গত ১ অক্টোবর দেশ রূপান্তরে ‘হাওরের বুকে শিল্পের থাবা’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ এবং পরদিন এ বিষয়ে ‘শিল্পগ্রাসে হাওর বিনাশ’ শিরোনামে প্রকাশিত সম্পাদকীয়ের প্রতিবাদ জানিয়েছে শিল্প গ্রুপ কাজী ফার্মস।
গত ১৮ নভেম্বর শিল্প গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসানের স্বাক্ষরে পাঠানো প্রতিবাদলিপিতে সংবাদ ও সম্পাদকীয়তে ভুল তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের পক্ষ থেকে কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনের এক জায়গায় গুঙ্গিয়াজুরী হাওরের জায়গায় মুরগির ফার্মটি তৈরির কথা বলা হয়েছে। আরেক জায়গায় বলা হয়েছে, বাহুবলের স্নানঘাট সদর ইউনিয়ন বাজারের অদূরে হাওরের নিচু জমিতে গড়ে তুলেছে মুরগির ডিম ও কমপোস্ট সার উৎপাদন কেন্দ্র। দুটি ক্ষেত্রেই ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। কোনো হাওরের জায়গায় কাজী ফার্মসের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির কেনা জমি ভূমি রেকর্ড অনুযায়ী জলাশয় বা হাওর শ্রেণিভুক্ত নয়, বরং আমন বা কৃষিজমি শ্রেণিভুক্ত।
প্রতিষ্ঠানটি যে সড়কের পাশে অবস্থিত সে সড়কটির বিষয়ে প্রতিবাদলিপিতে কাজী ফার্মস ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, ‘দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়নি, এটি একটি সরকারি অল ওয়েদার বিটুমিনাস পাকা রাস্তা। আমরা সবাই অবগত আছি যে, সরকার হাওর অঞ্চলে নিচু সাব-মার্সিবল আরসিসি সড়ক নির্মাণ করে থাকে, কখনো বিটুমিনাস সড়ক নির্মাণ করে না। কখনই উঁচু বিটুমিনাস রাস্তা নির্মাণ করে না। সরকারি ভূমি রেকর্ড ও ভূমির অবস্থান অনুযায়ী আমাদের প্রতিষ্ঠানটি কোনোক্রমেই হাওরে অবস্থিত নয়।’
কাজী ফার্মসের প্রতিষ্ঠানটি যে জমিতে গড়ে উঠেছে সেখানে আগে বোরো বা আমন ধান উৎপাদিত হতো এবং এটি কৃষিজমির অন্তর্ভুক্ত প্রতিবেদনের এই তথ্যের ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, ‘এই জমিতে আগে বছরে মাত্র ৫০ টন ধান উৎপাদন হতো, কিন্তু বর্তমানে এখানে ৩০ কোটির ওপরে ডিম উৎপাদন হয়।’ আরও বলা হয়েছে, খামারটি কৃষি শ্রেণির আওতায় পড়ে। কারণ পোলট্রি খামার কৃষি শ্রেণিভুক্ত। এ কারণে জমিটির শ্রেণি পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন হয়নি।
প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়েছে, ফার্ম থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর যে কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে তা সত্য নয়।
প্রতিবেদকের বক্তব্য : কাজী ফার্মসের প্রতিষ্ঠানটি যে হাওর এলাকার জমিতে প্রতিষ্ঠিত তা স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও কাজী ফার্মসের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। আর প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সম্পাদকীয় হওয়ায় একই তথ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে; যা সংবাদপত্রের প্রচলিত অনুশীলনের অংশ।
