাবাসীর যতটা না আগ্রহ, তার চেয়ে ঢের বেশি দূরের মুম্বাইয়ের দ্বৈরথ নিয়ে। তেরঙ্গার সৈনিকদের জয় দেখতে মুখিয়ে কলকাতাবাসী। তাই ইডেনের টিকিট হাতে আজ ভারতের জয়ের অপেক্ষায় গোটা বাংলা।

এমনিতে কদিন ধরেই শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ। শারদীয় দুর্গাপূজার মহোৎসব শেষ হতে না হতেই দীপাবলি উৎসব আর কালীপূজায় মত্ত আনন্দ নগরী। লম্বা সরকারি ছুটি বলে পথে-ঘাটে স্বাভাবিক ব্যস্ততা নেই। আজ যেমন এখানে পালিত হবে ভাইফোঁটা। ভাইদের শুভকামনায় কপালে তিলক এঁকে দেবেন বোনেরা। এই ধর্মীয় উৎসবগুলোকে এবার আলাদা রঙ দিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। এমনিতে ভারতবর্ষে ক্রিকেট ধর্মের চেয়ে কম কিছু নয়। আর খেলাটা যদি হয় নিজ শহরে, তবে তো কথাই নেই। তবে আঙিনার সেমিফাইনালের টিকিটটা ঠিকঠাক জোগাড় করে রাখলেও কী করে টিম ইন্ডিয়ার ম্যাচটা সবান্ধব বোকা বাক্সে কিংবা জায়ান্ট স্ক্রিনে উপভোগ করা যায়, সেই প্রস্তুতিও সেরে রেখেছে কলকাতার মানুষ। যদিও একটু আক্ষেপও আছে। দুর্গাপূজা, দীপাবলি, কালীপূজা, ভাইফোঁটা রঙিন উৎসবটা আরও রঙিন হতো যদি ইডেনে হতো রোহিত শর্মাদের ফাইনালে ওঠার ম্যাচটি। সেটা হয়নি, তবে হতে পারত। যদি শেষ চারে ভারতের প্রতিপক্ষ হতো পাকিস্তান। চির বৈরীরা সেমিফাইনালে আসতে না পারায় কলকাতায় আসা হয়নি টিম ইন্ডিয়ার।

ভাইফোঁটা নিয়ে অনেক রকম গল্প প্রচলিত আছে। এই বিশেষ দিনে নরকাসুর নামে এক দৈত্যকে বধ করার পর শ্রীকৃষ্ণ যখন বোন সুভদ্রার সঙ্গে দেখা করতে যান, তখন সুভদ্রা ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে মিষ্টিমুখ করান। সেই থেকে ভাইফোঁটা উৎসবের প্রচলন এ দেশে। এই দিনে বোনেরা তাদের ভাইদের কপালে চন্দন, দই কিংবা কাজলের ফোঁটা পরিয়ে দিয়ে বলেন, ‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা। যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা।’ ভাইয়েরাও প্রিয় বোনের হাতে এ দিন তুলে দেন নানা রকম উপহার। বোনের জন্য সেই উপহার কিনতে এসে এক বেসরকারি ব্যাংকে চাকুরে ভাই কৃষ্ণেন্দু সমাদ্দার মজা করেই বললেন, ‘ভাইফোঁটার দিনে ভারতবর্ষজুড়েই বোনেরা আপন ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেবেন ঠিক। তবে আমি নিশ্চিত শুভকামনাটা নিজ ভাইয়ের পাশাপাশি থাকবে টিম ইন্ডিয়া প্রতিনিধিত্ব করা ১৫ ভাইয়ের প্রতিও। কিউইদের হারটাই তখন হবে সব বোনের জন্য সেরা উপহার। তখন আমার কেনা এই উপহারও ঠুনকো মনে হবে। তাতে অবশ্য আমার কষ্ট থাকবে না এক রত্তিও (হাসি)।’

ভারতের ম্যাচ নিয়ে আগ্রহ আকাশ ছুঁলেও ২০১৬-এর সেমিফাইনাল গ্যালারিতে বসে দেখার লোকের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাই তো ইডেনের পাশের মোহামেডান ক্লাবের মাঠে অস্থায়ী টিকিট বিক্রয়কেন্দ্রে দুদিন ধরেই দেখা গেছে লম্বা লাইন। কাউন্টারে টিকিট না পেয়ে অনেকেই হতাশ হচ্ছেন, আবার বেশি টাকায় অনেকে কালোবাজার থেকে কিনে নিচ্ছেন টিকিট। ভারত না খেলুক, রোমাঞ্চকর দ্বৈরথের অনেক উদাহরণ আছে এই দুই দলের খেলায়। তাই এমন একটা ক্রিকেটীয় যুদ্ধ সামনে থেকে দেখার সুযোগ কে হাতছাড়া করতে চায়?

টানা ৯ জয়ে সবার ওপরে লিগপর্ব শেষ করা ভারত যদি সেমিফাইনালে হেরে বসে, তবে ভারতীয়দের কাছে ইডেনের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের কোনো মূল্য থাকবে না। লহমায় দীপাবলি উৎসব পরিণত হবে শবযাত্রায়। আগেই তো বলেছি প্রচলিত কথাটা, ‘ভারতীয়দের কাছে ক্রিকেট ধর্মের চেয়ে কম কিছু নয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত