২০ কোটি টাকায় বাবা-মেয়ের আ.লীগের মনোনয়ন টোপ

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:১৩ এএম

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের টার্গেট করে ফাঁদ পেতেছিলেন বাবা- মেয়ে। গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে তারা মনোনয়নপ্রত্যাশী বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোন করে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করছিলেন। কয়েকজনের কাছ থেকে অল্প কিছু টাকাও নিয়েছেন তারা। তবে বর্তমান সংসদ সদস্য ও দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে ‘মনোনয়ন নিশ্চিত করার’ আশ্বাস দিয়ে ২০ কোটি টাকা দাবি করার পর পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন তারা। গত বৃহস্পতিবার নোয়াখালী থেকে বাবা মোহাম্মদ ইয়াসিন ও মেয়ে সুমাইয়া ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে প্রতারণার বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন তারা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান ডিএমপির ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি জানান, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মোবাইল নম্বর জোগাড় করে ২০ কোটি টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলতেন তারা। বিশ্বাস তৈরির জন্য ব্যবহার করতেন একটি বিশেষ অ্যাপ। কল দিলেই মোবাইল ফোনে ভেসে উঠত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির নাম ও ছবি। হারুন অর রশীদ বলেন, সম্প্রতি একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থী ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীকে ফোনে কল করেন এই প্রতারকেরা। বাবা-মেয়ে তাকে বলেন, ‘আপনার মনোনয়নের বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। আপনি দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাবেন। এ জন্য দলের ফান্ডে আপনাকে ২০ কোটি টাকা দিতে হবে। আপনি এই টাকা রেডি রাখবেন। যখন জমা দিতে বলা হবে, তখন দেবেন। আর অল্প সময়ের মধ্যে আপনি দেখা করবেন।

মনোনয়নপ্রত্যাশী ওই নেতা পরে আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতাকে বিষয়টি জানান। এটি প্রতারণা বুঝতে পেরে তখন তিনি ডিবিতে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারক বাবা ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান বলেন, ‘একেক সময়ে প্রতারণার একেকটি মৌসুম থাকে। আগে চাকরি, পোস্টিং, বিদেশে লোক পাঠানোসহ বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে অনেককে সর্বস্বান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে চলছে মনোনয়ন প্রতারণা। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পরেই নির্বাচন ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এসব প্রতারক। অনেকেই তাদের ফাঁদে পা দিয়ে কিছু টাকাও দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ টাকা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। টাকা না দিয়ে অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, সঙ্গে সঙ্গেই আমরা প্রতারকদের গ্রেপ্তার করেছি। তাদের রিমান্ডে এনে কারা জড়িত, সেটা জানার চেষ্টা চলছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত