ভারতের উত্তরাখ- রাজ্যে নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ৪০ শ্রমিককে উদ্ধারের জন্য এবার আনা হয়েছে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি খননযন্ত্র। গত রবিবার সংঘটিত দুর্ঘটনার চার দিনেরও বেশি সময় পর রাজধানী দিল্লি থেকে গত বুধবার এটিকে উড়িয়ে আনা হয়েছে ঘটনাস্থলে। একটি যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার পরই এই বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন যন্ত্রকে আনা হলো। বলা হচ্ছে, এটি ধ্বংসস্তূপের ভেতরে ঢুকে একটি পাইপকে একদম শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাবে, যা দিয়ে শ্রমিকরা ওপরে উঠে আসতে পারবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভিকে সিং জানান, উদ্ধারকাজে আরও দু-তিন দিন সময় লাগতে পারে। তবে যন্ত্রটি উড়িয়ে আনার পর কর্তৃপক্ষ জানায়, কাজটি করতে কত লাগবে, এ নিয়ে তারা কোনো ধরনের শোরগোল তৈরি করতে চান না। তবে তাদের প্রত্যাশা, এর মধ্য দিয়ে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া সম্ভব হবে। হিমালয়বেষ্টিত রাজ্য উত্তরাখ-ের নির্মাণাধীন সিকিয়ারা সুড়ঙ্গপথটির মুখ থেকে ২০০ মিটার দূরে সেটি ভেঙে পড়ে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, শ্রমিকরা নিরাপদেই রয়েছেন। তাদের জন্য খাদ্য, পানি ও অক্সিজেন সরবরাহ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ওয়াকিটকির মাধ্যমে যোগাযোগও হচ্ছে।
সিকিয়ারা সুড়ঙ্গটি উত্তরকাশি জেলায় অবস্থিতি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। পাহাড়ি দুর্গম এলাকার মধ্য দিয়ে তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত সুরক্ষিত করতে এই পথ নির্মাণ করা হচ্ছে।
উদ্ধারকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিপক পাতিল বলেন, সুড়ঙ্গে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন প্রবেশ করানো হয়েছে, যাতে শ্বাস নিতে কোনো সমস্যা না হয়।
নতুন যন্ত্রটির তিনটি অংশ সামরিক হেলিকপ্টারে চাপিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়েছে। এটি প্রতি ঘণ্টায় পাঁচ মিটার করে খনন করতে পারে। এখন পরিকল্পনা হচ্ছে, একটি ধাতব পাইপ প্রবেশ করাতে ৯০০ মিলিমিটার ব্যাসার্ধের গর্ত তৈরি করা। পরে ওই পাইপ দিয়ে শ্রমিকরা ওপরে উঠে আসতে পারবে।
ধারাম সিংয়ের ছেলে বিজয় কুমার সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছেন। কর্তৃপক্ষের স্থাপন করে দেওয়া যোগাযোগব্যবস্থা দিয়ে তিনি ছেলের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানান, ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা গেলে তিনি তাকে নিয়ে নিজ রাজ্য হিমাচলে ফিরবেন।
তিনি বলেন, ‘আমি ছেলেকে বলেছি, আমি তোমার বাবা বলছি। আমি বাইরে আছি। আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি। তুমি দ্রুতই বের হয়ে আসবে। চিন্তা করো না।’
