প্রণোদনা নেই, দুজন দিয়ে চলছে নাঙ্গলকোট মৎস্য অফিস

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৩, ১০:৩০ পিএম

জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত কুমিল্লার নাঙ্গলকোট মৎস্য অফিস। এতে বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মৎস্যজীবীরা। প্রায় পাঁচ লাখ জনবসতির এ উপজেলায় গত এক বছর ধরে ৫টি পদের তিনটিই শূন্য রয়েছে। বর্তমানে মাত্র দুজন দিয়ে চলছে মৎস্য অফিসের কার্যক্রম।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত এক বছর ধরে জোড়াতালি দিয়ে চলছে অফিসটি। কুমিল্লার মধ্যে মাছ চাষে নাঙ্গলকোট উপজেলা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ছোট-বড় সব মিলিয়ে প্রায় চার শতাধিক মৎস্য খামার রয়েছে উপজেলায়। মাছ চাষ করে গত পাঁচ বছরে বিসমিল্লাহ মৎস্য উৎপাদন ও প্রজনন খামার, এসবি মৎস্য খামার ও জালাল হ্যাচারি স্বর্ণপদক লাভ করেছে। কিন্তু বর্তমানে মৎস্য অফিসে জনবল না থাকায় মাছ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই।

চাটিতলা গ্রামের চাষি বাছির বলেন, তিনি বর্তমানে ১৩০টি পুকুরে মাছ চাষ করছেন। কোনো পুকুরে মাছের রোগ দেখা দিলে বা সমস্যা হলে মৎস্য অফিসের কারো সহযোগিতা পাওয়া যায় না। অফিসে সেবা নিতে গেলে জনবল সংকটের কথা বলা হয়। পরে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মাছের চিকিৎসা সেবা নিই।

নাঙ্গলকোট মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা দেশ রূপান্তরকে জানান, গত এক বছর ধরে তিনি ও তার এক অফিস সহকারী কার্যক্রম  চালাচ্ছেন। সেই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে সরকারি সকল প্রণোদনা।

তিনি বলেন, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১৭ জন মানুষ কাজ করত। চুক্তি শেষ হওয়ায় তাদের চাকরি চলে গেছে।  বর্তমানে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা, ক্ষেত্র সহকারী ও অফিস সহায়কের পদ শূন্য রয়েছে। তাছাড়াও দপ্তর আঙ্গিনায় মৎস্য খামার থাকায় একজন পাহারাদারের প্রয়োজনও রয়েছে। দীর্ঘদিন এসব পদে লোকবল না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে অসুবিধা হওয়ার কথা স্বীকার করেন গোলাম মোস্তফা।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের অধিদপ্তরে জনবল সংকট থাকায় ওখানে জনবল দিতে পারছি না। কিছু পদে নিয়োগ পরীক্ষায় চলছে, যা সম্পন্ন হলে জনবল দেওয়া যাবে। আর গত এক বছর ধরে কুমিল্লা জেলাতেই কোনো প্রণোদনা নেই।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত