অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পরবর্তী সরকার গঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদল। তবে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেনি তারা।
গতকাল বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ইইউর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র, শ্রম এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ইইউর প্রতিনিধি বলেছে, শতকরা ৫৬ ভাগ মজুরি বৃদ্ধির যে ঘোষণা এসেছে এটার সঙ্গে সবাই একমত নন। তারা ইতিমধ্যে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে দেখা করেছে। তারা আশা করছে, বর্তমানে শ্রম খাতে যে অবস্থা বিরাজ করছে, সেটা দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে।
মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন বা রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে শ্রমিকদের আন্দোলনের সম্পর্ক নেই। চার-পাঁচ বছর পর শ্রমিকরা এরকম আন্দোলন করে। এটার সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। আর টাইমিংটা একেবারে কাকতালীয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে আলাদা করে আলাপ হয়নি। তবে আমরা বলেছি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পরিবেশ দরকার।’
মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘ইইউর প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের শ্রম খাতের অগ্রগতি দেখতে এসেছে। শ্রম খাতের অগ্রগতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত সাম্প্রতিক নানা পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেছি। তাদের বলেছি, বাংলাদেশ শ্রম খাতের উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শুধু প্রয়োজনীয় আইন ও সংশোধনী নয় বরং সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে, তা তাদের বলেছি।’
এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও ইইউর বাজারে বাংলাদেশের জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, ‘আমরা ইইউর সঙ্গে জিসপি প্লাস সুবিধা কীভাবে পেতে পারি সেটা নিয়ে আলোচনা করেছি। সেই সঙ্গে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে ইউরোপের বাজারে আমাদের জিএসপি প্লাস সুবিধা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেছি।’ তিনি বলেন, আগামী বছরের মার্চে ইইউর প্রতিনিধিদল আবার বাংলাদেশের শ্রমসংক্রান্ত ইস্যুতে আলোচনার বার্তা দিয়েছে।
বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. এহছানে এলাহী বলেন, ‘লেবার ইস্যুতে আমাদের ন্যাশনাল প্ল্যান অ্যাকশনের যে নয়টি টার্গেট আছে, সেগুলো নিয়ে তারা কথা বলেছেন। যেগুলোর প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে। লেবার ল ডেপ্লয়মেন্ট নিয়ে তারা কথা বলেছে। তারা বলেছে, এ ব্যাপারে আইএলও সন্তুষ্ট কি না? আমরা বলেছি, আইএলওর সঙ্গে সিরিজ বৈঠক হয়েছে। তাদের অনেক সাজেশন আমরা নিয়েছি। আবার অনেকগুলো নিতে পারিনি।’
শ্রম সচিব বলেন, ‘লেবার ইস্যুতে তারা কিছু সাজেশন দিয়েছে। আমরা বলেছি, পরবর্তীকালে লেবার আইন সংশোধনে এগুলো যুক্ত করার সুযোগ থাকবে। ইইউ বলেছে, তাদের সঙ্গে ক্লোজ রিলেশন রাখতে।’
জিএসপি প্লাস ইস্যুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব তপন কান্তি বলেন, ‘আমাদের রপ্তানির ৮৫ ভাগ গার্মেন্টস থেকে আসে। সুতরাং এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর গার্মেন্টস সেক্টর যদি শুল্কমুক্ত সুবিধার বাইরে থাকে এটা তো অর্থহীন। আমরা বলেছি, এটা (তৈরি পোশাক) যুক্ত করতে হবে। গার্মেন্টস খাত সফল, এটাকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। এটাকে উৎসাহিত করতে হবে। তারা যেন সেভাবে রিপোর্ট দেয়।’
