যেমন কর্ম তেমন ফল

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৩, ১২:২৯ পিএম

কর্মের ওপর মানুষের পরিণতি নির্ভর করে। ভালো করলে ভালো পরিণতি আর মন্দ করলে মন্দ পরিণতি তাকে ভোগ করতে হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘কেউ ভালো কিছু করলে তা তার জন্যই কল্যাণকর হবে এবং কেউ মন্দ কিছু করলে তা তার ওপরই বর্তাবে।’-সুরা বাকারা : ২৮৬

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা যদি ভালো করো তবে নিজেদের জন্যই ভালো করবে আর যদি মন্দ করো তাও নিজেদের জন্যই করবে।’-সুরা ইসরা : ৭

সুতরাং আপনি কাউকে কষ্ট দেবেন আর নিজে কষ্টে পড়বেন না- সেটা ভাববেন না! কাউকে ঠকাবেন আর নিজে ঠকবেন না- এটাও হতে পারে না! কারও ক্ষতি করলে নিজের ক্ষতি সামাল দেওয়ার অপেক্ষায় থাকুন! কারণ আপনি আমি নিষ্ঠা হারাতে পারি কিন্তু আমাদের মনিব কখনো ইনসাফহারা হন না। আমরা জালেম হতে পারি কিন্তু আমাদের মালিক জালেম নন। তিনি ন্যায়বিচারক। তিনি আমাদের ওপর খুব সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। কে কোন নিয়তে কাজ করছে তা তিনি জানেন। তিনি অন্তর্যামী। কে কার ক্ষতি করছে কেউ না দেখলেও তিনি দেখেন। কারণ তিনি সর্বদ্রষ্টা। কানকথা, গোপনবার্তা, ইশারা-ইঙ্গিত সবই তিনি বুঝেন ও শুনেন। তিনিই সর্বশ্রোতা। সুতরাং তার দেখা, শোনা ও জানার বাইরে কোনো কিছুই নেই। এজন্যই তিনি ইনসাফপূর্ণভাবে সবকিছুর ফলাফল প্রদান করেন। প্রত্যেককে তার কর্মের উপযুক্ত বিনিময় দান করেন। সেটা দুনিয়াতেও দেন আখেরাতেও দেবেন। দুনিয়ায় ফলাফল দানের ক্ষেত্রে কর্মের অনুরূপ দেন কিংবা আর্থিক অথবা দৈহিক ক্ষতি করে বদলা নেন। ‘তিনিই পরাক্রমশালী, দ-দাতা।’-সুরা আলে ইমরান : ৪

সুতরাং আপনি কারও ইজ্জত নষ্ট করেছেন- আপনার ইজ্জতও কেউ না কেউ নষ্ট করবে! কারও মা-বোন-স্ত্রী-কন্যার শ্লীলতাহানি করেছেন- অপেক্ষা করুন সেটা আপনার পরিবারের ক্ষেত্রেও ঘটবে! কারও উন্নতি দেখে সহ্য হচ্ছে না, তার অবনতির জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন- অপেক্ষায় থাকুন আপনার জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করতেও আরেকজন প্রস্তুত! ক্ষমতার দাপটে কিংবা অর্থ ও গায়ের বলে কাউকে কষ্ট দিচ্ছেন- সে কষ্ট আপনার ভাগেও আছে! এভাবে যত মন্দকাজ হতে পারে সব কাজের একটা প্রতিরূপ আপনার জীবনেও থাকবে আর লাঞ্ছনা-গঞ্জনা ও পেরেশানি তো থাকবেই। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর যারা মন্দ উপার্জন করবে, প্রতিটি মন্দের প্রতিদান হবে তারই অনুরূপ (মন্দ দিয়ে)। আর তাদের আচ্ছন্ন করবে লাঞ্ছনা-গঞ্জনা (দুনিয়া ও আখেরাতে)।’ -সুরা ইউনুস : ২৭

পৃথিবীতে ঘুরেফিরে সবকিছু স্বস্থানেই ফিরে আসে! এমনকি কাউকে অন্যায়ভাবে কোনো গালি বা অভিশাপ দিলে সেটিও বুমেরাং হয়ে নিজের দিকেই আসে। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যখন বান্দা কাউকে অভিশাপ দেয় তখন তা আকাশে উড়ে যায়। কিন্তু আকাশের দরজা এর জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে তা আর ওপরে যেতে পারে না। ফিরে আসে জমিনের দিকে। কিন্তু সেখানেও বাধা পায়। অবশেষে যাকে অভিশাপ দেওয়া হয় সে এর যোগ্য হলে তার ওপর পতিত হয় নতুবা ঘুরেফিরে অভিশাপকারীর ওপরই পতিত হয়।’ -সুনানে আবু দাউদ : ৮৯০৭

এতো গেল মন্দ কর্মের দুনিয়ার ফলাফলের কথা পরকালের শাস্তি তো আছেই। এমনিভাবে আপনি কারও দুর্দিনে পাশে দাঁড়িয়েছেন- তো আপনার দুর্দিনেও মানুষ পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত! কাউকে খুশি করেছেন- তো আপনিও আনন্দের সংবাদ শোনার অপেক্ষায় থাকতে পারেন! কারও জীবন সুখময় করেছেন- আপনার জীবনও সুখের হবে। কারণ ভালো কাজ যারা করে তাদের দুনিয়া ও আখেরাত উভয়টি আল্লাহতায়ালা সুন্দর করে দেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিন নারী-পুরুষের মধ্যে যারা সৎকাজ করে আমি তাদের (দুনিয়া ও আখেরাতে) আনন্দময় জীবন দেব আর কর্মের চেয়ে উত্তম পুরস্কার দেব।’-সুরা নাহল : ৯৭ 

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘উত্তম কাজের প্রতিদান উত্তম ছাড়া আর কী হতে পারে?’ -সুরা আর রাহমান : ৬০

শুধু তাই নয়, ভালোকাজ করে যারা পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় তাদের অনেক কর্মের সুফল তারা নিজেরাও কবর জগতে ভোগ করতে থাকে এবং বংশ পরম্পরায় তাদের সন্তানরাও ভোগ করতে থাকে। সুরা কাহাফের ৮২ নম্বর এমনই একটি ঘটনার বিবরণ আছে। সুতরাং জীবনে করতে হলে ভালো কিছু করা উচিত। তা সম্ভব না হলে মন্দকাজ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। কারণ মন্দকাজ থেকে বেঁচে থাকা ভালো কাজ করা অপেক্ষা শ্রেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত